Agaminews
Agaminews Banner

দুই যুগ পর একটানা দাবদাহের রেকর্ড বরিশালে


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২১ ৫:৫৯ অপরাহ্ণ দুই যুগ পর একটানা দাবদাহের রেকর্ড বরিশালে
শফিক মুন্সি ॥
আবহাওয়াবিদদের মতে পরিবেশে উষ্ণতার পারদ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁলেই মাঝারি মাত্রার দাবদাহ শুরু হয়। বরিশালের তাপমাত্রা গত পাঁচদিন যাবৎ ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে। সর্বশেষ হিসেব মতে, গত দুই যুগে একটানা এতটা গরম অনুভব করেনি এ অঞ্চলের মানুষ। তবে এমন পরিস্থিতির পিছনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়াকে দায়ী করলেন পরিবেশবিদেরা।আর পরিবেশের এমন উত্তাপ জনজীবন বিপর্যস্ত করার সাথে সাথে বাড়িয়েছে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা।এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সামাজিক ও পারিবারিক বনায়নের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জেষ্ঠ পর্যবেক্ষক প্রণব কুমার জানান, গত শনিবার থেকেই তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যায় বরিশালে।  রোববার বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা বিগত ৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।পরদিন সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল বুধবার আকাশে কিছুটা মেঘের উপস্থিতি থাকায় গরম কিছুটা কমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরো বলেন,তাপমাত্রা  ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেই মাঝারি মাত্রার দাবদাহ শুরু হয় পরিবেশে। সে হিসেবে প্রায় সপ্তাহখানেক জুড়ে  দাবদাহের তীব্রতা অনুভব করছে বরিশালবাসী। এরআগে একটানা এতদিন যাবৎ দাবদাহে ভোগে নি এ অঞ্চলের মানুষ। টানা দু-তিনদিন মাঝারি মাত্রার দাবদাহের পরই বৃষ্টিপাত গরমের তীব্রতা কমিয়ে দিয়েছে। সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের এপ্রিল মাসে একটানা ৫ দিন মাঝারি মাত্রার দাবদাহে পুড়েছে বরিশাল। তবে এই পরিস্থিতি আরো কিছুদিন চলবে বলে শঙ্কা করছি।
এ ব্যাপারে আলাপকালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড.সুব্রত কুমার দাস জানান, পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম নিয়ামক হচ্ছে নির্দিষ্ট মাত্রার বৃক্ষরাজির উপস্থিতি এবং উষ্ণতা বৃদ্ধিতে দায়ী গ্যাস গুলোর অনুপস্থিতি। বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে আশেপাশের শ্যামলতা এবং গাছপালা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে অধিক শিল্পায়ন কার্বন ডাই অক্সাইড সহ পরিবেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারক গ্যাসের অতিমাত্রায় নিঃসরণ ঘটাচ্ছে। এই কারণগুলো মূলত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এমন দাবদাহ সৃষ্টির পিছনে দায়ী।
পরিবেশের এই সংকট মোকাবিলায় বেশি করে বৃক্ষ রোপণ এবং পরিকল্পনা মাফিক শিল্প কারখানা নির্মাণের ওপর জোর দেন ড.সুব্রত কুমার দাস। তিনি বলেন, একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনায়নের আওতায় থাকা দরকার। কিন্তু আমাদের দেশে এই পরিমাণ গাছপালা নেই। তাই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামাজিক ও পারিবারিক বনায়নে যুক্ত হতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প কারখানা নির্মাণের পূর্বে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুযায়ী কার্বন নিঃসরণের মানদ- বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে অতিরিক্ত গরমে বেড়েছে মৌসুমে রোগ বালাইয়ে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা.তানজিন হোসেন বলেন, অতিরিক্ত গরমে পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ফ্লু জাতীয় রোগবালাই বেশি হয়। তাই চলমান দাবদাহে বেশি বাইরে ঘোরাঘুরি করলে কিংবা খোলা – ভাজাপোড়া খাবার খেলে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দিকাশি সহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতা হিটস্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এসব অসুস্থতার পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।