খুঁজুন
বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩

শাজাহান খানের চাঁদাবাজিতেই আয় হাজার কোটি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
শাজাহান খানের চাঁদাবাজিতেই আয় হাজার কোটি

বলিউডের কিং খানকে কে না চেনেন। শুধু বলিউড নয়, বিশ্বের অন্যতম ধনী তারকা শাহরুখ খান। তবে শাহরুখ খান ধনী হয়েছেন কষ্ট করে। জনপ্রিয়তা আর মানুষের ভালোবাসায়। শাহরুখ খানের মতো বাংলাদেশেও আছেন একজন কিং খান। তিনিও তারকা, তবে শোবিজের নন। বাংলাদেশে দুর্নীতির ‘কিং খান’ নিঃসন্দেহে শাজাহান খান। দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসই যার অর্থ উপার্জনের প্রধান হাতিয়ার। বৈধ কোনো আয় ছাড়াই তিনি বনে গেছেন হাজার কোটি টাকার মালিক। চাঁদাবাজি এবং দখল বাণিজ্যের জন্য তিনি আওয়ামী লীগের ভিতর সমালোচিত এবং বিতর্কিত। কিন্তু তার ছিল নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। যে কারণে দলের ভিতরও তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না। লুটপাটের মাধ্যমে শাজাহান খান হয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক। শ্রমিকনেতা হিসেবে পরিচিত শাজাহান খান একসময় জাসদের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য। টানা আটবারের এই সংসদ সদস্য (এমপি) নৌপরিবহনমন্ত্রী ছিলেন। তিনি পরিবহন সেক্টর এবং বিআইডব্লিউটিএতে প্রতিষ্ঠা করেন ব্যক্তিগত ক্যাডার বাহিনী। তাদের দাপটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন অতিষ্ঠ। ভাই ও স্বজনদের মাধ্যমে মাদারীপুর জেলার প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছিল তার একক আধিপত্য। জমি দখল, কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি- সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। নৌপরিবহনমন্ত্রী থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন হাজার হাজার কোটি টাকা। নিজস্ব বলয়ে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি দিয়েছেন। শাজাহান খান মাদারীপুর-২ (সদর-রাজৈর) আসনের সাবেক এমপি। মাদারীপুরে তার বিকল্প কেউ নেই বলে মনে করত তার পরিবার। খান পরিবারের সিদ্ধান্তের বাইরে সদর ও রাজৈরে কোনো কাজ হতো না। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের বাড়িও মাদারীপুর শহরে। আওয়ামী লীগের শাসনামলের পুরোটা এই দুই কেন্দ্রীয় নেতার দ্বন্দ্ব জাতীয়ভাবেও আলোচিত। পরিবহন শ্রমিকনেতা হিসেবে বিগত আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরে এ খাতের চাঁদার অন্যতম নিয়ন্ত্রক ছিলেন শাজাহান খান। তাদের দাপটে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও অতিষ্ঠ। বিআইডব্লিউটিএ ঘিরে এখনো চলছে শাজাহান খান বাহিনীর তান্ডব। অনেক কর্মকর্তাকে তারা জিম্মি করে নিজের অস্তিত্বের বিষয়ে জানান দিচ্ছেন।

শাজাহান খান ২০১৩ সালে গড়ে তোলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন মঞ্চ। ২০১৯ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হন। এ সময় তার বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধাদের টাকার বিনিময়ে সনদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২০১৫ সালে গড়ে তোলেন শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ। সর্বশেষ জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঠেকাতে তিনি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক মিলে গড়ে তোলেন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ। একাংশের চাঁদা ওঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয় বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক লীগ নেতা আখতার, সারোয়ার, আবুল, মজিবুর, রফিক গংদের।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ১৫ বছরে শাজাহান খানের আয় বেড়েছে ৩২ গুণ। শাজাহান খানের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সার্বিক কনস্ট্রাকশন, সার্বিক শিপিং লাইন চট্টগ্রাম, সার্বিক ইন্টারন্যাশনাল হোটেল, সার্বিক পেট্রোল পাম্প সবকিছুই তার স্বজনদের নামে। মাদারীপুর-ঢাকা ও ঢাকা-বরিশাল সড়কপথে আধিপত্য বিস্তারকারী সার্বিক পরিবহন তার মালিকানাধীন। সার্বিক পরিবহনের নামে বর্তমানে দুই শতাধিক গাড়ি চলাচল করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ছেলে আসিবুর রহমান খান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পরপরই আত্মগোপনে চলে যান শাজাহান খান ও তার পরিবারের সদস্যরা। ৫ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে শাজাহান খানকে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর থেকে তার ছেলে আসিবুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মন্ত্রী থাকতে বাবা আচমত আলী খানের নামে একটি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন শাজাহান খান। সংগঠনটির কোনো স্থায়ী ও অস্থায়ী কার্যালয় নেই। প্রতি বছর বড় পরিসরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। সেখানে সরকারের মন্ত্রী ও শিল্পপতিদের রাখা হতো। সংগঠন সূত্র জানায়, নৌমন্ত্রী থাকতে শাজাহান খান ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু বছরে একবার ঠোঁটকাটা-তালুকাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ছাড়া কোনো সেবামূলক কাজই হয়নি।

শাজাহান খান নৌমন্ত্রী থাকাকালে মাদারীপুরের প্রায় ৩ হাজার কর্মীকে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ বিভিন্ন বিভাগে চাকরি দিয়েছেন বলে তিনি নিজেই বিভিন্ন সভায় বক্তব্য দিয়েছেন। প্রতিটি চাকরির জন্য শাজাহান খান ও তার ভাইয়েরা ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যে মূল তদারকি করতেন শাজাহান খানের তৎকালীন বিশেষ সহকারী রণজিৎ বণিক।

২০০৯ সাল থেকে পরিবহন খাতে প্রকাশ্যে যানবাহনপ্রতি ৭০ টাকা চাঁদা আদায় শুরু করা হয়। এর মধ্যে ৪০ টাকা যায় মালিক সমিতির হাতে। আর শ্রমিক ইউনিয়নের ১০ টাকা এবং ফেডারেশনের ১০ টাকা। বাকি ১০ টাকা সড়ক শৃঙ্খলায় নেওয়া হতো। এর বাইরে অপ্রকাশ্য চাঁদা উঠত। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সব মিলিয়ে এ খাতে বছরে চাঁদার পরিমাণ অন্তত ১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয় শাজাহান খানের বেপরোয়া চাঁদাবাজি। এই চাঁদাবাজির টাকায় মাদারীপুরে এবং ঢাকায় গড়ে তোলেন সম্পদের পাহাড়। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, শাজাহান খানের বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় হলফনামায় তিনি আয় দেখিয়েছেন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা। অর্থাৎ ১৫ বছরে তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩২ গুণ। একই সময়ে তার অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে পাঁচ গুণ। হলফনামা অনুযায়ী, শাজাহান খানের দুটি গাড়ি এবং স্ত্রীর নামে ৮০ ভরি সোনা ছাড়া আর কোনো অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়নি। ২০০৮ সালে দুটি বাস, একটি গাড়ি ও একটি মাইক্রোবাস, ১৫ ভরি সোনাসহ প্রায় ৪১ লাখ টাকার সম্পদ দেখানো হয়েছিল। শাজাহান খান ও তার স্ত্রীর বেশ কিছু কৃষি ও অকৃষিজমি আছে। প্রায় ৬ কোটি টাকার ভবন ও সমজাতীয় স্থাপনা আছে। দান সূত্রেও ফ্ল্যাট ও জমির মালিক হয়েছেন তিনি। তার স্ত্রীর নামে আছে রাজউকের ১০ কাঠার প্লট ও অন্যান্য স্থাবর সম্পদ। তবে তার দুই ছেলে ও মেয়ের নামে মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ আছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাফিজুর রহমান খানের জমি, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে করা ১৬টি দোকান ও পাটকল আছে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১ একর জমিতে অস্থায়ী দোকান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দুটি বহুতল ভবন, একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, দুটি বাণিজ্যিক ভবন, একটি বিলাসবহুল পাঁচতলা আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ আছে। একই এলাকায় শাজাহান খানের ১০ তলা ভবন আছে। শাজাহানের আরেক ভাই ওবায়দুর রহমানের দুটি বহুতল বাড়ি আছে। থানার সামনে শাজাহানের ছোট ছেলে শামস খানের পাঁচতলা নতুন ভবন, পাশেই হাফিজুর রহমান ও খান পরিবারের যৌথ মালিকানাধীন হাসপাতাল, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পুরান বাজারে জমি আছে। পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড চৌরাস্তা ও কুলপদ্বী এলাকায় জমি ও বাড়ি আছে। সরকার পতনের দিন বিকালে শাজাহান খানের বিলাসবহুল ১০ তলা বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। তখন হাফিজুর ও ওবায়দুর রহমান খানের মালিকানাধীন চারটি ভবন, দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এর আগেই শাজাহান খান ও তার ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। সম্প্রতি তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিলাসবহুল বাড়িগুলো নতুন করে মেরামতের কাজ করছেন শ্রমিকরা। বিডি প্রতিদিন

 

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফয়সাল নামে ওই প্রাইভেট শিক্ষক টিকিকাটা ওহাবিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগের বিষয় হিসেবে ৮ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৭ জুলাই (সোমবার) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই ছাত্রীর মা সুমি আক্তার অধ্যক্ষের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।কারো কাছে যাতে কিছু না বলা হয় সেজন্য শিশুটিকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারটি রুম্মান নামে ওই ছাত্রীর এক চাচার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,অভিযোগ আমিই দিয়েছিলাম। আবার আমি এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।প্রিন্সিপল হুজুর বিষয়টি শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে । মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবগত করেছি।আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু জানান,আমি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বিষয়টি অবগত না হলেও কিছুটা অবগত হয়েছি।অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে দেখতেছি।বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,বিষয়টি অবগত হয়েছি।এ ধরনের অপরাধ স্থানীয় পর্যায়ে শালিস ব্যবস্থার কোন বিষয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান পূর্বশর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও আগ্রাসনের পরম ও শর্তহীন অবসান। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই কথা জানিয়েছেন। 

লেবাননের অখণ্ডতা রক্ষা এবং হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সমর্থন দেওয়াকে তেহরানের কৌশলগত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে লেবানন ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এর আগে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতায় এই শর্ত থাকলেও হরমুজ প্রণালির বিরোধে তা ভেস্তে যায়। এদিকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক কাঠামোগত চুক্তিকে একপেশে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

লেবাননীয় সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধা দিয়ে ইসরাইল এখনও দক্ষিণ লেবাননে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান এই সংঘাতে লেবাননে ৪ হাজার ৩২৯ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগে ফের বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারতে। তবে গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এই বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, ‘কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

সংগঠনটির দাবি, সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারি করা হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিজেপি অভিযোগ করেছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে। এ নিয়ে তারা নতুন করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে পরে কর্মকর্তারা বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি তাদের কাছে তুলে দেন। ওই প্রজ্ঞাপনে বিক্ষোভকারীদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার রাত ১টার দিকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যে একই ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলে। সেখানে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি আমাদের দেওয়া হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক সবাইকে মুক্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।’

সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের নিশ্চয়তামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রতিশ্রুতি সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, সমঝোতা অনুযায়ী ভাষাই ব্যবহার করা হবে। কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন হবে কি না—এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তারা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের বলেছি, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জবাবে তারা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, অন্য রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীরা আইনি ঝামেলায় না পড়েন। আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি যে আর কোন কোন রাজ্য সরকার এ ধরনের প্রজ্ঞাপন দিতে পারে, যাতে বিক্ষোভকারীদের কোনো ক্ষতি না হয়।

তার দাবি, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে মঙ্গলবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবেন। ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সব বিক্ষোভকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দলটি কাজ চালিয়ে যাবে। নিজ নিজ শহরে আন্দোলনে অংশ নেয়া একজন বিক্ষোভকারীও যেন কোনো আইনি হয়রানির শিকার না হন, আমরা তা নিশ্চিত করব। প্রথম দিন থেকেই আমরা তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।