খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২

বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র

কাজী রাফি ॥ বরিশাল সিটি করপোরেশনের একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র। উদ্ধার হয়েছে খাল, সড়ক ও ফুটপাত। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ হয়েছে অনেকাংশে। বিসিসি’র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগরবাসী। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবী জানান তারা।

জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপেরশেনের প্রশাসক হিসেবে রায়হান কাওসারকে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে কঠোর হস্থে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার নির্দেশনায় এমন দুঃসাহসিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কোন কোন উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসক রায়হান কাওসার নিয়েই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে উদ্ধার হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ন খাল, সড়ক ও ফুটপাত। এছাড়া দখলমুক্ত হয়েছে সিটি করপোরেশনের জমি। উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে বিসিসি’র প্রশাসক রায়হান কাওসারের বক্তব্য, “এটি কোনো এককালীন অভিযান নয়, বরং এটি একটি সিস্টেমেটিক ক্লিনজিং ক্যাম্পেইন।”

এর আগে স্কুল-কলেজের সামনের ফুটপাতসহ নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকার ফুটপাত ছিলো হকারদের দখলে। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন দোকান-পাট সহ বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ও স্থাপনা। উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত করা হয় সে সকল রাস্তা ও ড্রেন। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে হ্রাস পেয়েছে জলাবদ্ধতা এবং কমেছে মশার উপদ্রব। এছাড়া নগরীর প্রধান সড়কগুলেতে কমেছে যানজট।

বিসিসি সূত্র জানায়, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ফুটপাত ও ড্রেন পরিস্কার, মশার বিস্তার রোধে নগরীর কাশিপুর চৌমাথা থেকে বিল্লবাড়ি সড়ক (মাজার) পর্যন্ত খালের পাশের ২৫/৩০ টি স্টল, মড়ক খোলার পোল থেকে লাকুটিয়া খালের পাশের অবৈধ স্থাপনা, লাদেন সড়কের অবৈধ স্থাপনা, শের-ই বাংলা সড়ক ও জিয়া সড়কের খালের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা, পরেশ সাগর মাঠ, সদর গার্লস্ স্কুলের সামনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল সংরক্ষণে কংক্রিট বাউন্ডারি ওয়াল তৈরী করতে হবে, স্মার্ট ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে, প্রতি মাসে ‘মাসিক ক্লিন সিটি ডে’ পালন করতে হবে। এছাড়া দখল রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন তারা।”

এদিকে কঠোর উচ্ছেদ অভিযানে নগরীতে স্বস্তি ফিরলেও জীবিকা সংকটে পরেছে ফুটপাত ও সড়কের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে শতশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আজ তারা বেকার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার দাবী জানান তারা।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাস বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা ও মশার বিস্তার রোধে ড্রেন এবং খালের দুপাশে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা আহমান উদ্দিন রোমেল বলেন, উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশাসকের নির্দেশে অবৈধভাবে ফুটপাত, খাল ও সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান চলবে।

 

কাজী বাবুল’র ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

কাজী রাসেল ।।
প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
তাঁর স্বপ্ন বেঁচে আছে কিন্তু তিনি নেই

দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়া জগতের অভিভাবক, সাংবাদিকদের বাতিঘর, দেশের শীর্ষ আঞ্চলিক দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ।

২০২৪ সালের ২ মার্চ রাত ৮টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বারডেম) এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, ২ পুত্র সহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন ও গুনাগ্রাহী রেখে গেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২ মে বরিশালের কাশীপুর কলাডেমা সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে তাঁর জন্ম। তিনি ছাত্রাবস্থা থেকেই লেখালেখির সাথে জড়িত ছিলেন। খবর গ্রুপ পাবলিকেশনস এর বরিশালের ব্যুরো চিফ হিসেবে সাংবাদিকতায় কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন তিনি। আধুনিক সাংবাদিকতার কারিগর কাজী বাবুল ছিলেন বরিশালের সব শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে ভালবাসা, শ্রদ্ধা ও আস্থার প্রতীক। সততা ও সমাজ সেবায় তিনি ছিলেন অনুকরণীয়।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে সত্য, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সাংবাদিকতার পেশাগত অবস্থান সুদৃঢ করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের বার্তার প্রকাশনা শুরু করে ছিলেন। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বাধিক প্রচারিত আঞ্চলিক রঙিন দৈনিক। তিনি ঐতিহ্যবাহী বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। পরে বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারনে তিনি বরিশাল প্রেসক্লাবের ১৪ বার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে তাঁর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। সাংবাদিক হিসেবে তিনি বিশ্বের বহুদেশ ভ্রমন করেছেন। লাভ করেছেন বহু সম্মাননা। কর্মজীবনে তিনি একাধিক বই লিখেছেন। যার মধ্যে ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা’ উল্লেখযোগ্য।

বর্ণাঢ্য জীবনে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বরিশালের প্রিয় মুখ কাজী বাবুল। কঠোর শ্রম ও সূক্ষ্ম মেধার অধিকারী ছিলেন তিনি। হাজার পাতার দুর্লভ একটা উপন্যাসের মতো ছিলো তাঁর জীবন। আত্মা তাঁর দেহ ত্যাগ করলেও কর্ম তাঁকে অমরত্ব দিয়েছে। মানুষের হৃদয়ে আজও তাঁর স্মৃতি অম্লান। চিরকালই তিনি সবার প্রিয় মানুষ হয়ে থাকবেন আকাশের ধ্রুব তারার স্নিগ্ধতায়।

সাংবাদিকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্দোলন ও বরিশালের উন্নয়নে তিনি সরব ছিলেন। মঈন-ফকরুদ্দীনের শাসন আমলে মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিলো। সাদা পোশাকে একটি সংস্থার লোকজন ঢাকার গুলশানের বাসা থেকে তাঁকে সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায়। ঐ সময় কাজী বাবুলকে অন্ধকার টর্চার সেলে (আয়না ঘরে) রেখে নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনকারীরা বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলার বাদী হতে বলে। তারা এসময় তাঁকে প্রথমে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে রাজি করাতে চেষ্টা চালায়। পরে কাজী বাবুল তাদের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অন্ধকার টর্চার সেলে বা আয়না ঘরে রেখে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালানো হয়।

অমানবিক নির্যাতনের পরও তিনি বিএনপির কর্নধার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং তাদের কে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী হবেন জনাব তারেক রহমান। সেদিনের কারারুদ্ধ কাজী বাবুল আজ আর জীবিত নেই। কিন্তু তাঁর ভবিষৎবাণী আজ দিনের আলোর মতো উজ্জল এবং দৃশ্যমান বাস্তব।
সেদিন কাজী বাবুল প্রাণভয়ে কিংবা প্রলোভনে পরে তারেক রহমান এর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাজানো মামলার বাদী হননি। বরং নিজে মিথ্যা মামলায় ১৭ বছর সাজা মাথা পেতে নিয়েছিলেন। ঢাকা জেলখানায় মাসের পর মাস নির্যাতনের কারনে তাঁর দুটি কিডনীই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু নিজের বিবেককে জীবিত রেখে ছিলেন আমৃত্যু।

জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত যে মানুষটি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, আজ তিনি নেই। মৃত্যুর ২/৩ মাস আগে একদিন সকালে নাস্তা খেতে খেতে তিনি আমাদের বলেছিলেন, “আমি আর বেশি দিন নেই। মরতে তো সবাইকেই হবে। তবে শীগ্রই তারেক রহমান বীরের মতো এদেশে ফিরবেন এবং দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দায়িত্ব নিবেন। সেই দিনটা তোমরা দেখতে পারবে। কিন্তু আমি সেদিন থাকবো না।” মহান আল্লাহ তায়ালা আমার বাবাকে জান্নাত দান করুন, আমিন।

 

বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধের মরদেহ মিলল সন্ধ্যা নদীর পাড়ে

বরিশালের উজিরপুরে নিখোঁজের একদিন পর মোবারক হালাদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশসংলগ্ন এলাকা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মোবারক হালাদার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। পরে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে মেজর জলিল সেতুর উত্তর পাশের সন্ধ্যা নদীর পাড়ে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মরদেহ থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকের মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে তার নির্ধারিত দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মন্ত্রিসভা ও সচিবদের প্রায় সব বৈঠকই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করেন। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।