খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ভোলায় দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে লঙ্কা কান্ড, আহত ১৫

ভোলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
ভোলায় দুই ব্যবসায়ীর দ্বন্দ্বে লঙ্কা কান্ড, আহত ১৫

ভোলায় ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর জখম ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের মাদরাসা বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া দুই ইউনিয়ন হলো আলীনগর ও চরসামাইয়া ইউনিয়ন। সংঘর্ষে আলীনগর ইউনিয়নের আহতরা হলেন- মো. ছালেম, ইউসুফ, মহিন হাওলাদার, নুর ইসলাম, মাসুম, সজিব ও আল আমিন। তাদের মধ্যে ছালেম ও ইউসুফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে শের-ই বাংলা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে চরসামাইয়া ইউনিয়নের আহতরা হলেন- মো. ফেরদৌস, জুলু তালুকদার, হিরন হাওলাদার, সুমন ও বাবুল। তাদের মধ্যে জুলু তালুকদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসিব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মালিক ফেরদৌস ও একই ইউনিয়নের স’মিল ব্যবসায়ী মো. আব্বাসের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফেরদৌস আব্বাসকে ফোন করে মাদরাসা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনেন। একপর্যায়ে ফেরদৌসের ম্যানেজার চরসামাইয়া ইউনিয়নের মো. পিন্টু ও সমিল ব্যবসায়ী আব্বাসের ম্যানেজার আলীনগর ইউনিয়নের মহিন হাওলাদার বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাটির মীমাংসার জন্য স্থানীয়রা বসার প্রস্তুতি নিলে দুই ইউনিয়নের শতাধিক বাসিন্দা দা, রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মাদরাসা বাজারে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

আলীনগর ইউনিয়নের মো. রাসেল অভিযোগ করে বলেন, ‘চরসামাইয়া ইউনিয়নের ফেরদৌস মেম্বারের ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ডিজিটাল ওজন মাপার স্কেলে আব্বাস তার স’মিলের গাড়ির ওজন না মাপানোর কারণে ফেরদৌস ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধামকি দেন। এ ঘটনায় ফেরদৌসের ম্যানেজার মো. পিন্টু আব্বাসের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করলে আব্বাসের সঙ্গে থাকা ম্যানেজার মহিন হাওলাদার প্রতিবাদ করেন।

মহিন প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করেন ফেরদৌসের লোকজন। পরবর্তীতে মহিনকে মারধরের খবর পার্শ্ববর্তী মাদরাসা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে রক্ষা করতে গেলে ফেরদৌস মেম্বারের লোকজন হাওলাদার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলায় তাদের প্রায় ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে বরিশাল নেওয়া হয়েছে।’

পাল্টা অভিযোগ করে চরসামাইয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. পিন্টু বলেন, ‘গত ২-৩ মাস ধরে বাকিতে সমিল মালিক আব্বাস প্রতিদিন ফেরদৌস মেম্বারের ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ডিজিটাল স্কেলে সমিলের লাকড়ি ও ভূসির গাড়ির ওজন মাপ দেন। সোমবার ফোন দিয়ে বাকি টাকা চাওয়াতে আলীনগর ইউনিয়নের লোকজন অতর্কিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। হামলায় তাদের ১০-১২ আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে জুলু তালুকদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।’

ভোলা সদর সদর মডেল থানার ওসি আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখানো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে কোরবানির হাট কাঁপাবে ‘লাল মিয়া’

বরিশালের কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার মানিকাঠী গ্ৰামের বিশাল আকৃতির ষাঁড় ‘লাল মিয়া’। প্রায় ১ টন ৬ কেজি (১০০৬ কেজি) ওজনের এই শাহিওয়াল জাতের ষাঁড়টি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর লাল মিয়াকে দেখতে।

জানা গেছে, বাবুগঞ্জের মানিকাঠীর যুবক মো. মামুন হোসেনের গড়ে তোলা ‘ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম’ এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন এই বিশালাকৃতির ষাঁড়টি। প্রায় চার বছর ধরে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ষাঁড়টিকে।

খামার মালিক মামুন  বলেন, কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা কৃত্রিম মোটাতাজাকরণ ছাড়াই ঘাস, ভুসি ও প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে বড় করা হয়েছে লাল মিয়াকে। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ‘লাল মিয়া’র দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।

শুধু ‘লাল মিয়া’ই না, খামারটিতে বর্তমানে গাভীসহ মোট ২৬টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৭টি ষাঁড় বিক্রির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলোর দাম ১ লাখ থেকে ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত। পাশাপাশি রয়েছে ৭টি দুধেল গাভী।

খামার মালিক মামুন হোসেনের সফলতার গল্পও অনুপ্রেরণার। ঢাকায় একটি বেসরকারি চাকরি ছেড়ে ২০১৫ সালে মাত্র তিনটি গরু দিয়ে শুরু করেছিলেন তার যাত্রা। ধীরে ধীরে কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সহযোগিতায় ছোট সেই উদ্যোগ আজ একটি সফল খামারে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ‘লাল মিয়া’ শুধু একটি গরু না, এটি মামুন হোসেনের পরিশ্রম, ধৈর্য ও স্বপ্নের প্রতীক। অনেক তরুণ এখন তার খামার দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন স্বনির্ভর হওয়ার পথে হাঁটতে।

মামুন বলেন, চাকরির অপেক্ষায় না থেকে তরুণরা উদ্যোক্তা হলে নিজেদের পাশাপাশি সমাজের জন্যও অবদান রাখতে পারবেন।

মামুনের বড় ভাই লতিফুর রহমান লিটন বলেন, শুরু থেকেই পরিবার মামুনের পাশে ছিল। তার পরিশ্রম ও লক্ষ্যপূরণের মানসিকতাই আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। মামুনের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যেও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। অনেকে তার খামার পরিদর্শন করে খামার ব্যবসায় আগ্রহী হচ্ছেন।

প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
প্রবীণ সাংবাদিক ও আইনজীবী নেগাবান মন্টুর ইন্তেকালে, বিভিন্ন মহলের শোক

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মু. ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

পারিবারিক সূত্র বলেছে, ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টু স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শ‌নিবার বাদ এশা আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সন্ধ্যার পর শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ বরিশাল প্রেসক্লাবে নেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রবীণ সাংবাদিক ইসমাইল হোসেন নেগাবান মন্টুর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিল‌কিস আক্তার জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, সদর আস‌নের সংসদ সদস্য (এম‌পি) ম‌জিবর রহমান সারওয়ার, ব‌রিশাল প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনি‌টি এবং নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশালসহ বিভিন্ন ব্যক্তি-বিশেষ।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ

লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরাইলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।  খবর আল জাজিরার। 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা লঙ্ঘন করে চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিনত জবেইল জেলার কালাউইয়া ও তিবনিন এলাকায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দুটি স্থাপনায় পৃথক হামলা চালানো হয়েছে।

অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এখন তৃতীয় সপ্তাহ অতিবাহিত হতে চলছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, ওই সময়ের পর থেকে ১৩০টির বেশি ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১০৩ জন লেবানিজ চিকিৎসাকর্মী নিহত এবং ২৩০ জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহরের সিভিল ডিফেন্স প্রধান আলি সাফিউদ্দিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি দিন আমরা হুমকির মধ্যে আছি। আমরা প্রতিনিয়ত ভাবি— বেঁচে থাকব, নাকি মারা যাব। এখানে কাজ করতে এসে আমরা যেন আগেই জীবন ছেড়ে দিয়েছি। এত মানুষ হারিয়েছি যে মনে হয় আমরাও যেন আর বেঁচে নেই।’

টাইর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক উবাইদা হিত্তো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন স্পষ্টভাবে বলা আছে যে সশস্ত্র সংঘাতে চিকিৎসাকর্মী ও উদ্ধারকর্মীদের সুরক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এই যুদ্ধফ্রন্টে প্রশ্ন হলো, আরেকটি হামলা হবে কি না— তা নয়; বরং হামলার পর সাহায্যের আহ্বানে সাড়া দেয়ার মতো কতজন মানুষ অবশিষ্ট থাকবে।

গাজা ও লেবানন— দুই জায়গাতেই কাজ করা যুদ্ধ সার্জন ও মানবিক সহায়তাকর্মী ডা. তাহির মোহাম্মদ বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডে তিনি দুই অঞ্চলের মধ্যে মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজায় আমরা নিয়মিত সহকর্মীদের মরদেহ হাসপাতালে আসতে দেখেছি। আমার সহকর্মী, নার্স, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ইসরাইলি  হামলায় নিহত হতে দেখেছি। লেবাননেও স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার একই নীতি দেখা যাচ্ছে।