নিয়মের মধ্যে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই প্লান পেয়ে যাবেন- প্রশাসক শিরীন
সিটি কর্পোরেশনের বিধি মেনে করা প্লান দ্রুত হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। প্রশাসক শিরীন এ সময় প্লানদাতাদের বলেন, “কাল নগর ভবনে আসেন, কথা বলেন, পরশু প্লান নিয়ে যান।” তার এই আশ্বাসে দারুণ খুশি বাড়ীর প্লানের জন্য অপেক্ষা করা ভুক্তভোগী সাধারন নগরবাসী।
২০১৮-২৩ সালের মধ্যে জমা দেওয়া এবং অনুমোদন হওয়ার পরেও প্লান ডেলিভারি পাননি এমন ৯৭ জনকে সিটি কর্পোরেশন থেকে ফোন করে তাদের সমস্যার কথা জানতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সিটি কর্পোরেশন।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন নতুন অডিটরিয়মে আজ শনিবার, ১১ এপ্রিল বিকালে “সরকার কর্তৃক প্রণীত ইমারত নির্মাণ বিধিমালা বহির্ভূত নকশা সংশোধনপূর্বক পুনঃদাখিল ও অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়ে নাগরিক মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী, প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির, প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস, স্থপতি সাইদুর রহমানসহ প্লান শাখার অন্যান্যরা।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন ইমারত নির্মান নকশা ১৯৯৬ বিধিমালা মেনে প্লান অনুমোদন করে থাকে। কিন্তু ২০১৮ সালে নির্বাচিত মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ ২০১৯ সালে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইমারত নির্মান নকশা খসড়া বিধিমালা দিয়ে তার সময়ের প্লান অনুমোদন করেন, যা আইনসিদ্ধ না হওয়ায় বহু প্লান আটকে যায়। এ নিয়ে ভুক্তভোগীরা নতুন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের কাছে প্লান না পাওয়ার সমস্যার কথা জানালে তিনি সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন।
মতবিনিময় সভায় প্লান না পাওয়া ৯৭ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও অংশ নেন ২০/ ২৫ জন। তাদের মধ্যে একজন কলেজ শিক্ষক ২২ নং ওয়ার্ডের শফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২৩ সালে তিনি টিনসেড দালানের একটি প্লান সাবমিট করেছিলেন। এখনো পাননি। প্রশাসক তাকে বলেন, “কাল আসবেন, পরশু প্লান পেয়ে যাবেন।”
মঞ্জিল আবাসিক প্রকল্পে বাড়ী নির্মানের জন্য মো.কামাল হোসেন ২০২৩ সালে প্লান জমা দেন। ‘রেড জোন’ এলাকা জানিয়ে তাকে প্লান দেওয়া হয়নি। রেড জোনের ব্যাখ্যা চাইলে তাকে বলা হয়, “আপনার জমির ৪০ ফুটের মধ্যে খাল রয়েছে।” মো. কামাল হোসেন প্রশাসককে জানান, খাল নেই ৬০০ ফুটের মধ্যেও। তাছাড়া সেখানে ভবন উঠেছে অনেকগুলো। প্রশাসক এটা তদন্ত করে এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তাকে। একজন নারী ভুক্তভোগী গুরুতর অভিযোগ আনেন সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তার নামে। ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জমির দলিলে নামের ভিন্নতা থাকায় তার কাছে দেড়লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ করেন তিনি।
প্রশাসক শিরীন ভুক্তভোগী গ্রাহকদের বলেন, গত ২০ মাসে দুইটি সরকার পরিবর্তন হয়েছে। এ সময়ে প্রশাসক পদে যে সব সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্বপালন করেছেন, তারা মূলত জনপ্রতিনিধিদের জন্য অপেক্ষা করেছেন। যে কারনে কাজের গতি অনেকটা কম ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই । আপনারা এতদিন অপেক্ষা করেছেন, আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন। তিনি আরো বলেন, আমরা অনেক সময় নিয়ম মানি না, চাপ সৃষ্টি করি। নিয়মের মধ্যে থাকলে এখন এক সপ্তাহের মধ্যে সবাই প্লান পেয়ে যাবেন।

আপনার মতামত লিখুন
Array