Agaminews
Agaminews Banner

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালেও ভোগান্তি শেষ নেই


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: মে ১০, ২০২১ ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালেও ভোগান্তি শেষ নেই

বার্তা ডেস্ক ॥
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থান থেকে সব বাধা পেরিয়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাচ্ছে মানুষ। সব বাধা পেরিয়ে ফেরিঘাটে পৌঁছালেও ভোগান্তি নিয়েই দেশের বিভিন্নস্থানে যাচ্ছেন তারা। দৌলতদিয়া ফেরিঘাট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, মাহেদ্র, মোটরসাইকেল অথবা ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছেন যাত্রীরা। সোমবার দুপুরে গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পুলিশি চেকপোস্ট থামিয়ে দেয় ঢাকামুখী যাত্রী ও ব্যক্তিগত গাড়িকে। এতে করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা যাত্রীরা চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। যাত্রীরা বলেন, জরুরি প্রয়োজনে ঢাকা যাওয়ার দরকার হলেও পুলিশ তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ঢাকামুখী যাত্রী মো. হান্নান মোল্লা বলেন, তিন মাস ধরে ঢাকার কারওয়ান বাজারে পিয়াজ বিক্রি করেছি। প্রতিবছর ঈদের পূর্বে হিসাব শেষ করি। কিন্তু এ বছর পুলিশি বাধার মধ্যে পড়েছি। তবে বিস্তারিত সব বললে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। দৌলতদিয়া ৫নং ফেরিঘাটে দেখা যায়, দুই ঘণ্টা পরপর পাটুরিয়া ছেড়ে এক একটি ইউটিলিটি ফেরি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাচ্ছে। ফেরিতে ২-৩টি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এছাড়া ফেরিভর্তি মানুষ পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে দৌলতদিয়া যাচ্ছেন। ফেরিতে সামজিক দূরত্ব না মেনেই সহ্রসাধিক ঘরে ফেরা মানুষ রয়েছেন। ঢাকা থেকে আসা যাত্রী আলমগীর শেখ বলেন, এ বছর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি নিয়ে মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। আমরা যারা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ তাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে তারা সন্ধ্যার পর ফেরি ঘাটে আসছেন। তখন এ রুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করে। তখন তাদের ভোগান্তি হচ্ছে না। আমাদের তো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। তাই দিনের বেলায় রাজধানী ছেড়ে আসতে হচ্ছে। পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা যাত্রী মো. আরশেদ শেখ বলেন, গতকাল সংবাদে দেখলাম সন্ধ্যার পর থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করে। তখন ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার এবং পণ্যবাহী পরিবহন পারাপার হয়। তখন প্রশাসনের কোনো নজরদারি থাকে না। আমাদের যাদের গাড়ি নেই। তারা গ্রাম গঞ্জের সড়ক দিয়ে পালিয়ে ফেরি ঘাটে আসছি। তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস কি শুধুমাত্র ফেরির মধ্যে। ব্যক্তিগত গাড়িতে কি করোনা নেই। জনগণের ভোগান্তি এবং ফেরি সার্ভিস বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি। তবে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, ফেরি বাড়ানোর পরিকল্পনার বিষয়টি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের জানানো হবে। ঘরে ফেরা মানুষের জনস্রোত ঠেকানো যাচ্ছে না। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষ নিয়ে ভিন্ন চিন্তা করতে হবে।