খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

সাজা হয়নি, তবুও ৩০ বছর কারাবন্দি কনু মিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
সাজা হয়নি, তবুও ৩০ বছর কারাবন্দি কনু মিয়া

বার্তা ডেস্ক : মামলার বিচার হয়নি, সাজাও হয়নি। তারপরও কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেটেছে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন। এবার মুক্ত আকাশে ফিরেছেন কনু মিয়া। মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। কনু মিয়ার বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার সিংহগ্রাম গ্রামে। পিতা মৃত চিনি মিয়া। যুবক বয়সে কনু মিয়া ছিলেন মানসিক রোগী।

বিষয়টি নিশ্চিত করে লিগ্যাল এইড আইনজীবী এমএ মজিদ বলেন, এটি অত্যন্ত অমানবিক। কোনো বিচার ছাড়া একজন মানুষকে ৩০ বছর কারাগারে আটকে রাখা হয়। তাও আবার মানসিক রোগী। এটি কিভাবে একটি সভ্য সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে। কনু মিয়া মুক্তি পাওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। একজন মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছেন এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে। ভবিষ্যতে যেন আর কেউ বিনাবিচরে কারাভোগ না করেন সেই দাবি জানান তিনি।

হবিগঞ্জের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হাই বলেন, ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর একজন মানসিক রোগী আসামির জামিনের উদ্যোগ নেওয়া একটি মহতী উদ্যোগ। আমি লিগ্যাল এইড অফিসার মো. আব্বাছ উদ্দিন ও লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এমএ মজিদকে ধন্যবাদ জানাই।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ মে ঘুমের ঘোরে জন্মদাত্রী মা মেজেষ্টর বিবিকে কুদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন কনু মিয়া। পরে গ্রামবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেন। পরের দিন ৩ লাইনের একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন কনু মিয়া। তখন থেকেই তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। এক দুই বছর নয় একাধারে ৩০ বছর ২ মাস ১৯ দিন কেটেছে কারাগারে।

প্রথমে ভাই এবং স্বজনরা কনু মিয়াকে দেখতে কারাগারে গেলেও একটা সময় আর যাওয়া হয়নি। পরিবারের অনেক সদস্য ভুলেই গিয়েছেন কনু মিয়া জীবিত না মারা গেছেন। ৩০ বছরে পরবর্তী প্রজন্মের অনেকে জানেনই না সিংহগ্রাম গ্রামে মৃত চিনি মিয়ার এক ছেলে আছে, যার নাম কনু মিয়া। সেই কনু মিয়া এখনো জীবিত। পরিবার আত্মীয়স্বজনও কনু মিয়াকে ভুলে গেছেন।

এদিকে সম্প্রতি কনু মিয়ার বিনাবিচারে আটক থাকার বিষয়টি নজরে আসে হবিগঞ্জের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) আব্বাছ উদ্দিনের। তিনি কনু মিয়ার আইনগত প্রতিকার পাওয়ার উদ্যোগ নেন। মেজেষ্টর বিবি হত্যা মামলার বাদী নিহতের ছেলে মনু মিয়ার সন্ধান পান তিনি।

একই সঙ্গে মনু মিয়ার আরেক ভাই নাসু মিয়ার খোঁজখবর নিয়ে তাদের লিগ্যাল এইড অফিসে নিয়ে আসেন সিনিয়র সহকারী জজ মুহাম্মদ আব্বাছ উদ্দিন। কনু মিয়ার জামিনের জন্য সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মনু মিয়া ও নাসু মিয়া। তারা কনু মিয়ার মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

হত্যা মামলার একমাত্র আসামি কনু মিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। মানসিক রোগে আক্রান্ত আসামির জামিন মঞ্জুর হলে তার নিরাপত্তা, তার দ্বারা আর যাতে কেউ আক্রান্ত না হয় তার প্রাথমিক নিশ্চয়তা, খাদ্য বাসস্থানের নিশ্চয়তা, কোর্টের নির্দেশ মতো আসামিকে হাজির করা ইত্যাদি বিষয় সম্পৃক্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে লিগ্যাল এইডের প্যানেলভুক্ত আইনজীবী এমএ মজিদের সঙ্গে কথা বলেন লিগ্যাল এইড অফিসার আব্বাছ উদ্দিন।

সার্বিক দিক বিবেচনায় গত ১৪ জুলাই হবিগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজতি কনু মিয়ার জামিন আবেদন করেন লিগ্যাল এইডের আইনজীবী এমএ মজিদ। জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম আসামি কনু মিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন। এতে দীর্ঘ ৩০ বছরেরও বেশি সময় পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির সুযোগ তৈরি হয় কনু মিয়ার।

কাজী বাবুল’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

কাজী রাসেল ।।
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়া জগতের অভিভাবক, সাংবাদিকদের বাতিঘর, দেশের শীর্ষ আঞ্চলিক দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৪ সালের ২ মার্চ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২ মে বরিশালের কাশীপুর কলাডেমা সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। খবর গ্রুপ পাবলিকেশনস এর বরিশালের ব্যুরো চিফ হিসেবে সাংবাদিকতায় কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন তিনি। আধুনিক সাংবাদিকতার কারিগর কাজী বাবুল ছিলেন বরিশালের সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক। সততা ও সমাজ সেবায় তিনি ছিলেন অনুকরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সাংবাদিকতার পেশাগত অবস্থান সুদৃঢ করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের বার্তার প্রকাশনা শুরু করে ছিলেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক রঙিন দৈনিক। তিনি ঐতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। পরে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের ১৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিশ্বের বহুদেশ ভ্রমন করেছেন। লাভ করেছেন বহু সম্মাননা। কর্মজীবনে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। যার মধ্যে ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা’ উল্লেখযোগ্য।

বর্ণাঢ্য জীবনে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বরিশালের প্রিয় মুখ কাজী বাবুল। কঠোর শ্রম ও সূক্ষ্ম মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি। হাজার পাতার দুর্লভ একটা উপন্যাসের মতো ছিলো তাঁর জীবন। আত্মা তাঁর দেহ ত্যাগ করলেও কর্ম তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। মানুষের হৃদয়ে আজও তাঁর স্মৃতি অম্লান। চিরকালই তিনি সবার প্রিয় মানুষ হয়ে থাকবেন আকাশের ধ্রুব তারার স্নিগ্ধতায়।

সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলন ও বরিশালের উন্নয়নে তিনি সরব ছিলেন। মঈন-ফকরুদ্দীনের শাসন আমলে মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিলো। সাদা পোশাকে একটি সংস্থার লোকজন ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ঐ সময় কাজী বাবুলকে অন্ধকার টর্চার সেলে (আয়না ঘরে) রেখে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনকারীরা বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলার বাদী হতে বলে। তারা এসময় তাঁকে প্রথমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করাতে চেষ্টা চালায়। পরে কাজী বাবুল তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অন্ধকার টর্চার সেলে বা আয়না ঘরে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালানো হয়।

অমানবিক নির্যাতনের পরও তিনি বিএনপির কর্নধার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং তাদের কে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী হবেন জনাব তারেক রহমান। সেদিনের কারারুদ্ধ কাজী বাবুল আজ আর জীবিত নেই। কিন্তু তাঁর ভবিষৎবাণী আজ দিনের আলোর মতো উজ্জল এবং দৃশ্যমান বাস্তব।
সেদিন কাজী বাবুল প্রাণভয়ে কিংবা প্রলোভনে পরে তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং নিজে মিথ্যা মামলায় ১৭ বছর সাজা মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ঢাকা জেলখানায় মাসের পর মাস নির্যাতনের কারনে তাঁর দুটি কিডনীই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু নিজের বিবেককে জীবিত রেখে ছিলেন আমৃত্যু।

জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যে মানুষটি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তিনি নেই। মৃত্যুর ২/৩ মাস আগে একদিন সকালে নাস্তা খেতে খেতে তিনি আমাদের বলেছিলেন, “আমি আর বেশি দিন নেই। মরতে তো সবাইকেই হবে। তবে শীগ্রই তারেক রহমান বীরের মতো এদেশে ফিরবেন এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিবেন। সেই দিনটা তোমরা দেখতে পারবে। কিন্তু আমি সেদিন থাকবো না।” মহান আল্লাহ তায়ালা আমার বাবাকে জান্নাত দান করুন, আমিন।

 

বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

বরিশালের উজিরপুরে নিখোঁজের একদিন পর মোবারক হালাদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশসংলগ্ন এলাকা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোবারক হালাদার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। পরে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।