খুঁজুন
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

কলাপাড়া প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২২ অপরাহ্ণ
দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া ছুটোছুটি আর রোদেলা দুপুরে সবুজ ঝাউবনের ছায়ায় বিশ্রামের জন্যই পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে বলা হয় ‘সাগর কন্যা’। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য যে কয়েকটি আকর্ষণীয় উপাদান রয়েছে, সেগুলোর একটি লাল কাঁকড়া। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ক্রমাগত সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, সৈকতের বনাঞ্চল ধ্বংস এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল। ফলে হুমকিতে পড়েছে লাল কাঁকড়া, ক্রমেই কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা।

সৈকতের সবুজ বেষ্টনী এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে গঙ্গামতি এবং কাউয়ারচর সমুদ্র সৈকতটি এখনো নিরাপদ পর্যটক বিচরণক্ষেত্র। সমুদ্রের ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলায় পর্যটকদের বিচরণে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটি আর নেই। কাউয়ার চরের লাল কাঁকড়ার বিচরণ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক।

এতে ধ্বংস হচ্ছে কাঁকড়ার বিচরণক্ষেত্র, মোটরসাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে লাল কাঁকড়া। এছাড়া কাঁকড়া ধরে ছবি তোলার কারণেও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জেলে ইব্রাহীম বলেন, আগে এই যায়গায় অসংখ্য লাল কাঁকড়া থাকতো। এখন মানুষের হিংস্রতায় কাঁকড়ার সংখ্যা কমে গেছে।

কিছু দূরে ঝাউ বনের ভেতর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাসী। আবার কেউ কেউ সমুদ্রের ভাঙ্গনে উপড়ে পড়া গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি চক্র দিনে ও রাতে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে উজাড় হচ্ছে বন আর আবাসস্থল হারাচ্ছে লাল কাঁকড়ার দল। লাল কাঁকড়া সংরক্ষণের জন্য সৈকতের পশ্চিম প্রান্তের লেম্পুর বন এলাকায় গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জের সহযোগিতায় গাছের ডালপালা দিয়ে কাঁকড়ার আশ্রয়স্থল তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।

এ সময় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, লাল কাঁকড়া রক্ষায় আমরা নিজ উদ্যোগে সীমিত আকারে কাজ করছি। সমুদ্রের ভাঙনে বন এবং লাল কাঁকড়া বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে লেম্পুবনে যানবাহন চলাচল রোধে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। লাল কাঁকড়া রক্ষায় সরকারি এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সহযোগিতা আর সচেতনতা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, সরকারী গাছ কাটা বা বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন করে ঝাউবন সৃষ্টির চেষ্টা করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সবুজ দেয়াল তৈরিতে সকলের সহযোগিতায় কাজ করছি।

উপকূল পরিবেশ আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, “২০২১ সালে আমরা প্রথম লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য আলাদা অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানাই। তখন এগিয়ে আসে ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ। সাময়িকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকসই হয়নি। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর উপড়ে পড়ছে জাতীয় উদ্যানের গাছ। অতিরিক্ত লবনাক্ততায় বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা। বালুক্ষয় থেকে রাস্তা রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও লাল কাঁকড়া ও পরিবেশ রক্ষাকারী এবং সবুজ দেয়াল খ্যাত গাছ রক্ষায় এখনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সরকার। লেম্পুর বন এলাকার চার কিলোমিটার বনাঞ্চল এবং কাউয়ারচরের ৮ কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চল ও লাল কাঁকড়া বিচরণস্থল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরো ভয়াবহ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লাল কাঁকড়া আমাদের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এরা সৈকতের মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। আবাসভূমি ধ্বংস হলে পুরো বাস্তুসংস্থানের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বন উজাড় ও সৈকতের প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে লাল কাঁকড়ার প্রজনন ব্যাহত করছে। বন ও কাঁকড়া রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো: বখতিয়ার রহমান বলেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউএসএআইডির অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ইকোফিশ-২ প্রকল্প কুয়াকাটা সৈকতের দুই প্রান্তে বেড়া দিয়েছিলো যাতে লাল কাঁকড়া নির্বিঘ্নে চলাচল ও প্রজনন করতে পারে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে বেড়ার ভেতরে কাঁকড়ার সংখ্যা বাহিরের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি। পাশাপাশি যেখানে মানুষের উপস্থিতি কম, সেখানে কাঁকড়ার আকার বড়, রঙ উজ্জ্বল এবং সংখ্যাও বেশি থাকে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, লাল কাঁকড়া মাটি খুঁড়ে এবং মৃত উদ্ভিদ-পাতা খেয়ে মাটিকে পুষ্টিকর ও বায়ু নিয়ন্ত্রিত রাখে। এতে মাটি উর্বর হয়, পানির শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; নতুন গাছ জন্মায়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়, যা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, সৈকত ও উপকূল রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক।

এ বিষয়ে ওয়েব ফাউন্ডেশন কলাপাড়ার ‘জলবায়ু সু-শাসন ও শক্তিকরণ প্রকল্প’ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে অনেক আগ থেকেই। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চল বা সমুদ্র সৈকতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল কাঁকড়া বাসস্থান ও প্রজনন স্থান হারাচ্ছে। ফলে কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা। পাশাপাশি মাটির লবণাক্ততা এবং উপযোগী পানি স্বল্পতায় লাল কাঁকড়ার জীবন চক্র হুমকিতে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।