খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বরগুনায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
বরগুনায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

বরগুনা পৌরসভায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি প্রকল্প সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তাদের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পগুলো অচল হয়ে পড়েছে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরগুনা শহরের বর্জ্য সমস্যা নিরসনে সদর ইউনিয়নের পিটিআই এলাকায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে সার উৎপাদনের কথা থাকলেও উদ্বোধনের চার বছর পরও এটি চালু করা যায়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপাকে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। স্থানীয় অধিবাসী কালাম বলেন,

বর্জ্য পরিশোধনাগারের ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়েছে। এখন ঘরে ঘরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

অন্য বাসিন্দা সালেহ বলেন, ‘এখানে সার উৎপাদন করার কথা ছিল, কিন্তু তারা এখন পরিবেশ দূষণ করছে। এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। আমরা অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি এই বর্জ্য পরিশোধনাগারের কারণে।’

শহরের পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়। এ দুটি জলাধারের ধারণক্ষমতা ২০ লাখ লিটার। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, প্রকল্পগুলো কেবল প্রদর্শনীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, জনসেবায় কোনো সুফল মিলছে না।

ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে। যে পরিমাণ পানি আমাদের প্রয়োজন তা আমরা পাই না। পানির স্পিড কম থাকায় নামে মাত্র পানি পাচ্ছি। ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উঁচু জলাধার থেকে কোনো সুফল আমরা পাইনি।’

কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাসার সামনে একটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার এটি চালুর চেষ্টা হলেও কার্যকর করা যায়নি। মূলত এটি একটি সম্পূর্ণ লস প্রজেক্ট। আমাদের জানানো হয়েছে, এটি আদৌ চালু করা সম্ভব নয়।

প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর অডিটরিয়ামের কাজ ২০২০ সালের আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ভৌত কাঠামোর মাত্র ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬৮ শতাংশ বিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অসম্পূর্ণ ভবনে এখন অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি মাদকসেবীদের আখড়া গড়ে উঠেছে।

চরকলনী এলাকার বাসিন্দা ছগির হোসেন টিটু বলেন, অর্ধনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি অরক্ষিত থাকার কারণে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। ভবনটি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুরোপুরি নির্মাণ শেষ করে চালুর কোনো উদ্যোগ নেই।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এসব প্রকল্প জনস্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ফলে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, ‘সরকারি অর্থ অপচয়ের এই নজির প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন।’ বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম না হলে আজ জনগণ এর সুফল ভোগ করত।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘অপরিকল্পিত প্রকল্প ও লোপাটের দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জড়িতদের আনতে হবে আইনের আওতায়।’

বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘অপরিকল্পিত এই প্রকল্প তিনটি লুটপাটের কারণে এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দুদকের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত এবং আইনগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

বরগুনা পৌরসভার প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘এই প্রকল্পের কোনো কাগজপত্র আমাদের কাছে নেই। প্রকল্পগুলো যে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটাও বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আমরা কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’

চরমোনাইয়ে ক্রয়কৃত জমি দখলের পায়তারা, বাধা দেয়ায় হামলা-ভাংচুর, গুরুতর আহত-১ 

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
চরমোনাইয়ে ক্রয়কৃত জমি দখলের পায়তারা, বাধা দেয়ায় হামলা-ভাংচুর, গুরুতর আহত-১ 
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৬নং রাজারচর এলাকায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আমিনুল ইসলাম বিপ্লব নামের একজন গুরুতর আহত হয়ে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।  জানা  গেছে, আহত আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের পিতা মৃত: মকবুল হোসেন হাওলাদারের ৩০ বছর আগের ক্রয়কৃত সম্পদ দখলের চেষ্টা করে আসছে একই এলাকার ছত্তার মোল্লার ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল সহ আরও কয়েকজন। এ নিয়ে পূর্বে থেকেই একটি দ্বন্দ্ব চলে আসছে।
এর ধরাবাহিকতায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে একটি মামলা দায়ের করেন জমির মালিক আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। মামলা দায়ের করার কারণে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম মোল্লা গং।  এ নিয়ে একাধিকবার শালিশ বৈঠকে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও মিমাংসা হয়নি। গত ২১ জুলাই চরমোনাই বিশ্বাসের হাট বাজারে বিপ্লবের সাথে কথাকাটি হলে এক পর্যায়ে বিপ্লবের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও তার মায়ের গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে মোঃ শহিদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল সহ আরও কয়েকজন। খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে এর প্রতিবাদ করলে বিপ্লবের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় বিপ্লবের উপর কিল ঘুষি ও তাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বিপ্লব গুরুত্বর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন।
আহত বিপ্লব জানান, আমার বাড়ির কিছু লোকজন একত্রিত হয়ে আমার বাবার ক্রয়কৃত সম্পদ বহুদিন ধরে দখল করার চেষ্টা করে আসছে। এতে আমি বাধা দিলে বিভিন্ন সময় আমাকে গুরুতর জখম ও হত্যার হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় আমি একটি মামলা দায়ের করি।  মামলার পরে আমাদের উপর পরবর্তীতে আবারও অতর্কিত হামলা চালিয়ে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। তার সমস্ত প্রমাণ থানা এবং কোর্টে দেয়া আছে। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মীমাংসার জন্য গত ২১ জুলাই ধার্র্য করা হলে আসামী পক্ষ আমাদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখায় এবং হত্যার হুমকি প্রদান করে। এক পর্যায়ে বাজারে কথার কাটাকাটি হলে আসামিপক্ষ আমাদের বাড়িতে গিয়ে ঘর ভাঙচুর করার চেষ্টা করে এবং আমার মায়ের গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা করে।
খবর পেয়ে আমরা বাড়িতে গেলে তারা সকলে আমাদের উপর হামলা চালায় এবং আমার উপরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। বিপ্লব আরও জানায়, হামলাকারী শহীদুল ইসলাম মোল্লা ও ওয়াহিদুল ইসলাম মোল্লার নিক্ষেপ করা ইটে আমি আঘাতপ্রাপ্ত হই এবং বর্তমান চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে ভর্তি আছি। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি স্থানীয় প্রশাসন এবং স্থানীয় দায়িত্বশীলদের কাছে এ বিষয়ে সুষ্ঠু ও উপযুক্ত বিচারের জোর দাবি জানাই।

বেতাগীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
বেতাগীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালন

বেতাগী প্রতিনিধি
‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শ্লোগান ধারণ করে বরগুনার বেতাগীতে পালিত হয়েছে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬। উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে র‌্যালী, আলোচনা সভা, ঋণ ও বৃক্ষ বিতরণের মধ্য সোমবার (৬ জুলাই) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে দিবসটি পালিত হয়।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহ. সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জলিলুর রহমান খান নান্না, বিবিচিনি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক একেএম ওয়াদুদ মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম লাভলু, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন প্রমূখ।

দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা হাসান আল বাসার। অনুষ্ঠানে অর্ধশত উপকারভোগীর মাঝে গাছের চারা ও ঋণ বিতরণ করা হয়।

বরিশালের নতুন ডিসি মামুন খন্দকার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বরিশালের নতুন ডিসি মামুন খন্দকার

বরিশালের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মামুন খন্দকার।  এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বুধবার (১ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মামুন খন্দকারকে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বদলি/পদায়ন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।