খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩২

এক মণ কচুরিপানা বিক্রির টাকায় মিলছে দুই মণ ধান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
এক মণ কচুরিপানা বিক্রির টাকায় মিলছে দুই মণ ধান

পিরোজপুর প্রতিনিধি : কচুরিপানার ফুলকে অনেকে পছন্দ করলেও অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা এর গাছ থেকে যায় ফেলনা হিসেবেই। সময়ের ব্যবধানে কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সহজলভ্য এ জলজ উদ্ভিদ। দেশে ব্যবহারের পাশাপাশি কচুরিপানা এখন কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে। শুকনো কচুরিপানা বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি দুই হাজার টাকায়। যা দিয়ে দুই মণ ধান কেনা যাচ্ছে।

দৃষ্টিনন্দন ফুলঝুড়ি, কালারফুল পাপোশ, রকমারি ফুলদানি ও পাটি তৈরির কাঁচামাল এ কচুরিপানা। ব্যাগ, টুপি ও বাহারি সব জায়নামাজও তৈরি হয় এ থেকে। ফলে বিদেশে এর চাহিদা অনেক।

জানা যায়, পিরোজপুরের উত্তরের উপজেলা নাজিরপুরের নিম্নবিত্তদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে কচুরিপানা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা গাওখালীর সোনাপুর গ্রামের নদী আর বিলে মাইলের পর মাইল দিগন্ত বিস্তৃত কচুরি পানা সংগ্রহে কাজ করছেন স্থানীয়রা। সব বয়সের নারী-পুরুষ এমনকি শিক্ষার্থীরাও তাদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে সহযোগী পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল হলেই ছোট-ছোট নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা বেড়িয়ে পড়েন কচুরিপানা সংগ্রহে। কিনতে ব্যয় না হওয়ায় শুধু নামমাত্র খরচে সংগ্রহ করা হচ্ছে এগুলো। এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার সংযুক্ত এ কাজে। সংগ্রহকারীদের তালিকায় আছেন গৃহবধূরা-শিক্ষার্থীরাও।

কচুরিপানা সংগ্রহ কাজে জড়িতরা জানান, মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ভরা মৌসুম থাকলেও এর সংগ্রহ চলে সারাবছর। কচুরিপানা সংগ্রহ করে কাটার পর প্রক্রিয়াজাত করে শুকাতে প্রায় ৫-৬ দিন লেগে যায়। এর পরে বিক্রি। প্রতি কেজি শুকনো কচুরিপানা বিক্রি হয় ৫০ টাকা দরে। ১ কেজি শুকনো পণ্য পেতে সংগ্রহ করতে হয় প্রায় আড়াই কেজি কচুরিপানা। মাসে প্রায় ১০ টন কচুরিপানা কেনাবেচা হয় এখানে। ফলে অনেকটা বিনা পুঁজিতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

এ গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান হচ্ছে এ কচুরিপানা থেকে। আর কাঁচামাল হিসেবে বিশ্বের ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এটি। কচুরিপানা হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে অবসর সময়ে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করছেন কাজে যুক্ত হচ্ছেন বেকার যুবক- শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানা কেটে যে উপার্জন হয়, তা থেকে অনেক পরিবারের সংসার চলে। এই কাজে অর্থ উপার্জন করে অনেকেই গবাদিপশুসহ হাঁস-মুরগি ক্রয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রায় ৩৬০ পিছ কচুরিপানায় এক কেজি পরিমাণ হয়ে থাকে। প্রতি কেজি কচুরিপানা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

জানা যায়, প্রাকৃতিক কচুরিপানা থেকে তৈরি করা কাঁচামাল দেশের উত্তর অঞ্চলের রংপুরসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের কুটিরশিল্পে পাঠানো হয়। যেখানে তৈরি হয় রঙিন পাটি, হাতব্যাগ, ফুলদানি, টুপি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী। এগুলো রপ্তানি হয় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, জাপান সহ বিশ্বের ২৫টি দেশে।

উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, কচুরিপানা হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। ৫০ টাকা কেজিতে কচুরিপানা বিক্রি হয়। ফলে এক মণ কচুরিপানার দাম হয় দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা বার কিছু বেশি। ফলে এক মণ কচুরিপানা বিক্রি করে দুই মণ ধান কেনা যায়। দুই মণ ধান উৎপাদন করতে অনেক খরচ হয়। সেখানে কচুরিপানা সংগ্রহে কোনো খরচ নেই, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন হয়। কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে আমার কাছে নিয়ে এলে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা করে দেই। এজন্য প্রতিপিস কচুরিপানা সর্বনিম্ন ১৮ ইঞ্চি হতে হবে। রোদে শুকিয়ে সাদা করতে হবে। একদম শুকনো হতে হবে, কোনো রস থাকা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দেয় ও এলাকার উন্নয়ন হয়, রাস্তাঘাট যদি ভালো হয় তাহলে এই পেশায় কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাবে। কচুরিপানা বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি কিনে থাকে ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে এই কচুরিপানা বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি হয়।

স্থানীয় যুবক শাহীন বলেন, বর্তমানে কাজ কম। এ কারণে কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করি। প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করি। এ থেকে আমরা খুব ভালো টাকা ইনকাম করতে পারি। অবসর সময় আমরা এই কাজ বেশি করি।

শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, কচুরিপানা আমাদের কোনো কাজে লাগে না। এগুলো যেখানে উৎপাদন হয় সেখানেই আবার নষ্ট হয়ে যায়। আমি একজন শিক্ষার্থী কিন্তু আমার কোনো উপার্জন নাই। অবসর সময়ে আমি কচুরিপানা কাটি ও রোদে শুকিয়ে বিক্রি করছি। এর আগে আমাকে একটি পোশাক কিনতে হলে মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নিতে হতো। বর্তমানে আমি নিজে টাকা আয় করছি। এটি আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আহমেদ বলেন, এখানে উপার্জন করার আলাদা কোনো পথ নেই। কৃষির অবস্থাও ভালো না। দিন দিন সার ওষুধ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ দিনে দিনে অসচ্ছল হয়ে পড়ছে। এখানকার মানুষ কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করে আর্থিক উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। এটা করতে কোন মূলধনের প্রয়োজন হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার অনেক মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ এনে পরিবারের কাজে খরচ করলেও ঋণ পরিষদের তেমন কোনো কর্মসংস্থান তাদের নেই। বর্তমানে কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রির মাধ্যমে তারা ঋণ পরিশোধ করছে ও তাদের ভেতরে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে।

কচুরিপানা বিক্রেতা ও বয়স্ক নারী কর্মী সুফিয়া বেগম বলেন, আমি যে কচুরিপানা শুকিয়ে বিক্রির জন্য এনেছি তার দাম হয়েছে ১১৯০ টাকা। আকাশ মেঘলা থাকায় শুকাতে দু-তিন দিন বেশি সময় লেগেছে। প্রতিমাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার কচুরিপানায় বিক্রি করি। এই টাকা সংসারের প্রয়োজনে খরচ করি। এনজিওর কিস্তি দেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শুনেছি নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী এলাকার কচুরিপানা বিদেশে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। এগুলো চাষ করে নয় বরং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কচুরিপানা। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি কীভাবে এই উদ্যোগে কৃষকদের সহায়তা করা যায়।

অনুন্নত রাস্তাঘাট ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে কুটির শিল্পের এই কাঁচামাল তৈরি করতে গিয়ে প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই পেশার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই এলাকার রাস্তাঘাট উন্নতকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে কাঁচামালের গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে।

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ, সংসদ বসছে কাল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আজ, সংসদ বসছে কাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। তবে গতকাল পর্যন্ত স্পষ্ট হয়নি—শুরুর বৈঠকে কে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কে হচ্ছেন।

এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হবে। সেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিত্বের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। এ দুটি পদে ক্ষমতাসীন দল থেকেই সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী এই পদটি নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে আজ বিরোধী দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। এর দেড় বছর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সংবিধান অনুযায়ী, কোনো সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের বৈঠক আহ্বান করতে হয়। ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সে অনুযায়ী, আগামীকাল বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে শুরু হবে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন। সাধারণত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন দীর্ঘ হয়। এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটি গঠনের পর কমিটির বৈঠকে প্রথম অধিবেশনের সময়কাল ঠিক হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদের শীর্ষ পদগুলোতে অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মুখ বসাতে চাইছে বিএনপি। স্পিকার পদে দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আবদুল মঈন খান, হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদের ব্যাপারে আলোচনা বেশি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, আজ বুধবার বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে নতুন স্পিকার নির্বাচনসহ অধিবেশনের শুরুতে কে সভাপতিত্ব করবেন, সব ঠিক হবে।

প্রথম দিন যা হবে

নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে কিছু নির্ধারিত কাজ হয়। এর মধ্যে প্রথম কাজ হচ্ছে, নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার এর ব্যতিক্রম হচ্ছে। কারণ, দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে।

এমন প্রেক্ষাপটে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে কোনো সংসদ সদস্যকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সভাপতির সূচনা বক্তব্যের পর নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। এরপর তাঁদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি। এ সময়টাতে অধিবেশনে বিরতি থাকে। এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে আবার অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। সাধারণত নতুন স্পিকারকে স্বাগত জানিয়ে সংসদের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করেন সংসদ সদস্যরা।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম বৈঠকে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে এরপর অনুমোদন করা হবে।

জামায়াত কি ডেপুটি স্পিকার পদ নেবে

জুলাই জাতীয় সনদে বলা হয়েছে, আইনসভা হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট। উচ্চকক্ষ গঠিত হবে নিম্নকক্ষের ভোটের সংখ্যা অনুপাতে। উভয় কক্ষে বিরোধী দল থেকে একজন করে ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিএনপি একমত হলেও উচ্চকক্ষের গঠন পদ্ধতি নিয়ে তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তবে দলটি ইতিমধ্যে সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদটি জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের তিনজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে প্রথম আলো কথা বলেছে। তাঁরা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদ নেওয়া হবে কি না, সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান কী হবে—এসব বিষয়ে আজ বুধবার বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

জামায়াতের একটি সূত্র বলছে, সংসদে বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার পদ পাওয়ার নজির নেই। জুলাই জাতীয় সনদে প্রথমবারের মতো বিষয়টি স্থান পেয়েছে। জুলাই সনদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবে বিএনপির কোনো আপত্তি ছিল না। জাতীয় নির্বাচনের আগেও বিষয়টি কোনো আলোচনা ছিল না। তবে নির্বাচনের পর বিএনপি বলছে, বিরোধী দলকে এই পদ উদারতা হিসেবে দেওয়া হচ্ছে। জামায়াত জুলাই সনদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার নিতে চায়, বিএনপির অনুগ্রহ হিসেবে নয়।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে উচ্চকক্ষ এবং নিম্নকক্ষের দুটি ডেপুটি স্পিকার পদই জামায়াত পায়। এখানে অনুগ্রহের কিছু নেই। শোনা যাচ্ছে, জুলাই সনদের আলোকে এই দুটি পদ দেওয়া হবে, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি বা প্রস্তাব আসেনি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। এরপর জামায়াত ডেপুটি স্পিকার বিষয়ে তাদের অবস্থান জানাবে। আজ বুধবার বিরোধী দলের বৈঠক থেকেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ভোলায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহতে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
ভোলায় ট্রাক চাপায় পথচারী নিহতে সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

ভোলা সদর উপজেলায় ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে ইট বোঝাই ট্রাকের চাপায় সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী (৬৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। তবে ট্রাকটি আটক করলেও পালিয়েছে ঘাতক চালক। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিনগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের তালতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

 

সিরাজুল ইসলাম আলীনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অবদার আলী মালের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক।

নিহতের ভাতিজা নজরুল ইসলাম ও স্থানীয়রা জানান, সিরাজুল তালতলী বাজার থেকে বাড়ির জন্য প্রয়োজন বাজার শেষে সড়ক অতিক্রম করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘুইংগারহাট এলাকা থেকে ভোলা সদরগামী ইট বোঝাই ট্রাকটি তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।

স্থানীয় বিক্ষুব্ধরা ট্রাকটি আটক করে সড়ক অবরোধ করে প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ করেন। এতে বন্ধ হয়ে যায় ভোলার গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কের যানবাহন চলাচল।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেন। এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, প্রতিনিয়ত ওই এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনারোধে ওই এলাকায় গতিরোধকের দাবিও জানান তারা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভোলা সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো.গোফরান বলেন, স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল দেয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে এসে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করেছি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার বলেছে তারা মামলা করবে না। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
ইরানের প্রেসিডেন্টকে ফোন করলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করেছেন বলে জানিয়েছে রুশ সংবাদ সংস্থা তাস।

 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বন্ধে ধারাবাহিক ফোন কলের অংশ হিসেবে দ্বিতীবারের মতো পেজেশকিয়ানকে ফোন করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পুতিন।

এর আগে গত ৬ মার্চ তাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছিল, যখন পুতিন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষ করেন। এরপর ৯ মার্চ পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন।

বিবৃতি অনুযায়ী, মঙ্গলবারের ফোনালাপে ‘ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় আলোচনা করা হয়েছে।

এর আগে ৯ মার্চ ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রায় এক ঘণ্টা ফোনে কথা হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়। এরপরেই ট্রাম্প বলেছিলেন যে, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হচ্ছে।