Agaminews
Agaminews Banner

নগরীর পুলিশ চেকপোস্ট গুলোই যেন থ্রি হুইলার স্ট্যান্ড


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৫, ২০২১ ৫:১৮ অপরাহ্ণ নগরীর পুলিশ চেকপোস্ট গুলোই যেন থ্রি হুইলার স্ট্যান্ড
শফিক মুন্সি ॥
ঘড়ির কাটায় বেলা ১২ টা বেজে ১৫ মিনিট। গতকাল  রোববার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ভোলার রোডে দেখা গেলো বিভিন্ন তিন চাকার যানের (থ্রি হুইলার) সমারোহ। বাকেরগঞ্জ ও নলছিটি উপজেলা থেকে দেদারসে যাত্রী আনা নেয়া হচ্ছে সেখান থেকে । এই জায়গা থেকে দৃষ্টিসীমার মধ্যেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) অস্থায়ী চেকপোস্ট। সেখানে পুলিশের এক সদস্য  চলমান লকডাউনে যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে বিভিন্ন বার্তা মাইকে প্রচার করছেন। তবে সে বার্তায় যে কারো কোন কর্ণপাত নেই তা বোঝাগেলো যাত্রীদের ভীড়ে। এসময় কথা হয় রবিউল ইসলাম নামে এক মাহিন্দ্রা চালকের সঙ্গে। তিনি বলেন, শহরের দোকানপাট সব খুলে গেছে। তাই মনে করেছি লকডাউন উঠিয়ে নিয়েছে। গাড়ি বের করার পর দেখছি পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও কেউ গাড়ি চালাতে নিষেধ করছে না বরঞ্চ এখান থেকেই যাত্রী আনা নেয়া হচ্ছে। তাই আমিও অন্যান্য চালকদের সঙ্গে এখান থেকে যাত্রী পরিবহন করছি। চলমান লকডাউন বাস্তবায়নে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিএমপি পুলিশ অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়েছিল। এসব চেকপোস্ট পার হয়ে কোন যানবাহন যেনো যাত্রী পরিবহন করতে না পারে সেটাই উদ্দেশ্য। কিন্তু চেকপোস্ট দিয়ে যানবাহন  পার হতে না পারলেও মানুষ ঠিকই হেটে পার হচ্ছে। আর প্রায় প্রতিটি চেকপোস্টের অদূরে পাওয়া গেছে বিভিন্ন থ্রি হুইলার (অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা ইত্যাদি) জাতীয় যানবাহনের জটলা। নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে যাত্রীকে বার কয়েক শুধু এসব যানবাহন পরিবর্তন করতে হচ্ছে। আর এমন কার্যক্রম বর্তমান লকডাউনকে বিফল তো করবেই সাথে সাথে সংক্রমণ বাড়াবে বলে ধারণা সচেতন মহলের। একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত নগরীর নগরীর রূপাতলী এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তাঁর অফিস নগরীর নতুন বাজার এলাকায়। সাধারণত অটোরিকশায় চলাচল করেন তিনি। লকডাউনে যানবাহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞা এলে কিছুটা চিন্তিত হন প্রথমে। তবে এখন কয়েকদফা যানবাহন পরিবর্তন করে অফিসে যাতায়াত করতে পারছেন তিনি। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,অফিসে যাবার সময়ে রূপাতলী থেকে সাগরদি এবং নতুনবাজার দুই জায়গায় অটোরিকশা পরিবর্তন করতে হয় আমাকে। এই দুই জায়গায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট থাকার কারণে এভাবে যানবাহন পরিবর্তন করতে হয়।তবে চেকপোস্ট গুলোর একদম কাছেই পুনরায় থ্রি হুইলার জাতীয় যানবাহন  পেয়ে যাই। এ ব্যাপারে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কাজী এনায়েত হোসেন শিবলু জানান,মহামারি রুখতে আগামী ২৮ই এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। সেই সময় পর্যন্ত কোন যানবাহন চলাচল করবে না এমনটাই জানতাম। যদিও যারা যানবাহন নিয়ে রাস্তায় নামছে তারা পেটের দায়েই লকডাউন উপেক্ষা করছে।  কিন্তু বৃহৎ স্বার্থে এসব যানবাহনের চলাচল বন্ধ করা উচিত ছিল। সবাই যদি স্বাভাবিক ঘোরাফেরা করতেই পারে তবে লকডাউনে সংক্রমণ কমাতে ব্যর্থ হবে। কিন্তু  বিএমপি কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, দূরপাল্লার যানবাহন একদম বন্ধই আছে তবে নগরীজুড়ে সীমিত আকারে তিন চাকার যান চলাচল করছিল। শপিংমল এবং দোকানপাট খুলে দেবার সিদ্ধান্তের পর সড়কে থ্রি হুইলার জাতীয় যানবাহন একটু বেড়েছে বলে জেনেছি। এ ব্যাপারে সরকারি যে নিষেধাজ্ঞা আছে তা বাস্তবায়ন করা হবে। আশাকরছি সাধারণ জনগণ নিজেদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে অযথা এসব যানবাহনে চলাচল করা থেকে বিরত থাকবেন।