Agaminews
Agaminews Banner

ঈদ শপিং: বরিশালে মোড়ে মোড়ে ভোগান্তি: কোনঠাসা লকডাউন


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: মে ০৬, ২০২১ ৫:১১ অপরাহ্ণ ঈদ শপিং: বরিশালে মোড়ে মোড়ে ভোগান্তি: কোনঠাসা লকডাউন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আসছে ঈদ উল ফিতর। তাই সর্বত্র ব্যস্ত মানুষ। ঈদের কেনাকাটায় মার্কেট মুখি বরিশালের মানুষ। আর এ জন্য বরিশাল নগরীর মোড়ে মোড়ে ভোগান্তিতে পরেছে মানুষ। সড়কে গাড়ি পার্কিং করে রাখার জন্য প্রায় প্রতি মোড়েই দেখা গেছে যানজট। করোনা নামের যে কোন বিষয় রয়েছে তা পরিলক্ষিত হয়নি বরিশাল নগরীতে। আর লকডাউন হয়ে পড়েছে কোনঠাসা। সর্বপরি সর্বাত্মক লকডাউন উপেক্ষা করে ঈদের আমেজে মেতেছে মানুষ। বরিশাল নগরীর ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা ও প্রধান সড়কে দেখা গেছে ঈদ কেনাকাটায় বের হওয়া মানুষের ঢল। ফুটপাত দখল ও অবৈধ পার্কিংয়ে সড়ক সংকুচিত হওয়ায় গাদাগাদি করে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন নগরবাসী। তাদের মধ্যে অনেকেই মাস্ক না পরে সামাজিক দূরত্ব অমান্য করে কেনাকাটা করছেন। ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ লেখা সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে মাস্ক না পরেই বেচাবিক্রি করতে দেখা গেছে দোকান মালিক-কর্মচারীদের। এছাড়া বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহণ করছেন সিএনজি- অটোরিক্সা চালকরা। এ দিকে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনসহ আইন শৃংখলা বাহিনী প্রচার প্রচারণা-অভিযান চালালেও নগরবাসীকে সচেতন হচ্ছে না। গতকাল বৃহস্পতিবারও বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুইটি মোবাইল কোট চালানো হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বাণিজ্যিক এলাকা সদর রোড, গীর্জা মহল্লা, কাটপট্টি, চকবাজার, বাজার রোড, পোর্ট রোড, জেলখানার মোড়, নতুন বাজার, নতুল্লাবাজ, সিএন্ডবি রোড চৌমাথা, বটতলা চৌরাস্তা, বাংলা বাজার, রূপাতলী, লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন এলাকার সড়কে সকাল থেকেই জনসমাগম দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নগরীর মোড়ে মোড়ে যানজট শুরু হয়ে যায়। নগরীর অধিকাংশ বিপণনীবিতানে ঘোষিত ও অঘোষিত মূল্যছাড়ে এসব এলাকায় ক্রেতাসমাগম বেড়েছে। এতে বজায় ছিলো না সামাজিক দূরত্ব। প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি নগরীর শাখা সড়কেও ছিলো মানুষের ভিড়। এসব এলাকার বাসিন্দাদের গরমে অতিষ্ট হয়ে রাস্তার পাশে অবস্থান করে মাস্ক বিহীন অবস্থায় আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা গেছে। রাস্তায় আগের চেয়ে যানবাহনের সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক বেশি। যদিও বরিশালে পাবলিক পরিবহন বলতে অটো রিস্কা ও মাহিন্দ্র। সেটা কোন লকডাউনেই থেমে নেই। সবমিলিয়ে বলা, দ্বিতীয় দফার সর্বাত্মক লকডাউনে বরিশালের চিত্র যেন স্বাভাবিক। নগরীর কাশিপুর থেকে এক সন্তানকে নিয়ে চকবাজারে ঈদ কেনাকাটা করতে আসা আলেয়া বেগম জানান, সামনে ঈদ তাই সন্তানদের জন্য পোশাকের কাপড় কিনতে এসেছেন। এসময় তিনি মাস্ক না পরেই দোকানে দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করেছেন। দোকানে ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস স্টিকার’ টানানো থাকলেও গীর্জা মহল্লা, চকবাজার, কাঠপট্টি এলাকার বেশ কয়েকটি দোকানের সকল বিক্রয়কর্মীকে মাস্কবিহীন অবস্থায় পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া নগরীর শাখার সড়কের অধিকাংশ দোকানীরা স্বাস্থ্যনিরাপত্তা বিধি পুরোপুরি অমান্য করে ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নগরীর কাটপট্টি রোডে ঈদ বাজর করতে আসার লাকি আক্তার বলেন, সামনে ঈদ তাই সবার জন্য ঈদ বাজার করতে এসেছি। স্বাস্থ্য বিধি মেনেই বাজারে এসেছি। কিন্তু এতো মানুষের অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে আসাটা উচিৎ হয়নি। আমি স্বাস্থ্য বিধি মানলেও অন্যরা কেন যেন আনমনা। মাস্ক না পরে ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতা মোঃ সালাম জানান, সামনে করোনার সংক্রমণ আরো বাড়তে পারে তাই দোকানে এসেছেন। গরমে পরতে কষ্ট হওয়ায় মাস্ক পকেটে রেখেছেন। গরম কমলেই মাস্ক পরবেন বলে জানান তিনি। চকবাজার, কাঠপট্টি, পদ্মাবতী ও লাইনরোড ব্যবসায়িক কল্যাণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম বলেন, আমরা সচেতন রয়েছি। কিন্তু মানুষের চাপ অনেক বেশি। আমরা দোকানদার ও ক্রেতাদের সচেতন করতে প্রত্যেকদিন মাইকিং করছি। দোকানে আসা ক্রেতাদের ফ্রি মাস্ক দিচ্ছি। তারপরও কিছু কিছু ক্রেতা মাস্ক পরে না। মাস্ক পরতে উৎসাহী নয় এমন বিক্রেতাদের উৎসাহ প্রদান করে যাচ্ছি। সবার মঙ্গলার্থে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছি। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে এই বাণিজ্যিক এলাকার দু’টি স্পটে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ফ্রি মাস্ক বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম সুব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, আমরা মানুষকে প্রতিনিয়ত সচেতন করছি। মাস্ক বিতরণ করছি, জেল জরিমানাও করা হচ্ছে। নগরবাসীর স্বাস্থ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রত্যেক দিন ২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।