খুঁজুন
বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক, ১৪৩৩

সাজা হয়নি, তবুও ৩০ বছর কারাবন্দি কনু মিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
সাজা হয়নি, তবুও ৩০ বছর কারাবন্দি কনু মিয়া

বার্তা ডেস্ক : মামলার বিচার হয়নি, সাজাও হয়নি। তারপরও কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেটেছে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন। এবার মুক্ত আকাশে ফিরেছেন কনু মিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। কনু মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রাম গ্রামে। পিতা মৃত চিনি মিয়া। যুবক বয়সে কনু মিয়া ছিলেন মানসিক রোগী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লিগ্যাল এইড আইনজীবী এমএ মজিদ বলেন, এটি অত্যন্ত অমানবিক। কোনো বিচার ছাড়া একজন মানুষকে ৩০ বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়। তাও আবার মানসিক রোগী। এটি কিভাবে একটি সভ্য সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে। কনু মিয়া মুক্তি পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। একজন মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ বিনাবিচরে কারাভোগ না করেন সেই দাবি জানান তিনি।

হবিগঞ্জের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হাই বলেন, ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর একজন মানসিক রোগী আসামির জামিনের উদ্যোগ নেওয়া একটি মহতী উদ্যোগ। আমি লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আব্বাছ উদ্দিন ও লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এমএ মজিদকে ধন্যবাদ জানাই।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ মে ঘুমের ঘোরে জন্মদাত্রী মা মেজেষ্টর বিবিকে কুদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন কনু মিয়া। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পরের দিন ৩ লাইনের একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কনু মিয়া। তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। এক দুই বছর নয় একাধারে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন কেটেছে কারাগারে।

প্রথমে ভাই এবং স্বজনরা কনু মিয়াকে দেখতে কারাগারে গেলেও একটা সময় আর যাওয়া হয়নি। পরিবারের অনেক সদস্য ভুলেই গিয়েছেন কনু মিয়া জীবিত না মারা গেছেন। ৩০ বছরে পরবর্তী প্রজন্মের অনেকে জানেনই না সিংহগ্রাম গ্রামে মৃত চিনি মিয়ার এক ছেলে আছে, যার নাম কনু মিয়া। সেই কনু মিয়া এখনো জীবিত। পরিবার আত্মীয়স্বজনও কনু মিয়াকে ভুলে গেছেন।

এদিকে সম্প্রতি কনু মিয়ার বিনাবিচারে আটক থাকার বিষয়টি নজরে আসে হবিগঞ্জের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) আব্বাছ উদ্দিনের। তিনি কনু মিয়ার আইনগত প্রতিকার পাওয়ার উদ্যোগ নেন। মেজেষ্টর বিবি হত্যা মামলার বাদী নিহতের ছেলে মনু মিয়ার সন্ধান পান তিনি।

একই সঙ্গে মনু মিয়ার আরেক ভাই নাসু মিয়ার খোঁজখবর নিয়ে তাদের লিগ্যাল এইড অফিসে নিয়ে আসেন সিনিয়র সহকারী জজ মুহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন। কনু মিয়ার জামিনের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মনু মিয়া ও নাসু মিয়া। তারা কনু মিয়ার মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

হত্যা মামলার একমাত্র আসামি কনু মিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। মানসিক রোগে আক্রান্ত আসামির জামিন মঞ্জুর হলে তার নিরাপত্তা, তার দ্বারা আর যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় তার প্রাথমিক নিশ্চয়তা, খাদ্য বাসস্থানের নিশ্চয়তা, কোর্টের নির্দেশ মতো আসামিকে হাজির করা ইত্যাদি বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী এমএ মজিদের সঙ্গে কথা বলেন লিগ্যাল এইড অফিসার আব্বাছ উদ্দিন।

সার্বিক দিক বিবেচনায় গত ১৪ জুলাই হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজতি কনু মিয়ার জামিন আবেদন করেন লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এমএ মজিদ। জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম আসামি কনু মিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। এতে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির সুযোগ তৈরি হয় কনু মিয়ার।

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।