Agaminews
Agaminews Banner

শেবাচিমে করোনা পরীক্ষা চলছে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে, নেই সরকারি লোকবল 


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ২১, ২০২১ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ শেবাচিমে করোনা পরীক্ষা চলছে স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে, নেই সরকারি লোকবল 
শফিক মুন্সি ॥
বরিশাল বিভাগের একমাত্র করোনার নমুনা পরীক্ষাগার শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম)। কিন্তু মাত্র চারজন স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে চলছে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম। বর্তমানে নেই কোন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী। যে ছিলো সেও টানা দুই মাস কাজ করার পর আর আসেনি। তবে কোনো সুযোগ সুবিধা ছাড়াই গতবছর থেকে চারজন স্বেচ্ছাসেবক এই কাজ করলেও এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো ধরণের সহযোগিতা করেনি। প্রশাসন জানিয়েছে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা হবে। গত বছরের (২০২০) মার্চ মাস থেকে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন হাসপাতালের নিয়োগকৃত টেকনোলজিস্ট বিভূতি ভূষণ এবং তার সহযোগি বায়জিদ।  টানা দুই মাস নমুনা সংগ্রহের পর বিশ্রামে পাঠানো হয় বিভূতিকে। এরপর থেকে নমুনা সংগ্রহে কাজ শুরু করে  পাঁচ স্বেচ্ছাসেবক। কিছুদিন পর একজন চলে গেলেও গতবছরের জুন মাস থেকে টানা কাজ করে আসছে মো: হোসেন, শাকিল আহমেদ, প্রিন্স মুন্সী এবং মিরাজুল হক নামের চার স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।বর্তমানে তাদের দাবি, কাজের বিনিময়ে অন্তত প্রাপ্য সম্মানটুকু তাদের দিক সরকার। এই চার স্বেচ্ছাসেবকদের একজন শাকিল আহমেদ। তিনি বলেন, প্রায় এক বছর যাবৎ বিনা বেতনে নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন তারা। এরমধ্যে একদিনের জন্য ছুটিও পান নি।গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি নমুনা সংগ্রহ করতে হয় তাদের। সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে এই সংখ্যা বেড়ে যায় আরো বেশি। এই কাজ করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকদের প্রায় সবাই। তবে এত ত্যাগের বিনিময়ে সরকারি কোন সহায়তা, প্রণোদনা বা ঝুঁকি ভাতার আওতায় আসতে পারে নি কেউ। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নমুনা সংগ্রহে বা করোনা রোগীদের সেবায় যে স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন তাদের উপযুক্ত মর্যাদা দেয়া এবং তাদেরকে বেতন কাঠামোতে আনা উচিৎ বলে মনে করছেন। শেবাচিম ইনডোর ডক্টরস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা: সুদীপ হালদার বলেন,স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে যারা করোনার নমুনা সংগ্রহ করছে তারা সত্যিকারে করোনাযোদ্ধা। দক্ষ এসব যোদ্ধাদের আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে নিয়োগ এবং বেতন কাঠামোর আওতায় আনা উচিত। তাতে করে হাসপাতালের জন্যই ভালো হবে। তবে এই স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানজনক সনদ দেয়ার কথা জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শেবাচিমের নবনিযুক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান,জনবল সংকটের কারণে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন টেকনোলজিস্ট দ্বারা নমুনা সংগ্রহ করানো যাচ্ছে না।  যারা জীবনের মায়া ত্যাগ করে এতদিন যাবৎ নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের সহযোগিতা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ঋণী করেছে। এই ঋণ শোধ করা না গেলেও আমরা এই স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানজনক সনদ দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদিকে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার জানান, বেতন কাঠামোর মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীদের না আনা গেলে তারা কাজ করতে পারবে না। প্রশাসন চায় না বিভাগের একমাত্র করোনা পরীক্ষাগারের কার্যক্রম থমকে যাক।তাই বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।