Agaminews
Agaminews Banner

গরীবের বাজারেও ভীড় সামলানো দায়


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: মে ১০, ২০২১ ৫:০২ অপরাহ্ণ গরীবের বাজারেও ভীড় সামলানো দায়

শফিক মুন্সি ॥
রাবেয়া খাতুন বরিশাল নগরীর সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলের একজন শ্রমিক। গতকাল সোমবার বেলা তিনটার দিকে সিটি কর্পোরেশন এর সম্মুখে জামা কাপড়ের ভ্যান থেকে বাচ্চাদের জন্য নতুন জামা কিনছিলেন। তাঁর সঙ্গে আছেন আরেক নারী সহকর্মী। তবে দুজনের মুখেই ছিল না মাস্ক। দোকানীর সঙ্গে দরদাম করতে করতে একপ্রকার ক্লান্ত হয়ে সড়ে এলেন ভ্যান থেকে। অন্যত্র যাবার জন্য হাঁটা শুরু করতেই পিছন থেকে ডাক দেন বিক্রেতা। পছন্দের পণ্য পলিথিনে করে নিয়ে চলে যাবার সময় কথা হয় এই প্রতিবেদকের সঙ্গে। রাবেয়া বলেন, ‘ বছরে একবারই সন্তানদের জন্য নতুন জামা কাপড় কেনার উপলক্ষ আসে৷ তাই আর্থিক সমস্যায় থাকলেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে এখানে আসতে হয়েছে ‘। মুখে মাস্ক নেই কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বারবার করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী কিনে টাকা খরচ করার মতো অবস্থা নেই তাঁর৷ মাত্র দুদিন পরেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদকে সামনে রেখে বরিশাল নগরী জুড়ে ভাসমান জামা কাপড়ের দোকানগুলোতেও ভীড় লেগেছে চোখে পরার মতো। সাধারণত এসব দোকান থেকে স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা তাদের পছন্দের চাহিদা মেটায়। করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এ ধরণের চিত্র ভয়াবহ হিসেবেই ঠেকছে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। মূলত সচেতনতার অভাবই এমন দৃশ্যের অবতারণা করেছে বলে জানা গেছে। বরিশাল নগরীর চকবাজার, সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের সম্মুখে এবং কাঠপট্টি এলাকায় মূলত ভাসমান জামা কাপড়ের দোকানগুলো চোখে পরে বেশি। গতকাল সোমবার কয়েকদফা এই এলাকায় গুলোতে গিয়ে ভীড়ের সম্মুখীন হতে হয়েছে এই প্রতিবেদককে। দরদাম হাঁকিয়ে কেনাবেচার ঢল পরেছিল যেন সেখানে। তবে এসব ব্যস্ততার মাঝে ক্রেতা – বিক্রেতা প্রায় সবাই উপেক্ষা করছিল করোনার স্বাস্থ্য বিধি। এ ব্যাপারে আলাপকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ ম-ল বলেন, চলমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে এমন অবস্থা কাম্য নয়। এটা রোধ করা না গেলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় নগরে প্রতিদিন দুটি, কোনো কোনো দিন তারও বেশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে জেলা প্রশাসন। প্রতিদিনই নানাভাবে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নানা ধরনের জরিমানা করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে জনসাধারণের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।