খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী ঢাকা বিভাগে, কম বরিশালে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ
সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী ঢাকা বিভাগে, কম বরিশালে

বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত জাতীয় পর্যায়ের গবেষণার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরণের মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। 

 

মাদক ব্যবহারকারীদের ৫৯ শতাংশ তরুণ, যারা ১৮-২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করে। এছাড়া মাদক ব্যবহারের ধরণ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক গাঁজা (ক্যানাবিস)।  যার ব্যবহারকারী আনুমানিক সংখ্যা ৬০ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৪ জন।  গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের কনফারেন্স হলের ৫০৪ নম্বর রুমে প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য উঠে আসে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করে।  গবেষণায় নেটওয়ার্ক স্কেল-আপ ম্যাথড (এনএসইউএম) ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে দেশের আটটি বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগভেদে মাদক ব্যবহারের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।  ময়মনসিংহ (৬.০২ শতাংশ), রংপুর (৬.০০ শতাংশ) ও চট্টগ্রাম (৫.৫০ শতাংশ) বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি।  অন্যদিকে রাজশাহী (২.৭২ শতাংশ) ও খুলনা (৪.০৮ শতাংশ) বিভাগে তুলনামূলকভাবে কম হার লক্ষ্য করা গেছে।

 

সংখ্যার বিচারে সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী বসবাস করছে ঢাকা বিভাগে (প্রায় ২২.৯ লাখ), এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১৮.৮ লাখ) ও রংপুর বিভাগ (প্রায় ১০.৮ লাখ)।  বিভাগভিত্তিক মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ চার হাজার ১১৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫০৩ জন, ঢাকা বিভাগে ২২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৭০ জন, খুলনা বিভাগে ৭ লাখ ২৬ হাজার ২১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৭ লাখ ৬০ হাজার ৮১২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫০৯ জন, রংপুর বিভাগে ১০ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৪১ জন।  সমগ্র দেশ (যেকোনো ধরণের মাদক ব্যবহারকারী) ৮১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ জন।

বেকারত্ব, বন্ধুমহলের প্রভাব, আর্থিক অনিশ্চয়তা, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপ ও অনানুষ্ঠানিক পেশায় যুক্ত থাকা মাদক ব্যবহারের প্রধান ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত হযেছে।  আশঙ্কাজনকভাবে, প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী মাদক সহজলভ্য বলে জানিয়েছে।

মাদক ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী মাদক ব্যবহারকারীর আনুমানিক সংখ্যা হলো গাঁজা (ক্যানাবিস) ৬০ লাখ ৭৯ হাজার ৯১৪ জন, মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ২২ লাখ ৯২ হাজার ৭০৫ জন, অ্যালকোহল ২০ লাখ ২০ হাজার ৯৭৭ জন, কোডিন ফসফেট (কফ সিরাপ) ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৬৬০ জন, হেরোইন ৩ লাখ ২২ হাজার ৬৭৭ জন, ঘুমের ওষুধ ৩০ লাখ ৫ হাজার ৬৯৪ জন, ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৪৭ ইনহেল্যান্ট (যেমন: আঠা, পেইন্ট থিনার) এবং ৩৯ হাজার ৬১ ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে। এছাড়া ১১ হাজার ৮৮৮ ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ৫ হাজার ৯৫ এলএসডি এবং ১৩ লাখ ৫ হাজার ৮৬৪ অন্যান্য মাদক ব্যবহার করে।  এই ধরণের মাদক গ্রহণকারীদের এইচআইভি, হেপাটাইটিস ও অন্যান্য সংক্রামক রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।  গবেষণায় জানানো হয়, একজন মাদক সেবনকারী মাসে কমবেশি ছয় হাজার টাকা ব্যয় করেন।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে, মাদক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই তরুণ বয়সের।  প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮-১৭ বছর বয়সে বা শিশু বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে।  ৫৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ১৮-২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে।

 

বাংলাদেশে মাদক ব্যবহারকারী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ খুবই সীমিত।  গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ১৩ শতাংশ মাদক ব্যবহারকারী কখনো চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন।  যদিও অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী মাদক ছাড়ার চেষ্টা করেছেন, পর্যাপ্ত মাদক নির্ভরতার চিকিৎসাসেবা, কাউন্সেলিং, সামাজিক ও আর্থিক সহাযতার অভাবে অধিকাংশই সফল হতে পারেনি।  মাদক ব্যবহারকারীরা চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা (৬৯ শতাংশ), কাউন্সেলিং (৬২ শতাংশ) এবং কর্মসংস্থান সহায়তাকে (৪১.২ শতাংশ) সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেছে।  ৬৮ শতাংশ মাদক ব্যবহারকারী সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রে অপবাদ ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

বিএমইউ এর ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম তার বক্তব্যে মাদক প্রতিরোধে পলিটিক্যাল কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এটা ভাবার কারণ নাই যে কিছু সংখ্যক খারাপ মানুষ মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদক থেকে দূরে রয়েছে।  প্রকৃতপক্ষে আমরা বা আমাদের সন্তানেরা মাদাকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। সবাইকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই এই ঝুঁকিকে মোকাবিলা করতে হবে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের মহাপরিচালক জনাব মো. হাসান মারুফ বলেন, বর্তমান সময় ও বাস্তবতা হলো দেশের মানুষ মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সামাজিক আন্দোলন, একটি সামাজিক যুদ্ধের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে মাদক এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। মাদক নির্মূলে পরিবার থেকেই হোক প্রতিরোধ তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসাসেবা বিস্তারের লক্ষ্যে ঢাকা বাদে আরও ৭টি বিভাগে ২০০ শয্যা করে ৭টি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প বর্তমান সরকার পাশ করেছে।

বিএমইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার তার বক্তব্যে মাদক সরবরাহের উৎস ও চাহিদা কমানোর ওপর গুরত্বারোপ করে বলেন, শিশুরা-তরুণরা যারা জীবনটাকে বুঝতে পারার আগেই মাদকাসক্ত হচ্ছে। অবশ্যই আমাদের সবাইকে মিলে এই শিশু ও তরুণ সমাজকে মাদক সেবনের ভয়াবহ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই হবে।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে মাদক সমস্যা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা। শুধুমাত্র দমনমূলক বা শাস্তিমূলক পদ্ধতির ওপর নির্ভর না করে প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক পুনঃএকত্রীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত জনস্বাস্থ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করাই এখন সময়ের দাবি। গবেষণার এই তথ্যভিত্তিক প্রমাণ ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি প্রণয়ন, কর্মসূচি পরিকল্পনা এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জনাব মোহাম্মদ গোলাম আজম, কো-ইনভেসটিগেটর অধ্যাপক ড. মো. তাজুল ইসলাম, কো-ইনভেসটিগেটর ফোরকান হোসেন, বিএমইউর পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইরতেকা রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক (সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল) ডা. মো. শাহিদুল হাসান বাবুল প্রমুখ।

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।