খুঁজুন
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

এক মণ কচুরিপানা বিক্রির টাকায় মিলছে দুই মণ ধান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৫৩ অপরাহ্ণ
এক মণ কচুরিপানা বিক্রির টাকায় মিলছে দুই মণ ধান

পিরোজপুর প্রতিনিধি : কচুরিপানার ফুলকে অনেকে পছন্দ করলেও অযত্ন-অবহেলায় বেড়ে ওঠা এর গাছ থেকে যায় ফেলনা হিসেবেই। সময়ের ব্যবধানে কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে সহজলভ্য এ জলজ উদ্ভিদ। দেশে ব্যবহারের পাশাপাশি কচুরিপানা এখন কাঁচামাল হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে বিশ্বের প্রায় ২৫টি দেশে। শুকনো কচুরিপানা বিক্রি হচ্ছে মণ প্রতি দুই হাজার টাকায়। যা দিয়ে দুই মণ ধান কেনা যাচ্ছে।

দৃষ্টিনন্দন ফুলঝুড়ি, কালারফুল পাপোশ, রকমারি ফুলদানি ও পাটি তৈরির কাঁচামাল এ কচুরিপানা। ব্যাগ, টুপি ও বাহারি সব জায়নামাজও তৈরি হয় এ থেকে। ফলে বিদেশে এর চাহিদা অনেক।

জানা যায়, পিরোজপুরের উত্তরের উপজেলা নাজিরপুরের নিম্নবিত্তদের আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে কচুরিপানা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা গাওখালীর সোনাপুর গ্রামের নদী আর বিলে মাইলের পর মাইল দিগন্ত বিস্তৃত কচুরি পানা সংগ্রহে কাজ করছেন স্থানীয়রা। সব বয়সের নারী-পুরুষ এমনকি শিক্ষার্থীরাও তাদের পড়াশোনার খরচ যোগাতে সহযোগী পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন এ কাজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল হলেই ছোট-ছোট নৌকা নিয়ে স্থানীয়রা বেড়িয়ে পড়েন কচুরিপানা সংগ্রহে। কিনতে ব্যয় না হওয়ায় শুধু নামমাত্র খরচে সংগ্রহ করা হচ্ছে এগুলো। এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ পরিবার সংযুক্ত এ কাজে। সংগ্রহকারীদের তালিকায় আছেন গৃহবধূরা-শিক্ষার্থীরাও।

কচুরিপানা সংগ্রহ কাজে জড়িতরা জানান, মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত ভরা মৌসুম থাকলেও এর সংগ্রহ চলে সারাবছর। কচুরিপানা সংগ্রহ করে কাটার পর প্রক্রিয়াজাত করে শুকাতে প্রায় ৫-৬ দিন লেগে যায়। এর পরে বিক্রি। প্রতি কেজি শুকনো কচুরিপানা বিক্রি হয় ৫০ টাকা দরে। ১ কেজি শুকনো পণ্য পেতে সংগ্রহ করতে হয় প্রায় আড়াই কেজি কচুরিপানা। মাসে প্রায় ১০ টন কচুরিপানা কেনাবেচা হয় এখানে। ফলে অনেকটা বিনা পুঁজিতে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

এ গ্রামের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবারের কর্মসংস্থান হচ্ছে এ কচুরিপানা থেকে। আর কাঁচামাল হিসেবে বিশ্বের ২৫টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে এটি। কচুরিপানা হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে অবসর সময়ে সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করছেন কাজে যুক্ত হচ্ছেন বেকার যুবক- শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, কচুরিপানা কেটে যে উপার্জন হয়, তা থেকে অনেক পরিবারের সংসার চলে। এই কাজে অর্থ উপার্জন করে অনেকেই গবাদিপশুসহ হাঁস-মুরগি ক্রয় করে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রায় ৩৬০ পিছ কচুরিপানায় এক কেজি পরিমাণ হয়ে থাকে। প্রতি কেজি কচুরিপানা ৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

জানা যায়, প্রাকৃতিক কচুরিপানা থেকে তৈরি করা কাঁচামাল দেশের উত্তর অঞ্চলের রংপুরসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলের কুটিরশিল্পে পাঠানো হয়। যেখানে তৈরি হয় রঙিন পাটি, হাতব্যাগ, ফুলদানি, টুপি, জায়নামাজসহ বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রী। এগুলো রপ্তানি হয় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, জাপান সহ বিশ্বের ২৫টি দেশে।

উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, কচুরিপানা হাতের নাগালেই পাওয়া যায়। ৫০ টাকা কেজিতে কচুরিপানা বিক্রি হয়। ফলে এক মণ কচুরিপানার দাম হয় দুই হাজার টাকা। অন্যদিকে ১ মণ ধানের দাম ১ হাজার টাকা বার কিছু বেশি। ফলে এক মণ কচুরিপানা বিক্রি করে দুই মণ ধান কেনা যায়। দুই মণ ধান উৎপাদন করতে অনেক খরচ হয়। সেখানে কচুরিপানা সংগ্রহে কোনো খরচ নেই, প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদন হয়। কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে আমার কাছে নিয়ে এলে প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা করে দেই। এজন্য প্রতিপিস কচুরিপানা সর্বনিম্ন ১৮ ইঞ্চি হতে হবে। রোদে শুকিয়ে সাদা করতে হবে। একদম শুকনো হতে হবে, কোনো রস থাকা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি আমাদের প্রতি দৃষ্টি দেয় ও এলাকার উন্নয়ন হয়, রাস্তাঘাট যদি ভালো হয় তাহলে এই পেশায় কর্মসংস্থান আরও বৃদ্ধি পাবে। কচুরিপানা বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানি কিনে থাকে ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করে। এমনকি বাংলাদেশ থেকে এই কচুরিপানা বিশ্বের অনেক দেশে রপ্তানি হয়।

স্থানীয় যুবক শাহীন বলেন, বর্তমানে কাজ কম। এ কারণে কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করি। প্রতি কেজি ৫০ টাকায় বিক্রি করি। এ থেকে আমরা খুব ভালো টাকা ইনকাম করতে পারি। অবসর সময় আমরা এই কাজ বেশি করি।

শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, কচুরিপানা আমাদের কোনো কাজে লাগে না। এগুলো যেখানে উৎপাদন হয় সেখানেই আবার নষ্ট হয়ে যায়। আমি একজন শিক্ষার্থী কিন্তু আমার কোনো উপার্জন নাই। অবসর সময়ে আমি কচুরিপানা কাটি ও রোদে শুকিয়ে বিক্রি করছি। এর আগে আমাকে একটি পোশাক কিনতে হলে মা-বাবার কাছ থেকে টাকা নিতে হতো। বর্তমানে আমি নিজে টাকা আয় করছি। এটি আমার কাছে অনেক ভালো লাগছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কায়সার আহমেদ বলেন, এখানে উপার্জন করার আলাদা কোনো পথ নেই। কৃষির অবস্থাও ভালো না। দিন দিন সার ওষুধ ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষ দিনে দিনে অসচ্ছল হয়ে পড়ছে। এখানকার মানুষ কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রি করে আর্থিক উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। এটা করতে কোন মূলধনের প্রয়োজন হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার অনেক মানুষ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ এনে পরিবারের কাজে খরচ করলেও ঋণ পরিষদের তেমন কোনো কর্মসংস্থান তাদের নেই। বর্তমানে কচুরিপানা কেটে রোদে শুকিয়ে বিক্রির মাধ্যমে তারা ঋণ পরিশোধ করছে ও তাদের ভেতরে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসতে শুরু করেছে।

কচুরিপানা বিক্রেতা ও বয়স্ক নারী কর্মী সুফিয়া বেগম বলেন, আমি যে কচুরিপানা শুকিয়ে বিক্রির জন্য এনেছি তার দাম হয়েছে ১১৯০ টাকা। আকাশ মেঘলা থাকায় শুকাতে দু-তিন দিন বেশি সময় লেগেছে। প্রতিমাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার কচুরিপানায় বিক্রি করি। এই টাকা সংসারের প্রয়োজনে খরচ করি। এনজিওর কিস্তি দেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শুনেছি নাজিরপুর উপজেলার গাওখালী এলাকার কচুরিপানা বিদেশে যাচ্ছে। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। এগুলো চাষ করে নয় বরং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো কচুরিপানা। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি কীভাবে এই উদ্যোগে কৃষকদের সহায়তা করা যায়।

অনুন্নত রাস্তাঘাট ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে কুটির শিল্পের এই কাঁচামাল তৈরি করতে গিয়ে প্রায়ই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই পেশার সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই এলাকার রাস্তাঘাট উন্নতকরণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে কাঁচামালের গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।