খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৪ আষাঢ়, ১৪৩৩

ভোলায় স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়, বিআইডব্লিউটিএর অভিযান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
ভোলায় স্পিডবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়, বিআইডব্লিউটিএর অভিযান

ভোলা প্রতিনিধি : বরিশাল থেকে লঞ্চে করে ভোলায় নিয়মিত যাওয়া আসা করেন মো. তাওহীদ ও সুলতান আহম্মেদ। তাদের অভিযোগ, নৌপথে অসাধু স্পিডবোট মালিকরা যাত্রীদের জিম্মি করে দীর্ঘবছর ধরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন। একই অভিযোগ যাত্রী আবুল কালাম ও ডা.মাহবুব আলমের।

তারা বলেন, অসাধু স্পিডবোট মালিকচক্র ও ইজারাদাররা সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লাহার হাট নৌরুটে অস্বাভাবিক ভাড়া আদায় করছে।

যাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভোলায় এসব স্পিডবোট মালিক ও লঞ্চঘাটে ইজারাদারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

জানা গেছে, ভোলা-বরিশাল ও ভোলা-লাহার হাট নৌপথে অসাধু স্পিডবোট মালিকরা যাত্রীদের জিম্মি করে দীর্ঘবছর ধরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতো। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাকালে মনগড়া এসব ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারতেন না। এমনকি সরকারিভাবেও প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু এসব চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার মাঠে নেমেছে সরকারি সংস্থাটি।

সরেজমিনে কথা হয় ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে। তারা জানান, বিগত আওয়ামী স্বৈরশাসনামলে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকীবের কব্জায় ছিল সেখানকার লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটগুলো।

নকীবের একক আধিপত্য আর নির্দেশনায় ভোলা-বরিশাল, ভোলা-লাহারহাট নৌরুটে স্পিডবোটগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতো। তখন জোড়ের মুল্লুকে প্রতিবাদের কেউ ছিল না। কিন্তু পুরোনো সেই নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন নতুন মোড়কে শুরু করেছে দুর্বৃত্তচক্র।

এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী হয়রানি, অধিক ভাড়া আদায় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিআইডব্লিউটিএ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করায় ভেদুরিয়া ঘাটের দুর্বৃত্তরা নড়েচড়ে বসেছে।

সম্প্রতি ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটে অভিযান চালিয়ে নৌবাহিনী ইজারাদারের নিয়োজিত দুই চাঁদাবাজকে আটক করেছে বলেও জানান তারা। বিআইডব্লিউটিএর এমন উদ্যোগে তারা সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ভোলার বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন বাসসকে জানান, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ভেদুরিয়া-বরিশাল নৌপথে সরকার নির্ধারিত স্পিডবোট ভাড়া জনপ্রতি ৩শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভেদুরিয়া-লাহারহাট নৌপথে একই গেজেট মূল্যে ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগে ইজারাদাররা (ভেদুরিয়া ঘাট) বার্নিং চার্জ সরকারি ৭৫ টাকার স্থলে ১৩ শ টাকা গ্রহণ করতো। কিন্তু সরকারের নির্ধারিত ভাড়া ঢালু হওয়ায় ৬শ টাকা গ্রহণ করছে তারা। এ পরিস্থিতিতে তারা তাদের ঘনিষ্ঠ স্পিডবোট মালিকদের ১/২ জন অতিরিক্ত যাত্রী বহনে উৎসাহিত করে। ফলে ৩ থেকে ৬ শ টাকা অতিরিক্ত অর্জিত হয়।

কিন্তু সার্ভে সনদে ৪০ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিনের বোটে ৮ জন যাত্রী এবং ৫৫ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিনের বোটে ১০ জন যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকে। ইজারাদাররা ৪০ হর্স পাওয়ার ইঞ্জিনের বোটে ৯/১০জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত চালু করেন। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার শুরু করে।

বন্দর কর্মকর্তা তাদের রুট পারমিটে কোনো ধরনের খরচা নেই মর্মে বার বার বিয়ষটি নিশ্চিত করলেও তারা তাদের অপকর্ম থেকে বিরত থাকছে না। ফলে বিআইডব্লিউটিএ এসব অন্যায় তৎপরতার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জানান ভোলা নৌ-বন্দরের এ কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভেদুরিয়া ঘাট ইজারাদার আব্দুর রহমান গংরা বার্নিং চার্জ ৭৫ টাকার স্থলে ৬শ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করে থাকে। আইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও নৌ-বাহিনী এ বিষয়ে সোচ্চার হলে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়ে বিষয়টি পুনরায় বন্দর কর্মকর্তার ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে।

এছাড়া ইজারাদার ঘাটে প্রবেশে সরকারি মূল্য ৫ টাকার স্থলে ১০ টাকা গ্রহণসহ হাতে বহনযোগ্য মালামাল থেকে যাত্রীপ্রতি ৫শ’ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জোড়পূর্বক আদায় করে থাকেন।

সূত্র মতে, এই ইজারাদারের কাছ থেকে গত ২৭ জুলাই সরকার নির্ধারিত গাড়ী পার্কিং ইয়ার্ড ও অতিরিক্ত চার্জ গ্রহণ করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

বর্তমানে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট ঘাটে ইজারাদার ও স্পিডবোট মালিকপক্ষ তাদের দাবি দাওয়া আদায়ে ভোলা-বরিশাল নৌরুটে গত ৪/৫ দিন ধরে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রেখেছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ঘাট ইজারাদার আব্দুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট স্পিডবোট মালিকরা জানিয়েছে, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা ও অবান্তর।

 

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।