খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

দুর্বিষহ হয়ে উছেঠে বরিশাল সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
দুর্বিষহ হয়ে উছেঠে বরিশাল সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা

এইচ এম সোহেল ॥ বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরম আকার ধারন করেছে। সাথে বিষ ফোড়াঁ হয়ে উঠেছে হাসপাতালের অভ্যতরীন রোগ নির্নয় কেন্দ্রটি। তথ্য মতে, বরিশাল জেনারেল (সদর) হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা গ্রহন করে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে সাতশত রোগী এবং হাসপাতালে ভর্তি থাকে প্রায় সাড়ে চারশত রোগী। তবে এতো সংখ্যক রোগীর জন্য চিকিৎসক রয়েছে মাত্র ২৪ জন। একদিকে চিকিৎসক সংকট অপরদিকে হাসপাতালের অভ্যতরীন রোগ নির্নয় কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত সেবা না দিতে পারায় হাসপাতালের অভ্যান্তরে বেড়েই চলেছে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের দৌরাত্ম। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনের অভিযানে দালালদের আটক করা হলেও চিত্র বদলায় না এ হাসপাতালের। ফলে প্রতিধিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে দুরদুরান্ত থেকে আসা সাধারন রোগীদের।

হাসপাতালে রোগ নির্নয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পরিমাণ যন্ত্রপাতি থাকলেও সেগুলোর অর্ধেকই নষ্ট বা অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিদিন। একধিক রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা নির্ধারিত সময়ে আসলেও অনেকেই সময় দেন না। পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের পাঠানো হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। ওষুধের অভাবের অজুহাতে প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষকে দৌড়াতে হচ্ছে বাহিরের ফার্মেসিতে। জানা গেছে, হাসপাতালে বর্তমানে ৩৪জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ২৪ জন। এর মধ্যে বেশিরভাগই ইন্টার্ন বা প্রশিক্ষণরত চিকিৎসক। নার্স ও অন্যান্য সহায়ক কর্মীর সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রোগী রহিমা বেগম বলেন, আমি সকালে ভর্তি হই, বিকেল পর্যন্ত কোনো ডাক্তার দেখতে আসেননি। নার্সদের ডাকলে বলে ডাক্তার ব্যস্ত আছেন। হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা চেষ্টা করি রোগীদের সেবা দিতে, কিন্তু জনবল কম, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব বড় বাধা। এ ছাড়াও বরিশাল জেনারেল সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে সাড়ে তিনশত রোগী ভর্তি থাকে। এসকল রোগীতের রোগ নির্ণয়ের জন্য নানান পরিক্ষা নিরিক্ষা করাতে হয়। তবে হাসপাতালে সকল পরিক্ষার ব্যবস্থা না থাকার কারনে রোগীদের যেতে হয় বাহিরের ডায়াগস্টিক সেন্টারে। হাসপাতালের ল্যাবের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী পরীক্ষা করতে আসে। কিন্তু বায়োকেমিস্ট্রি ও হরমোন পরীক্ষার মেশিন প্রায়ই বিকল থাকে। টেকনিশিয়ানও কম। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে দালালদের হাতে নিজেদের সপে দিতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ল্যাবে টেকনোলজিস্ট সংকট রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন অন্তত ছয়জন টেকনোলজিস্ট। এছাড়া বেশ কয়েকটি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট ও কেমিক্যালেরও ঘাটতি রয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট আছে, তবে আমরা পর্যাপ্ত সেবা দিতে সচেষ্ট। নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামতের প্রক্রিয়া চলছে, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছ থেকে নতুন সরঞ্জাম চাওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন রোগী-চিকিৎসক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সেবাকর্মীদের প্রশিক্ষণ, এবং হাসপাতাল পরিচালনায় জবাবদিহিতা। প্রতিদিন শত শত রোগী সেবা নিতে আসে এই হাসপাতালে, কিন্তু তাদের অভিযোগ একটাই ডাক্তার আছেন, সেবা নেই। নাগরিকদের প্রত্যাশা স্বাস্থ্যসেবার নামে ভোগান্তি নয়, বরং প্রকৃত সেবার নিশ্চয়তা দিক প্রশাসন।

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।