খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

কলাপাড়া প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২২ অপরাহ্ণ
দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া ছুটোছুটি আর রোদেলা দুপুরে সবুজ ঝাউবনের ছায়ায় বিশ্রামের জন্যই পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে বলা হয় ‘সাগর কন্যা’। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য যে কয়েকটি আকর্ষণীয় উপাদান রয়েছে, সেগুলোর একটি লাল কাঁকড়া। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ক্রমাগত সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, সৈকতের বনাঞ্চল ধ্বংস এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল। ফলে হুমকিতে পড়েছে লাল কাঁকড়া, ক্রমেই কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা।

সৈকতের সবুজ বেষ্টনী এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে গঙ্গামতি এবং কাউয়ারচর সমুদ্র সৈকতটি এখনো নিরাপদ পর্যটক বিচরণক্ষেত্র। সমুদ্রের ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলায় পর্যটকদের বিচরণে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটি আর নেই। কাউয়ার চরের লাল কাঁকড়ার বিচরণ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক।

এতে ধ্বংস হচ্ছে কাঁকড়ার বিচরণক্ষেত্র, মোটরসাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে লাল কাঁকড়া। এছাড়া কাঁকড়া ধরে ছবি তোলার কারণেও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জেলে ইব্রাহীম বলেন, আগে এই যায়গায় অসংখ্য লাল কাঁকড়া থাকতো। এখন মানুষের হিংস্রতায় কাঁকড়ার সংখ্যা কমে গেছে।

কিছু দূরে ঝাউ বনের ভেতর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাসী। আবার কেউ কেউ সমুদ্রের ভাঙ্গনে উপড়ে পড়া গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি চক্র দিনে ও রাতে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে উজাড় হচ্ছে বন আর আবাসস্থল হারাচ্ছে লাল কাঁকড়ার দল। লাল কাঁকড়া সংরক্ষণের জন্য সৈকতের পশ্চিম প্রান্তের লেম্পুর বন এলাকায় গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জের সহযোগিতায় গাছের ডালপালা দিয়ে কাঁকড়ার আশ্রয়স্থল তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।

এ সময় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, লাল কাঁকড়া রক্ষায় আমরা নিজ উদ্যোগে সীমিত আকারে কাজ করছি। সমুদ্রের ভাঙনে বন এবং লাল কাঁকড়া বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে লেম্পুবনে যানবাহন চলাচল রোধে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। লাল কাঁকড়া রক্ষায় সরকারি এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সহযোগিতা আর সচেতনতা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, সরকারী গাছ কাটা বা বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন করে ঝাউবন সৃষ্টির চেষ্টা করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সবুজ দেয়াল তৈরিতে সকলের সহযোগিতায় কাজ করছি।

উপকূল পরিবেশ আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, “২০২১ সালে আমরা প্রথম লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য আলাদা অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানাই। তখন এগিয়ে আসে ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ। সাময়িকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকসই হয়নি। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর উপড়ে পড়ছে জাতীয় উদ্যানের গাছ। অতিরিক্ত লবনাক্ততায় বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা। বালুক্ষয় থেকে রাস্তা রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও লাল কাঁকড়া ও পরিবেশ রক্ষাকারী এবং সবুজ দেয়াল খ্যাত গাছ রক্ষায় এখনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সরকার। লেম্পুর বন এলাকার চার কিলোমিটার বনাঞ্চল এবং কাউয়ারচরের ৮ কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চল ও লাল কাঁকড়া বিচরণস্থল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরো ভয়াবহ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লাল কাঁকড়া আমাদের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এরা সৈকতের মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। আবাসভূমি ধ্বংস হলে পুরো বাস্তুসংস্থানের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বন উজাড় ও সৈকতের প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে লাল কাঁকড়ার প্রজনন ব্যাহত করছে। বন ও কাঁকড়া রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো: বখতিয়ার রহমান বলেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউএসএআইডির অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ইকোফিশ-২ প্রকল্প কুয়াকাটা সৈকতের দুই প্রান্তে বেড়া দিয়েছিলো যাতে লাল কাঁকড়া নির্বিঘ্নে চলাচল ও প্রজনন করতে পারে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে বেড়ার ভেতরে কাঁকড়ার সংখ্যা বাহিরের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি। পাশাপাশি যেখানে মানুষের উপস্থিতি কম, সেখানে কাঁকড়ার আকার বড়, রঙ উজ্জ্বল এবং সংখ্যাও বেশি থাকে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, লাল কাঁকড়া মাটি খুঁড়ে এবং মৃত উদ্ভিদ-পাতা খেয়ে মাটিকে পুষ্টিকর ও বায়ু নিয়ন্ত্রিত রাখে। এতে মাটি উর্বর হয়, পানির শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; নতুন গাছ জন্মায়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়, যা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, সৈকত ও উপকূল রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক।

এ বিষয়ে ওয়েব ফাউন্ডেশন কলাপাড়ার ‘জলবায়ু সু-শাসন ও শক্তিকরণ প্রকল্প’ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে অনেক আগ থেকেই। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চল বা সমুদ্র সৈকতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল কাঁকড়া বাসস্থান ও প্রজনন স্থান হারাচ্ছে। ফলে কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা। পাশাপাশি মাটির লবণাক্ততা এবং উপযোগী পানি স্বল্পতায় লাল কাঁকড়ার জীবন চক্র হুমকিতে পড়েছে।

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।