Agaminews
Agaminews Banner

শতবর্ষের আলোর নিচে অন্ধকার


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: ডিসেম্বর ০৪, ২০২১ ১২:৪৬ অপরাহ্ণ শতবর্ষের আলোর নিচে অন্ধকার

নিউজ ডেস্ক:

শতবর্ষ পূর্ণতার লগ্নে এসেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান যে আঁধারে ছিল, সেই আঁধারেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধান সঙ্কট গণরুম থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। সেইসঙ্গে আবাসন প্রকল্পের উন্নয়ন না করে গণরুম সংস্কৃতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ পূর্ণ করেছে। শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে গবেষণা, আইটি উন্নয়নসহ বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। গত ১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শতবর্ষপূর্তি উৎসবের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।

শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, কলা ভবন, ভিসির বাসভবন, প্রশাসনিক ভাবন, মল চত্বর, সবুজ চত্বর, আবাসিক হল এবং অভ্যন্তরীণ সড়কে পাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আলোক সজ্জা শোভা। ‘শতবর্ষের আলোয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আলোক বাক্স ও রঙিন প্ল্যাকার্ডে উৎসবের আমেজ বইছে পুরো ক্যাম্পাসে।

শিক্ষার্থীরা শতবর্ষের অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন। বিভিন্ন জায়গায় প্রিয় মানুষ, বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরছেন। স্মৃতি ধরে রাখতে বন্দি হচ্ছেন ক্যামেরার ফ্রেমে। তবে এতো আনন্দের মধ্যে রয়েছে আক্ষেপও। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে ক্ষোভ।

শিক্ষার্থীদের অনেকে বলছেন, শতবর্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শুরুর কয়েক দশকে যে তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা শুরু করেছিল, তা ধরে রাখতে পারেনি। অতীত ঐতিহ্যে ভর করে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

খোদ শিক্ষামন্ত্রী শতবর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ‘আজ শতবর্ষের এই উৎসবের ক্ষণে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে, জোর দিতে হচ্ছে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের দিকে। শুরুর এক দশকের মধ্যে যেভাবে সারা বিশ্বের দরবারে যে সুনাম অর্জন করেছেন। দুঃখজনক হলেও সত্যি সে অগ্রযাত্রার গতি নানা কারণে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। সে কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার কথা ভাবতে হচ্ছে।’

অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখছেন, প্রতিষ্ঠার ১০০ বছরে এসেও প্রতিষ্ঠানটি গণরুম সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। সুষ্ঠু, সুন্দর শিক্ষা ও গবোষণার পরিবেশ তৈরি হয়নি। করোনা মহামারীতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকা অবস্থায় হলে নতুন ভবন তৈরি করে সিট সঙ্কট কমাতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু এখানে এসে স্বপ্নভঙ্গ শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিজয় একাত্তর হলের গণরুমের এক শিক্ষার্থী বলেন, করোনা মহামারীর পরে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ গণরুম সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পদক্ষেপ নিলে আমাদের আশা ছিল, শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেবে। কিন্তু তা আমরা দেখতে পাচ্ছি না। শতবর্ষে বাইরে ঝলমলে আলো জ্বললেও রাতে ঘুমাতে আসার আগে ঘুমানোর জায়গা নিয়ে প্রতিনিয়ত ভাবতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত প্রোগ্রাম আর গেস্টরুম তো আছেই।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সঙ্কট, নিরাপদ ক্যাম্পাস, ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নের মতো শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি কতৃপক্ষ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সমস্যা সমাধানে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যার সামধান হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান শান্ত বলেন, ঢাবি শতবর্ষ আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। তবে প্রত্যাশার অপূর্ণতা আর সঙ্কট ভোগান্তিতেই শতবর্ষ পালন করছি। শতবর্ষ পার করলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, নিরাপদ ক্যাম্পাস, মানসম্মত খাবার এবং মৌলিক সমস্যাগুলোর সমাধান করতে ব্যর্থ হয়েছে ঢাবি। এসব সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও দেখা যায়নি। তবুও ঢাবি আমার ভালোবাসা, আমার আশা আকাঙ্খার প্রতীক। শিক্ষার্থীদের এস সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

জগন্নাথ হলের শিক্ষার্থী অর্ণব প্রসাদ কাজ্জী বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষের মেধা, মনন, বোধের উন্মোচন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিঃসন্দেহে বিশ্বকে কুর্ণিশ জানায়। তবে এতো অর্জনের মধ্যেও শতবর্ষের লগ্নে আমাদের প্রধান ব্যর্থতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে না পারা। এছাড়া আরো একটি সমস্যা যা দিনকে দিন প্রকট হচ্ছে তা হলো, হলের ক্যান্টিনগুলোতে মানসম্মত ও সুষম খাবার সরবাহ না করা। এছাড়া নিরাপদ ক্যাম্পাসের চ্যালেঞ্জটি প্রতিনিয়ত আরো বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।