খুঁজুন
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় বিপিএল নিয়ে শংঙ্কা

৬৫ কোটিতেও প্রাণ ফিরছে না বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়ামের

সৈয়দ বাবু ॥
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
৬৫ কোটিতেও প্রাণ ফিরছে না বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়ামের

বরিশালের ক্রীড়া প্রেমীদের দীর্ঘদিনের গর্ব ছিল বিভাগীয় কবি জীবনানন্দ দাশ স্টেডিয়ামটি। একসময় এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ও যুব ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কিন্তু বর্তমানে মাঠের চিত্র একেবারে উল্টো। মাঠে গর্ত, ভাঙা গ্যালারি, অকেজো ফ্লাডলাইট আর নষ্ট স্কোরবোর্ড। নির্মানের পর থেকে বড় কোন খেলার আসর বসেনি এ স্টেডিয়ামটিতে। ২০১৯ সালের ২৬ অক্টোবর বরিশাল স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ বনাম শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ চারদিনীয় ম্যাচে অনুষ্ঠিত হয়। এ ম্যাচের মাধ্যমে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পা রাখে (অনুর্ধ্ব-১৯ আন্তর্জাতিক)।

তথ্য মতে, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়। এর আওতায় মাঠ সংস্কার, গ্যালারি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেসিংরুম, ইনডোর জিমনেশিয়াম ও নতুন টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কাজ শুরু হওয়ার পর কয়েকটি ধাপে থেমে যায়। এর পরে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে পুনরায় ঘোষণা আসে নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৬০ কোটি টাকায় স্টেডিয়ামের ইনডোর ও আউটডোর সুবিধা আধুনিকীকরণ করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এখনো অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ চলছে ধীর গতিতে। বরিশাল ক্রিড়া সংস্থার দাবী যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম উন্নয়নের জন্য যে সকল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তার মধ্যে মেসার্স কহিনুর নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজ অত্যন্ত ধীর গতির হওয়ায় আগামী বিপিএলের আসর বরিশাল স্টেডিয়ামে বসবে কিনা তা নিয়ে শংঙ্কায় আছে।

১৯৬৬ সালে নগরীর বান্দ রোড সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়ামটি দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া অবকাঠামো। প্রায় ২৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন মাঠে আছে দুইটি ড্রেসিং রুম, প্রেস বক্স, প্রশাসনিক ভবন ও নিরাপত্তা ফটক। ২০০৬ সালে এটি প্রথম আধুনিকায়ন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, প্রথম ধাপে প্রায় ৪৯ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মাঠের গ্যালারি, ভবন ও পিচ সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১৫ কোটি টাকার ইনডোর ও আউটডোর উন্নয়ন প্রকল্প যুক্ত হয়। সর্বমোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫ কোটি টাকার মতো, তবে মাঠের অবস্থা এখনো মানহীন।

বরিশাল জেলা ক্রিড়া কর্মকর্তা ও বরিশাল জেলা ক্রিড়া সংস্থার সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম শুভ বলেন, এত টাকা ব্যয় হলেও মাঠের আউটফিল্ডে এখনো পানি জমে থাকে। ফ্লাডলাইটের কাজ অসম্পূর্ণ, টয়লেট ও পানীয় জলের অভাব, দর্শকদের ভোগান্তি। প্রতিটি কাজে ধীরগতি ও পরিকল্পনার ঘাটতি আছে। বরিশাল জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “ফুটবল ফেডারেশন বরিশাল কয়েকবার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু মাঠের মান না থাকায় তারা সরে গেছে। এটা আমাদের জন্য বড় হতাশা।

পিচ ও আউটফিল্ড জাতীয় মানের নিচে। পিচের বলের বাউন্স অনিয়মিত, আর ড্রেনেজে সমস্যা থাকায় বর্ষাকালে মাঠ অচল হয়ে যায়। এই অবস্থায় জাতীয় পর্যায়ের খেলা আয়োজন সম্ভব নয় বলে অভিযোগ করেন বরিশালের কয়েকজন ক্রিকেটার। তারা আরও বলেন, ফ্লাডলাইট, ড্রেনেজ ও ঘাসের মান ঠিক না করলে বিসিবি কোনো বড় ম্যাচ এখানে আয়োজন করবে না। স্থানীয় ফুটবল খেলোয়াড় সোহান রহমান বলেন, আমরা অনুশীলনে যাই, কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকে। কখনো কখনো বল কাদা মাটিতে আটকে যায়। এটা খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

নিয়মিত খেলা দেখতে আসা দর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, গ্যালারি ভাঙা, টয়লেট অপরিষ্কার হওয়ার কারনে পরিবার নিয়ে মাঠে আসার মতো পরিবেশ নেই। অথচ এটি বরিশালের গর্ব হতে পারত। বরিশাল বিভাগীয় স্টেডিয়াম দক্ষিণাঞ্চলের ক্রীড়া উন্নয়নের প্রতীক হতে পারত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে অনিয়ম, ধীরগতি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই মাঠ এখন পরিত্যক্ত প্রায়।

৬৫ কোটি টাকার কাজ শেষ হলেও মাঠ প্রাণ ফিরে পাবে কিনা? এটাই এখন বরিশালের ক্রীড়াপ্রেমীদের বড় আক্ষেপ।

গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

 বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মিড ডে মিলের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি কোম্পানির গাফিলতি কিংবা রুটির মধ্যে ব্লেড ঢুকানোর কোনো তথ্য পায়নি। স্কুলের শিক্ষার্থী কর্তৃক ব্লেড রুটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়াও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম শারমিন জাহান। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল ঘটনার সত্যতা উদ্ধার করা।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তদন্ত টিম যেই কারখানা থেকে রুটি সরবরাহ করে সেই কারখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং রুটি তৈরির প্রত্যেকটা ধাপ তারা পর্যালোচনা করে। তারা প্র্যাকটিকালি মিক্সার থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ধাপে ব্লেড দিয়ে দেখেছে কারখানা থেকে কোনোভাবেই এরকম একটা অক্ষত ব্লেড রুটির ভিতরে আসা সম্ভব না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের মধ্যে থেকে কেউ চক্রান্ত করেছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সব ধরনের পলিসি এপ্লাই করা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর বাড়িতে কোন কোম্পানির ব্লেড ব্যবহার হয় সেই বিষয়ে খবর নেওয়া হয় এবং সেই ব্লেডও উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অবলীলায় স্বীকার করে যে ব্লেডটি তার ব্যাগে ছিল; কিন্তু স্কুলে ব্লেড আনা নিষিদ্ধ তাই ব্যাগ থেকে ব্লেড বের করার পর তার মনে হয়েছে ম্যাডাম যদি ব্লেড দেখে তাহলে তাকে শাস্তি কিংবা বকা দিতে পারে। এজন্য সে ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রুটি খাওয়ার জন্য যখন সে প্যাকেট খোলে তখন পেছন থেকে জান্নাত নামের একটি মেয়ে ব্লেডটি দেখে ফেলে। তখন সে মনে করে জান্নাত যদি ম্যাডামকে বলে তাহলে বকা দিতে পারে। এজন্য সে আগেই ম্যাডামের কাছে গিয়ে বলে ম্যাডাম আমি রুটির মধ্যে ব্লেড পেয়েছি। ম্যাডাম যাচাই-বাছাই না করেই ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। এরপর সদর ক্লাস্টার গ্রুপে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে দেয়।

যার কারণে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়। যে কারণে তিন দিনের মধ্যেই ঘটনার বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি শতভাগ সঠিক বলেও তিনি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান জানিয়েছিলেন, কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি কোম্পানি থেকে স্কুলগুলোতে রুটি সরবরাহ করা হয়। কোম্পানি ফুল অটোমেটিকভাবে রুটি ম্যানুফ্যাকচারিং করে। সেখানে যদি কোনো মেটাল যায় তা মিক্সিংয়ে ক্রাশ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে এত বড় একটা আস্ত ব্লেড থাকার কথা নয়।

স্কুলশিক্ষিকাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা শারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পাওয়ার কথা শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে জানায়। এ সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় একটি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দামিয়েত্তা বন্দরে থাকা একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে।

বন্দরসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ এক পৃথক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে।

সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ভাসমান তেলবাহী ট্যাংকার ‘এনার্গোস উইন্টারে’ আঘাত হানে। এতে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনটি ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি পৃথক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

অ্যামব্রে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ভয়াবহভাবে আঘাত করব। আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড হামলা চালাব। তারা এর কঠিন মূল্য দেবে।

জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওই দাবির পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প।

ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ট্রাম্প ‘আকস্মিক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর আগে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মার্কিন সেনাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফয়সাল নামে ওই প্রাইভেট শিক্ষক টিকিকাটা ওহাবিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগের বিষয় হিসেবে ৮ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৭ জুলাই (সোমবার) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই ছাত্রীর মা সুমি আক্তার অধ্যক্ষের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।কারো কাছে যাতে কিছু না বলা হয় সেজন্য শিশুটিকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারটি রুম্মান নামে ওই ছাত্রীর এক চাচার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,অভিযোগ আমিই দিয়েছিলাম। আবার আমি এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।প্রিন্সিপল হুজুর বিষয়টি শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে । মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবগত করেছি।আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু জানান,আমি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বিষয়টি অবগত না হলেও কিছুটা অবগত হয়েছি।অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে দেখতেছি।বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,বিষয়টি অবগত হয়েছি।এ ধরনের অপরাধ স্থানীয় পর্যায়ে শালিস ব্যবস্থার কোন বিষয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।