খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

বরগুনায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ৮:১৯ অপরাহ্ণ
বরগুনায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে ৩০ কোটি টাকার তিন প্রকল্প

বরগুনা পৌরসভায় প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি প্রকল্প সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

তাদের অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে প্রকল্পগুলো অচল হয়ে পড়েছে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বরগুনা শহরের বর্জ্য সমস্যা নিরসনে সদর ইউনিয়নের পিটিআই এলাকায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে সার উৎপাদনের কথা থাকলেও উদ্বোধনের চার বছর পরও এটি চালু করা যায়নি। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে প্রকল্পটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে থাকায় বিপাকে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা। স্থানীয় অধিবাসী কালাম বলেন,

বর্জ্য পরিশোধনাগারের ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে পুরো এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়েছে। এখন ঘরে ঘরে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। এ থেকে আমরা পরিত্রাণ চাই।

অন্য বাসিন্দা সালেহ বলেন, ‘এখানে সার উৎপাদন করার কথা ছিল, কিন্তু তারা এখন পরিবেশ দূষণ করছে। এ কারণে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য কেউ এগিয়ে আসছে না। আমরা অত্যন্ত দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি এই বর্জ্য পরিশোধনাগারের কারণে।’

শহরের পানির সংকট নিরসনে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়। এ দুটি জলাধারের ধারণক্ষমতা ২০ লাখ লিটার। কিন্তু নাগরিকদের অভিযোগ, প্রকল্পগুলো কেবল প্রদর্শনীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, জনসেবায় কোনো সুফল মিলছে না।

ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন বলেন, ‘আমাদের পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করছে। যে পরিমাণ পানি আমাদের প্রয়োজন তা আমরা পাই না। পানির স্পিড কম থাকায় নামে মাত্র পানি পাচ্ছি। ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত উঁচু জলাধার থেকে কোনো সুফল আমরা পাইনি।’

কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাসার সামনে একটি উঁচু জলাধার নির্মাণ করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার এটি চালুর চেষ্টা হলেও কার্যকর করা যায়নি। মূলত এটি একটি সম্পূর্ণ লস প্রজেক্ট। আমাদের জানানো হয়েছে, এটি আদৌ চালু করা সম্ভব নয়।

প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর অডিটরিয়ামের কাজ ২০২০ সালের আগস্ট থেকে বন্ধ রয়েছে। পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, ভৌত কাঠামোর মাত্র ৫৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬৮ শতাংশ বিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অসম্পূর্ণ ভবনে এখন অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি মাদকসেবীদের আখড়া গড়ে উঠেছে।

চরকলনী এলাকার বাসিন্দা ছগির হোসেন টিটু বলেন, অর্ধনির্মিত কমপ্লেক্স ভবনটি অরক্ষিত থাকার কারণে মাদকসেবীদের আড্ডা বসছে। ভবনটি পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পুরোপুরি নির্মাণ শেষ করে চালুর কোনো উদ্যোগ নেই।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এসব প্রকল্প জনস্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিস্বার্থে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই না করেই প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ফলে প্রকল্পগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুরাদ খান বলেন, ‘সরকারি অর্থ অপচয়ের এই নজির প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন।’ বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম না হলে আজ জনগণ এর সুফল ভোগ করত।

জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘অপরিকল্পিত প্রকল্প ও লোপাটের দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। জড়িতদের আনতে হবে আইনের আওতায়।’

বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘অপরিকল্পিত এই প্রকল্প তিনটি লুটপাটের কারণে এমন অবস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমান পৌর কর্তৃপক্ষের বিষয়টি দুদকের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা উচিত এবং আইনগত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।

বরগুনা পৌরসভার প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, ‘এই প্রকল্পের কোনো কাগজপত্র আমাদের কাছে নেই। প্রকল্পগুলো যে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, সেটাও বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রকল্পের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আমরা কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছি না।’

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

রাসেল হোসেন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির দুইটি আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ উভয় আসন বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় আর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপির প্রার্থীরা।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট থাকলে বিএনপির প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী ড.ফয়জুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদির ।

এছাড়া এ আসনে মোরগ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থি মো. সাব্বির আহমেদ, তারা মার্কায় জেএসডির মোঃ সোহরাব হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ কামরুজ্জামান খান, হাস প্রতীকে স্বতন্ত্রে এম মঈন আলম ফিরোজী, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি জেপি থেকে মোঃ রুবেল হাওলাদার বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর সাথে। এছাড়া এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন আম, জেএসডির মাসুদ পারভেজ তারা, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ট্রাক এবং স্বতন্ত্র থেকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার কলস ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “আগের মত অবস্থা নেই।

নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন করে ভাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার আমরা দুটি আসনেই জয়ী হব বলে আশা রাখছি।” ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে কে সাধারন মানুষ ভোট দিবে না। ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইংশা আল্লাহ।”