Agaminews
Agaminews Banner

শিশুটির মৃত্যুর দায় কে নেবে ?


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: জানুয়ারি ০৫, ২০২২ ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ শিশুটির মৃত্যুর দায় কে নেবে ?

মো: ফিরোজ গাজী :
বুঝতে পারছিলাম না কিভাবে শুরু করবো, কি দিয়ে শুরু করবো। কারণ সাধারণত এরকম কোনো ঘটনার ব্যাপারে কখনও লেখা বা মন্তব্য করা হয়নি। সম্প্রতি একটি সংবাদে আমার চোখ আটকে যায়। ঘটনার মূল চরিত্র একটি ছোট্ট শিশু। নাম তার উমায়ের। জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত শিশুটি। ঘটনার দিন ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’র রাত। একজন বাবার অসহায়ত্বের আত্মপ্রকাশের রাত। আর আমাদের কিঞ্চিত ভার্চ্যুয়াল প্রতিবাদ। ব্যাস এটুকুই।

আমরা গর্বিত বাঙালি। কোনো বিশেষ দিন বা বিশেষ দিবসে আনন্দ-উৎসব করা বাঙালি জাতির একটি স্বাভাবিক সংস্কৃতি। কিন্তু সেই উৎসব যদি হয় কোনো মৃত্যুর কারণ, তাহলে এ মৃত্যুর দায় কে নেবে?। পৃথিবীতে একজন বাবার সামনে থেকে তার সন্তান চলে যাওয়ার কষ্ট শুধু সেই বুঝতে পারে যে স্বজন হারায়। হোক সে পিতা, মাতা, ভাই-বোন কিংবা সন্তান। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়ায় হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত ছোট্ট শিশু উমায়েরের পিতার একটি ফেসবুক পোষ্ট ভাইরাল হয়েছে।

শিশুটির মৃত্যু নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নিন্দা, প্রতিবাদ ও সমালোচনার ঝড়। আমি নিদৃষ্ট করে বলছি না যে এই মৃত্যুর জন্য এই উৎসবই দায়ী, তবে এই মৃত্যুর সাথে উৎসবের সম্পৃক্ততা অবশ্যই আছে। কেননা মৃত্যু হওয়া ছেলেটির বাবা বলেছে, ‘সত্যিই অতিরিক্ত শব্দের কারণেই আমার ছেলের হার্টফেল হয়েছিল কি না, আমরা তা বলতে পারব না। তবে সেই বিকট শব্দের কারণে বার বার কাঁপতে থাকা ছেলেটির সেই মুহূর্তের চেহারা কিছুতেই ভুলতে পারছি না। শুধু মনে হচ্ছে, আতশবাজির শব্দে আমার বাচ্চাটার অনেক কষ্ট হয়েছে, আমরা তার কষ্ট কমাতে পারিনি। আমরা কাউকে বলতে পারিনি, ভাই আপনারা বাজি ফোটাবেন না, আমার বাবুটা কষ্ট পাচ্ছে।’

তিনি সেদিন ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন “কি বিকট শব্দে আতশবাজি। আমার ছোট বাচ্চাটি এমনিতেই হার্টের রোগী। আতশবাজির প্রচণ্ড শব্দে শিশু বাচ্চাটি আমার ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে ওঠে। খুব ভয় পাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। খুবই আতঙ্কের মধ্য দিয়ে সময়টা পার করছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সন্তানদেরকে বুঝ দান করুক। দোয়া করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

তিনি আরও জানান, ওইদিন সারা রাত তারা ঘুমাতে পারেনি। সকাল থেকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এবং শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এঘটনার পরে সোস্যাল মিডিয়ায় চলছে পটকা-আতশবাজি ফাটানো নিয়ে নানা সমালোচনা। উঠছে নিষিদ্ধের দাবিও। তবে এইটুকু ভার্চ্যুয়াল প্রতিবাদ করেই কি আমাদের দায়িত্ব শেষ ?। একজন নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদানে সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে।

পৃথীবির সকল পিতাই চাইবে তার সন্তানের প্রশান্তির নিদ্রা। যে বা যারা এই আতশ বাজি ফুটিয়েছে বা ফাটিয়েছে তারাও কারো না কারো পিতা, তাদের ঘরে কোন না কোনো সন্তান আছে। এই পিতাদের হৃদয়ে কি একটুও নাড়া দেইনি বা বিবেকবোধ জাগ্রত হয়নি যে এত রাতে কেনো শুধু শুধু সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছি? হয়তবা দেয়নি। দিলেতো এই কাজ করতো না।

এদিকে একই দিনে ফানুস উড়াতে গিয়ে রাজধানীর ১২ স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ ছাপা হয়েছে। যদিও সেখানে কোনো হতা-হতের ঘটনা ঘটেনি বলে জেনেছি। কিন্তু ঘটতে কতক্ষণ?। এ সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে অপারাধীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দিলে হয়ত এহেন কর্মকাণ্ড কিছু লাঘব হতে পারে বলে মনে করছে সর্বমহলের সচেতন নাগরিকরা।

-যুগ্ম বার্তা সম্পাদক
দৈনিক আজকের বার্তা।