খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক, ১৪৩৩

ভোলায় নিখোঁজের ২০ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সালাউদ্দিন

ভোলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ভোলায় নিখোঁজের ২০ বছর পর বাড়ি ফিরলেন সালাউদ্দিন

২০০৫ সাল। দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। সালাউদ্দিন ফরাজির বয়স ছিল তখন ৪৫ বছর। পাঁচ সন্তানের জনক সালাউদ্দিন ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গাজীপুরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে রওনা দেন।

এর পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। এর মধ্যে কেটে গেছে ২০ বছর। সালাউদ্দিন ফরাজির কোনো সন্ধান নেই। অবশেষে দীর্ঘ ২০ বছর পর খোঁজ মিলেছে ৬৫ বছরের বৃদ্ধ সালাউদ্দিন ফরাজির। ফিরে এলেন নিজ গ্রামে তাঁর পরিবারের কাছে।

সালাউদ্দিন ফরাজির বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানা এলাকার নংলাপাতা গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জয়নাল ফরাজির ছেলে।

নিখোঁজ সালাউদ্দিন ফরাজির পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মের জন্য স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি জমান সালাউদ্দিন। তিনি সেখানে রিকশা চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ জোগাতেন।

২০০৫ সালের দিকে সালাউদ্দিন ফরাজির মেজ মেয়ের বাসা গাজীপুরে বেড়ানোর উদ্দেশে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হন। এর পর থেকে নিখোঁজ হন। তাঁর সন্ধান চেয়ে পরিবারের লোকজন বহু চেষ্টা করেও আর খোঁজ পাননি।

পরিবারের লোকজন ধরে নিয়েছিলেন হয়তো তিনি আর জীবিত নেই। কিন্তু সবাইকে তাক লাগিয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর নিজের বাড়ি ফিরলেন সালাউদ্দিন ফরাজি। বৃদ্ধ বয়সেও সালাউদ্দিনকে চিনতে ভুল করেননি তাঁর পরিবারের লোকজন। দীর্ঘ ২০ বছর পর সালাউদ্দিন ফরাজিকে ফিরে পেয়ে খুশি তাঁর পরিবারের লোকজনও।

সালাউদ্দিনের বড় মেয়ে রেখা বেগম জানান, তাঁর বাবা নিখোঁজের সময় তিনি এক সন্তানের জননী ছিলেন। মেজ বোনকে বিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা গাজীপুরে বসবাস শুরু করেন। ২০০৫ সালে দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। বাবা মেজ বোনের বাসায় বেড়াতে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর বাবা নিখোঁজ। বহু খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর বাবাকে আর ফিরে পাননি। তাঁরা ভেবে নিয়েছেন, হয়তো তাঁদের বাবা আর বেঁচে নেই।

১৬ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলার মায়া ব্রিজ এলাকায় কিছু লোক তাঁর বাবাকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ভেবে নিয়েছেন, তিনিই সালাউদ্দিন ফরাজি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর দিলে তাঁরা তাঁকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। রেখা বেগম বলেন, তাঁর বাবা বর্তমানে কথা বলতে পারছেন না। অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তবে বাবাকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত তাঁরা।

তাঁর বাবা যেন বাকিটা সময় তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারেন, সেই আশা করেন সালাউদ্দিন ফরাজির বড় মেয়ে রেখা বেগম। তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ হওয়ার পর ফিরে পাওয়া বাবাকে নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলায় থানায় জিডি করেছি। তবে আমার বাবা ও আমাদের ডিএনএ করবে পুলিশ।’

সালাউদ্দিন ফরাজির স্ত্রী মাসুমা জানান, তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে ছেলেসন্তানদের নিয়ে বহু কষ্টে দিন পার করেছেন তিনি। কখনো খেয়ে না খেয়ে সন্তানদের আগলে রেখেছেন। তাঁর স্বামী নিখোঁজ হওয়ার আগে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট এক মেয়ে ও দুই ছেলেকে বাসায় রেখে অন্যের বাসায় কাজ করেছেন। পরে সন্তানেরাও কর্মে নেমে পড়েছেন।

মাসুমা বলেন, ‘স্বামীর অপেক্ষায় ছিলাম দীর্ঘ ২০ বছর। ভেবেছি স্বামী বেঁচে থাকলে কোনো একসময় ফিরে আসবেন। আবার কখনো মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো বেঁচে নেই। দীর্ঘ ২০ বছর পর স্বামীকে ফিরে পেয়ে তাঁকে নিয়েই বাকি জীবনটা পার করতে চাই।’

জানতে চাইলে শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিক হাসান রাসেল আজ দুপুরে জানান, সালাউদ্দিন ফরাজির মেয়ে রেখা এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তবে ফিরে আসা সালাউদ্দিন ফরাজি তাঁর বাবা কি না, তা শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। তখনই শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

 

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।