Agaminews
Agaminews Banner

প্রতিবার জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় কৃষকের কপাল


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ১৬, ২০২১ ১:২৬ অপরাহ্ণ প্রতিবার জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় কৃষকের কপাল
বার্তা ডেস্ক ॥
লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরে মেঘনা নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের নোনাপানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল। জোয়ার এলেই তলিয়ে যায় ফসলের মাঠ। প্রতিবার জোয়ারের সঙ্গে সঙ্গে ভেসে যায় কৃষকের কপাল। সম্প্রতি অস্বাভাবিক জোয়ারে প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত হয়ে রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার প্রভাবে জোয়ারে এখানকার কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। অব্যাহত জোয়ারে ফসল ডুবে-পচে লোকসানে পড়েন স্থানীয় কৃষকরা। বছরের সব মৌসুমেই জোয়ারের নোনাপানিতে ফসল হানি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রামগতি ও কমলনগরে মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি করছেন কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি মেঘনা নদীর জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে আড়াই থেকে তিন ফুট বেড়ে যায়। এতে উপজেলার চর আলেকজান্ডার, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজী চরআবদুল্লাহ ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী এলাকাগুলো পাঁচ দিন ধরে পানিতে তলিয়ে ছিল। একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কমলনগরের মেঘনা তীরবর্তী এলাকাতেও। এখানকার জোয়ারের নোনাপানিতে হাজার হাজার হেক্টর রবিশস্য তলিয়ে গিয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সয়াবিন, মরিচ, বাদাম, মুগডাল, গম, ঢেঁড়স ও মিষ্টি আলুসহ বিভিন্ন ফসল হারিয়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। রামগতির চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজীর কৃষকরা জানান, রবিশস্য উৎপাদনের জন্য আবহাওয়া অনুকূলে থাকলেও মেঘনা নদীর জোয়ারের কারণে তাদের সর্বনাশ হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছেন কিন্তু জোয়ার তাদের সব স্বপ্ন ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। নদীর তীরে বেড়ি বাঁধ থাকলে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না বলে দাবি করছেন কৃষকরা। একই কথা বলেছেন উপজেলার চরআলেকজান্ডার, চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী ও চরগাজী এলাকার কৃষকরা। চর আবদুল্লাহ ইউনিয়নের কৃষক আবুল কাসেম জানান জোয়ারের নোনাপানিতে তার মরিচ ক্ষেতের প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ ভাগ গাছে পচন ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাদাম, সয়াবিন ও ডালসহ অন্যান্য রবি ফসলের। এমন ক্ষতির মুখে পড়েছেন রামগতি ও কমলনগরের শত শত কৃষক। কৃষক আজাদ উদ্দিন জানান, নদীর তীরে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ার এলেই পানিতে ফসল ডুবে যায়। এবার মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পাঁচ একর জমিতে মরিচ, সয়াবিন, গমসহ বিভিন্ন রবিশস্যের আবাদ করেছেন। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই পূর্ণিমার প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ওইসব ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়। চর আবদুল্লাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন জানান, চর আবদুল্লাহর চারদিকে কোনো বেড়িবাঁধ নেই; যে কারণে জোয়ার এলে সব পানির নিচে ডুবে যায়। এতে নষ্ট হয় কৃষকের স্বপ্নের ফসল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেনার চাপ বয়ে বেড়ান স্থানীয় শত শত কৃষক। মহাজনের দেনার দায়ে এখানকার কৃষকরা এখন দিশেহারা। চরআলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন চৌধুরী জানান, বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়নের কয়েকশ’ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। বছরের সব মৌসুমেই এখানে জোয়ার অব্যাহত থাকে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার সরকার বলেন, মেঘনা নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে চর আবদুল্লাহ, চর আলেকজান্ডার চরআলগী, চররমিজ, বড়খেরী, চরগাজীতে জোয়ারের নোনাপানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন। রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল মোমিন বলেন, বেশ কিছু এলাকায় বেড়িবাঁধ না থাকায় এবং চরগাজী এলাকায় স্লুইস গেট অকেজো হওয়ায় জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।