Agaminews
Agaminews Banner

খালেদা জিয়ার ফের রক্তক্ষরণ


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ৩০, ২০২১ ৪:১১ অপরাহ্ণ খালেদা জিয়ার ফের রক্তক্ষরণ

নিউজ ডেস্ক:

খালেদা জিয়ার ফের রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা জানান তিনি।

‘দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে’এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ সমাবেশ শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ট্রাক দিয়ে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে এ সমাবেশের আয়োজন করে দলটি।’

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল রাত ১২টায় ডা. জাহিদ আমাকে টেলিফোন করে বলেন আপনি এখনই হাসপাতালে চলে আসেন। আমি বললাম, কী খবর? খুব খারাপ খবর কি? তিনি বললেন, না। আপনি চলে আসেন। আমি রাত ১২টায় হাসপাতালে গেলাম। গিয়ে দেখি, আমাদের চিকিৎসকরা, যারা চিকিৎসা করছেন (প্রায় ১০ জন)- তারা বসে আছেন। প্রত্যেকের মুখ অত্যন্ত চিন্তিত।

‘আমি হাসপাতালে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাস করি, কি হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা যেটা আশঙ্কা করেছিলাম, ভয় পাচ্ছিলাম এবং যেটা বলেছিলাম, যে কোন সময় তার (খালেদা জিয়া) আবার রক্তক্ষরণ হতে পারে, সেটাই হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় আবার তার (খালেদা জিয়ার) রক্তক্ষরণ হয়েছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আমাদের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে গত দুই তিনটা সংকট তারা পার হয়ে এসেছেন। গতকাল রাতেও সংকট থেকে উত্তোরণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, আল্লাহ’র অশেষ রহমত, আজকে সকালেও যখন আমি ডা. জাহিদকে জিজ্ঞাস করলাম, তিনি আমাকে জানালেন এখন আগের চেয়ে অনেকটা ভালো। কিন্তু ডাক্তারা বলেছেন, এই ভালো, ভালো নয়। কারণ তারা পরিস্কার করে বলেছেন, তার যে অসুখ- সেই অসুখ চিকিৎসা এখন আর এখানে নেই। এই চিকিৎসা করাতে হলে তাকে অবশ্যই বিদেশে অন্য কোন কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। যেখানে তার এই চিকিৎসা করা সম্ভব।

বেগম খালেদা জিয়ার কাগজ-পত্র বিদেশে পাঠিয়েছি- পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাদের সামনে বলেছেন-কূটনৈতিক ও রাষ্ট্রদূতদের। কেনো বলছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যে এই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। যে বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠাও।

আইনের কারণে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে পারছি না- সরকারের এই বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, কেনো মিথ্যা কথা বলেন। ৪০১ ধারায় প্রতিটি ধারাতে বলা আছে- কেবল সরকার, সরকার, এবং সরকারই পারে বেগম জিয়াকে বিদেশে পাঠাতে। সুতরাং এখন সমস্ত দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগ সরকারের। শেখ হাসিনা সরকারের। আর বেগম জিয়ার যদি সুচিকিৎসা না হয়, তার যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে এদেশের মানুষ আপনাদের কখনো রেহাই দেবে না।

এর আগে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে খালেদা জিয়ার ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন এবং জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গ- সহযোগি সংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত হয়। এসময় তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং সরকার বিরোধী বিভিন্ন স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তুলেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, তৈমুর আলম খন্দকার, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা তাবিথ আউয়াল, যুবদলের সভাপতি সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।