Agaminews
Agaminews Banner

নামীদামি সব ওষুধ বাড়িতেই বানাচ্ছিলেন আনিসুর


আজকের বার্তা | প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২১ ১:৪৩ অপরাহ্ণ নামীদামি সব ওষুধ বাড়িতেই বানাচ্ছিলেন আনিসুর
বার্তা ডেস্ক ॥
 ‘সেকলো-২০’। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বহুল প্রচলিত একটি ওষুধ। নিজের বাড়ির একটি কক্ষে বসেই ‘সেকলো-২০’ বানিয়ে ফেলেন আনিসুর রহমান (৪২)। অন্তত দুই বছর ধরে এমন ওষুধ বাজারে বিক্রি করেছেন। আরও তিনটি কোম্পানির যেসব ওষুধ বাজারে এক নামে পরিচিত, সেগুলো তিনি ঘরে বসেই বানিয়ে বিক্রি করেছেন। গত শুক্রবার রাতে আনিসুরের নকল ওষুধের ওই কারখানার সন্ধান পেয়েছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তাদের একটি দল সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নকল ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল, যন্ত্রপাতিসহ আনিসুরকে গ্রেপ্তার করেছে।  শাহী নগরের চন্দ্রিমা থানা এলাকার ভদ্রা জামালপুরের একটি বাড়িতে আনিসুর রহমান এই কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় আনিসুর বাড়ির একটি ঘরে যন্ত্রপাতি বসিয়ে ওষুধ প্যাকেটজাত করতেন। অত্যাধুনিক সেই যন্ত্রটিও জব্দ করেছে ডিবি পুলিশ। আনিসুরের বাড়িতে পাওয়া অন্যান্য নকল ওষুধের মধ্যে রয়েছে এসবি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের পাওয়ার-৩০, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের পিজোফেন-০.৫, এপেক্স ফার্মার রিলামক্স-৫০০ এবং ইলিমিক্স-২০০। আনিসুরের বাড়িতে পাওয়া অন্যান্য নকল ওষুধের মধ্যে রয়েছে এসবি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের পাওয়ার-৩০, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের পিজোফেন-০.৫, এপেক্স ফার্মার রিলামক্স-৫০০ এবং ইলিমিক্স-২০০। জব্দ হওয়া ওষুধের মোট পরিমাণ কত, তা গুনে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে বড় বড় ১২টি কার্টনে সেকলো-২০ এবং ৭টি কার্টুনে পাওয়ার-৩০ দেখা গেছে। এ ছাড়া এক ড্রাম পিজোফেন ও খোলা অবস্থায় আরও এক ড্রাম পাওয়ার-৩০ দেখা গেছে। বাড়িটি থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধের খালি খোসা, স্টিকারসহ অন্যান্য সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে। আনিসুরের বাড়ি থেকে নকল ওষুধ জব্দের পর রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক শনিবার দুপুরে নগর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে নগর ডিবি পুলিশের উপকমিশনার আরেফিন জুয়েল ও সহকারী কমিশনার রাকিবুল হাসানসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, জব্দ করা নকল ওষুধগুলোর আনুমানিক মূল্য ৭০ লাখ টাকা। আনিসুর পুলিশকে জানিয়েছেন, দুই বছর ধরে তিনি নকল ওষুধ তৈরি করে আসছেন। তবে তাঁদের কাছে মনে হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি এই কাজে জড়িত রয়েছেন। তিনি এসব ওষুধ বাজারেও ছেড়েছেন। তথ্য নিয়ে সেসব ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব নকল ওষুধ খেয়ে কোনো কাজ হয় না জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, বাজারে যেসব ওষুধের চাহিদা বেশি, সেগুলোরই নকল করতেন আনিসুর। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। নকল এসব ওষুধ তৈরিতে কী ধরনের পাউডার ব্যবহার করা হতো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা যেকোনো পাউডার হতে পারে। রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া স্পষ্ট করে বলা যাবে না। তাঁরা এগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেবেন। শুক্রবার রাতে আটক হওয়ার সময় আনিসুর সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আগে তিনি দেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানিতে ‘টেকনিশিয়ান’ হিসেবে চাকরি করেছেন। তারপর চাকরি ছেড়ে নিজেই এই কারখানা গড়ে তুলেছেন। প্রয়োজনীয় সব উপাদান আসে ঢাকা থেকে। বাড়িতে তিনি শুধু প্যাকেটজাত করতেন। চন্দ্রিমা থানা-পুলিশ এই কারখানার ব্যাপারে জানত দাবি করে তিনি বলেন, থানায় মাসোহারা দিতে হতো। শহরের চারজন সাংবাদিককেও টাকা দিতে হতো। জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুম মুনীর বলেন, ‘সে এখন কত কিছুই বলবে। আমার সঙ্গে আনিসুরের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাঁকে আমি চিনতামও না। আমার ছবি নিয়ে গিয়ে দেখান সে যদি চিনতে পারে…।’ এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, আনিসুরের সঙ্গে যাঁর যাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাঁদের সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।