আজকের বার্তা
আজকের বার্তা

অসুস্থ লুসির পাশে বরিশাল জেলা প্রশাসক


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: নভেম্বর ২০, ২০২১ ১:৪২ অপরাহ্ণ অসুস্থ লুসির পাশে বরিশাল জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন যুদ্ধাহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে অসামান্য অবদান রাখা দ্বৈত (বাংলাদেশ ও ব্রিটিশ) নাগরিক অসুস্থ হেলেন ফ্রান্সিস লুসি হল্টকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসনক জসীম উদ্দীন হায়দার।

শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর ১টায় শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গিয়ে জেলা প্রশাসক চিকিৎসাধীন লুসির সুস্থতা কামনা করে ফল ও ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, সিস্টার লুসি হল্টের চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আল-মামুন তালুকদার, সহকারী কমিশনার সুব্রত বিশ্বাস দাস, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার সাজ্জাদ পারভেজ, শেবাচিম হাসপাতালেল সমাজসেবা অফিসার দিলরুবা রইচি, সাংবাদিক অপূর্ব অপু।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে সিস্টার লুসি অক্সফোর্ড মিশনে তার নিবাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে মিশনের চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সিস্টার লুসি হল্টের শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর জানান, তার রক্তচাপ মাত্রাতিরিক্ত এবং এ কারণে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল সীমিত হয়ে একটি ছোট স্ট্রোক হয়েছে। পরে তাকে হাসপাতালের মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের পাঁচতলার একটি কেবিনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হল্টের বয়স আগামী ১৬ ডিসেম্বর ৯২ বছর পূরণ হবে।

তিনি বাঙালিদের মতো শাড়ি পরেন, বাঙালিদের সেবা করে যাচ্ছেন। তিনি স্বদেশ স্বজনদের ভুলে বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের মায়ায় এখানেই ৬০ বছর ধরে রয়েছেন। তার অন্তিম ইচ্ছা, চিরকালের মতো মিশে যেতে চান বাংলার প্রকৃতিতে। তার প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ গণভবনে ডেকে নিয়ে তার হাতে তুলে দেন এ দেশের নাগরিকত্ব।

সিস্টার লুসির জন্ম ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হ্যালেন্সে। বাবা জন হল্ট ও মা ফ্রান্সিস হল্ট। দুই বোনের মধ্যে ছোট লুসি। তার বড় বোন রুৎ অ্যান রেভা ফেলটন স্বামী ও তিন ছেলে নিয়ে ব্রিটেনেই বসবাস করেন। লুসি ১৯৪৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক (দ্বাদশ) পাস করেন। তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশে আসেন। যোগ দেন বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে। এখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের পড়াতেন। এরপর আর দেশে ফিরে যাননি। ৫৭ বছর ধরে বরিশাল ছাড়াও কাজ করেছেন যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে।