আজকের বার্তা
আজকের বার্তা

অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ববির শের-ই-বাংলা হলের ক্যান্টিন


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ২৩, ২০২১ ৫:৫২ পূর্বাহ্ণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ববির শের-ই-বাংলা হলের ক্যান্টিন

মোঃ আজম খান, ববি প্রতিনিধি ॥

দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির ফলের ব্যয়ের সাথে আয়ের সামঞ্জস্য না রাখতে পেরে নানা অজুহাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শের-ই-বাংলা হলের আবাসিক ক্যান্টিন ছেড়ে দিয়েছেন সুলভ মূল্যে খাবার সরবরাহ ও ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব থাকা প্রতিষ্ঠান আয়াত এন্টারপ্রাইজ। যার ফলে বিপাকে পড়েছে হলের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার পর গত ৪ঠা অক্টোবর থেকে ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্ব নেন আয়াত এন্টারপ্রাইজ। ১৫ দিনের পর্যবেক্ষণ এবং খাবারের দাম বাড়ানো হলে পরবর্তীতেও পরিচালনা করবেন এই শর্তে দায়িত্ব নেন প্রতিষ্ঠানটি ।

কিন্তু হলে খাবারে ভর্তুকি না দেওয়ার দবি করে চুক্তির ১ মাস ১৭ দিনের মাথায় ব্যবসা গুটিয়ে হল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে তারা পূর্বের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হল ও কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে নির্ধারিত মূল্য খাবার পরিবেশন করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আয়াত এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধিকারী মোঃ রিপন বলেন, বর্তমান বাজার দর বেশি থাকার কারণে এই দামে খাবার পরিবেশন করা কঠিন। তাছাড়া অনেকেই ৫ টাকার ডাল কিনে ৩ বার থোরা (অতিরিক্ত) নেন যার ফলে আমাদের লস হচ্ছে।

এছাড়াও অত্র হলের শিক্ষার্থীরা পার্সেলে ১০ টাকার পরিবর্তে ২০-২৫ টাকার ভাত নেয় যা তারা অন্য বেলায় খায় এবং না খেতে পারলে ফেলে দেয়। অনেকে বাকি খেয়ে নাকি টাকা না দেওয়ার অভিযোগ করে আয়াত এন্টারপ্রাইজ এবং তাদের পক্ষ হলের ক্যান্টিন পরিচালনা সম্ভব নয় বলে দবি করে তারা।

অভিযোগের কথা স্বীকার করে শেরে বাংলা হলের দায়িত্বরত সেকশন অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, হলের খাবারের দাম বাড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয় কিন্তু আমাদের হল যদি খাবারের দাম বাড়ায় তাহলে সেটি অন্যান্য হলের উপর প্রভাব ফেলবে, নেতিবাচক ধারণা হবে। তাই আমরা দাম বাড়াতে না পারায় মূলত তারা ছেড়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা হলের প্রভোস্ট আবু জাফর মিয়া মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, নতুন প্রতিষ্ঠানের দ্বারা দুয়েক দিনের মধ্যেই বিষয়টি সমাধান করা হবে।

এর আগে ২০১৭ সালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হকের সময় শিক্ষার্থীরা নানা অসঙ্গতি তুলে ধরে ২২ দফা দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা যেখানে হলের খাবারে ভর্তুকি দেয়ার দাবি করা হয়। তৎকালীন সময় শিক্ষার্থীদের খাবারে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেয়া হলেও গত ৪ বছরে তা পূরণ হয়নি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে দুপুরের খাবারের প্যাকেজের দাম ৩৫-৪০ টাকা, রাতের প্যাকেজ না থাকলেও জনপ্রতি ২৫-৩৫ টাকার মতো খরচ হয়। এছাড়া সকালে ২৫ টাকা খাবারের দাম নির্ধারিত রয়েছে।