Agaminews
Agaminews Banner

লকডাউন ভেঙে খাদ্য সহায়তার  দাবিতে অভিনব রিকশা মিছিল


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ১৭, ২০২১ ৫:৪৮ অপরাহ্ণ লকডাউন ভেঙে খাদ্য সহায়তার  দাবিতে অভিনব রিকশা মিছিল
শফিক মুন্সি ॥
চলমান লকডাউনে রিকশা নিয়ে বের হলেই প্রশাসনের বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু রিকশার চাকা না ঘুরলে জ্বলছে না চুলার আগুন। তাই বাধ্য হয়ে লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে রিকশা নিয়ে মিছিল করেছে কয়েকশত রিকশার চালক ও শ্রমিকেরা। তাদের দাবি, যদি লকডাউনে ঘরবন্দী থাকতে হয় তবে অন্তত জরুরী খাদ্য সহায়তা দিক সরকার। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার  সদস্যসচিব ডা. মনীষা চক্রবর্ত্তীর নেতৃত্বে বাসদ, রিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফ্রন্ট গতকাল শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় বরিশাল নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যান থেকে এই মিছিল বের হয়। কয়েক’শ রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক নিয়ে শ্রমিকরা নগরীর রাজা বাহাদুর সড়ক, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়ক, অমৃত লাল দে সড়ক, সিঅ্যান্ডবি রোডসহ নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অশ্বিনী কুমার (টাউন) হলের সামনে এসে মিছিল শেষ করে। মিছিলকালে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দেয় এবং প্ল্যাকার্ড বহন করে। কয়েকজন শ্রমিক ও নেতা-কর্মী বলেন, আগের বছর লকডাউনের সময় তাদের জমানো টাকা ছিল। তা ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে সহায়তাও পাওয়া গেছে। এ বছর তাদের কাছে কোনো সঞ্চয় নেই। এক দিন রাস্তায় না বেরুলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে। অথচ কাজে বের হলেই প্রশাসন নানাভাবে তাদের হয়রানি করে। তাই সরকারের প্রতি দাবি, আগে খাবার তারপর লকডাউন কার্যকর করুন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। এদিকে ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী বলেন, চলমান লকডাউনে আর্থিকভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সমাজের নিম্ন – স্বল্প আয়ের দিনমজুর মানুষেরা। সাধারণত রিকশা ও অটোচালকেরা দিন এনে দিন খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।কিন্তু বর্তমান লকডাউনে রাস্তায় বেরুতে না পারলে তাদের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পরেছে।এমতাবস্থায় আমরা চাই,সরকার এসব মানুষদের তালিকা করে জরুরী আর্থিক ও রেশনিং ব্যবস্থায় খাদ্য সহায়তা দিক। তবে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার আজকের বার্তাকে বলেন, লকডাউনে দিন আনে দিন খায় এমন যারা সমস্যায় পরেছে তাদের পাশে আছে সরকার। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এলাকায় যাদের জরুরী খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন তারা স্থানীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন। নগরীর বাইরে উপজেলা প্রশাসন অসহায় মানুষদের সাহায্য করবে।