Agaminews
Agaminews Banner

কোরিয়ার শ্রম বাজার সুরক্ষায় বার বার ঢাকাকে বার্তা


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৮, ২০২১ ৩:০২ অপরাহ্ণ কোরিয়ার শ্রম বাজার সুরক্ষায় বার বার ঢাকাকে বার্তা
বার্তা ডেস্ক ॥
কোরিয়ায় বাংলাদেশি শ্রম বাজার সুরক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম ও  বাংলাদেশ  দূতাবাস সিউল। দক্ষিণ কোরিয়া নানা  শিল্প কলকারখানায় প্রায় ১০  হাজার বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। সেখানকার শ্রম সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে বাংলাদেশের দূতাবাস সিউল। কোরিয়ায়  নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে । কোভিড  পরিস্থিতিতে গত বছর ২৩ জুন প্রথম বার কোরিয়ার  নিষেধাজ্ঞার পর  বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস শুরু থেকেই এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ শুরু করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে ফোনালাপকালে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর আরোপিত এ ভিসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বিশেষ অনুরোধ জানান। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি জেন কিউনের সাথে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধানের তাগিদ দেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনও। এদিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পুনরাবৃত্তি এড়াতে দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্য যেকোনো দেশে ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশি নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে স্বাস্থ্য ও ভ্রমনবিধি যথাযথভাবে মেনে চলার মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ করার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট মন্ত্রণালয়। উল্লেখ্য, গেল বছরের ফেব্রুয়ারিতে কোরিয়ায় যখন করোনার প্রভাব বাড়তে থাকে তখন নানা সমস্যার কারণে অনেকেই ছুটিতে করোনার ভয়ে পালিয়ে  গিয়ে নিজ দেশে আটকে পড়েন। তাদের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার। সে সময় দেশে আটকে পড়াদের ফেরাতে কোরিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম ও বাংলাদেশ দূতাবাস ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাস থেকে দ্বিতীয়  নিষেধাজ্ঞার আগ পর্যন্ত প্রায় ৮০০  জন ইপিএস কর্মী কোরিয়ায় ফিরতে সমর্থ হয়। একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদিশিক  মন্ত্রণালয়, বোয়েসেল ও সিউলস্থ বাংলাদেশ  দূতাবাসের সহযোগিতায় ইপিএস কর্মীরা কোরিয়ায় আসতে সমর্থ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে অবস্থানরত রি এন্ট্রির সুযোগ প্রাপ্ত কমিটেড কর্মীদের দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য সিউলস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস  ও রাষ্ট্রদূত কোরিয়ার  সংশ্লিষ্ট  দফতরে বার বার বৈঠক  করেন,একই সাথে কূটনৈতিক  চিঠি দিয়ে সর্বাত্মক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন । যে বিষয়টি সামনে এসেছে,প্রথম নিষেধাজ্ঞার  পর কোরিয়ার সার্বিক  পরিস্থিতি ঢাকাকে অবহিত করে  বাংলাদেশ দূতাবাস সিউল ও রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। যার সারাংশ উঠে এসেছে গত ১২ এপ্রিলের আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সেটা তাৎক্ষনিকভাবে জানানোর তাগিদ অনুভব করেনি মন্ত্রণালয় কিংবা বোয়েসেল। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার চারদিন পর ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য করোনা প্রতিরোধে তাদের কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে-
(ক) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা ও বোয়েসেল-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ কোরিয়াগামী যাত্রীকে কোভিড টেস্ট সম্পন্ন করে ৭ দিনের বাধ্যতামূলক সঙ্গনিরোধ সম্পন্ন করতে হবে।
(খ) সাতদিনের সঙ্গনিরোধ থাকা অবস্থায় কোভিড টেস্ট শতভাগ নিশ্চয়তার স্বার্থে কোরিয়ান কিট দ্বারা সরকার অনুমোদিত একটি সুনির্দিষ্ট কোভিড সেন্টার থেকে টেস্ট শেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ায় গমন নিশ্চিত করতে হবে।
(গ) সকল যাত্রীদের ট্রাভেল বিমার ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
(ঘ) এইচআরডি কোরিয়ার চাহিদা মোতাবেক বিশেষ ফ্লাইটে ইপিএস কর্মী প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে।
(ঙ) ইপিএস কর্মী ছাড়া যারা দক্ষিণ কোরিয়া গমন করবে তাদের তথ্য কোরিয়ান দূতাবাস ঢাকা কর্তৃক বোয়েসেলকে সরবরাহ করতে হবে।
(চ) সঙ্গনিরোধ-এর পূর্বে কোভিড টেস্ট, সঙ্গনিরোধ এবং সঙ্গনিরোধ পরবর্তী কোভিড টেস্ট এর যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বহন করবে। এ বিষয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অভিবাসন খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও দেশে কোয়ারেন্টাইনে রেখে কর্মীদের পাঠানো উচিত। একই সঙ্গে কোরিয়া সরকারের চাহিদা পূরণে সচেষ্ট থাকা জরুরি। আগে থেকে সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থা  সতর্ক  হলে দ্বিতীয়  নিষেধাজ্ঞা এড়ানো যেত। সিউলের  বিশ্বস্থ সূত্র  থেকে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয়  নিষেধাজ্ঞার পরে কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে  গিয়ে নিষেধাজ্ঞা  উঠিয়ে নিতে  ২৩ এপ্রিল  অনুরোধ জানান রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।একটি সূত্র নিশ্চিত  করেছে,  বিশ্ব কোভিড পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ নজর রেখেছে কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দফতর, একই সাথে  বাংলাদেশের  কোভিড  পরিস্থিতি উপর।  তবে বাংলাদেশের কোভিড  পরিস্থিতি উন্নতি  হলে নিষেধাজ্ঞা  উঠানো হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। একই সাথে কোরিয়ার একটি সূত্র নিশ্চিত  করেছে, কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়া নিষেধাজ্ঞা  উঠানোর বিষয়টি কোরিয়ার স্বাস্থ্য  মন্ত্রণালয়ের পরামর্শের উপর নির্ভর করছে।