খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক আদেশ পেলেই স্বাক্ষর করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক আদেশ পেলেই স্বাক্ষর করবে এনসিপি: নাহিদ ইসলাম

রাজশাহী পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন নাহিদ ইসলাম

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী পর্যটন মোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সাংবিধানিক আদেশ বা নিশ্চয়তা পাওয়ার পরই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে। তিনি জানান, দলের দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহী সফরে এসেছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কেবলই আনুষ্ঠানিকতা, কেবলই একটি কাগজে সাইন। এ কারণেই তাঁরা সনদ অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেননি। তাঁরা সংস্কার চান এবং স্বাক্ষরের জন্যই অপেক্ষা করছেন। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হলে তাঁরা স্বাক্ষর করবেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখার মতো জনগণকে প্রতারণা করা হোক, তা তাঁরা চান না। নব্বইয়ের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না।

নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাপলা না দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একটি স্বেচ্ছাচারিতা। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যদি একটি মনোবাসনা চাপিয়ে দিতে চায়, আমরা ধরে নেব নির্বাচন কমিশন অন্য কোনো শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এমন ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে। আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলে অন্য যেকোনো প্রতীক নিতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে যদি প্রতীক না দেওয়া হয়, তাহলে রাজপথেই নামব। আমরা চাই না রাজপথে নামতে। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এগোতে চাই। আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য শাপলা প্রতীক নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।’

নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেমে নেই। প্রার্থী বাছাই চলছে এবং খুব দ্রুতই প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আগামীর সংসদে তরুণদের ভয়েস থাকবে। ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, প্রবাসী, নারীসহ সমাজের সব গ্রহণযোগ্য মানুষকে আমরা তুলে আনতে চাই।’

কোনো জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘যদি জোটে যেতে হয়, তা অবশ্যই একটা নীতিগত জায়গা থেকে আসবে। জুলাই সনদ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক জায়গা।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কারের বিপক্ষে বা ইতিহাসের দায়ভার যাদের ওপর রয়েছে, তেমন কোনো শক্তির সঙ্গে জোটে যাওয়ার আগে তাদের অনেকবার ভাবতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। তবে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল করা যেতে পারে।

নির্বাচনের আগে বিচারের একটি ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দল ও সরকারের পক্ষ থেকে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে, তাদেরও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা উচিত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন। উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।

এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, দলের দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহী সফরে এসেছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাক্ষর অনুষ্ঠান কেবলই আনুষ্ঠানিকতা, কেবলই একটি কাগজে সাইন। এ কারণেই তাঁরা সনদ অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেননি। তাঁরা সংস্কার চান এবং স্বাক্ষরের জন্যই অপেক্ষা করছেন। ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হলে তাঁরা স্বাক্ষর করবেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ত্রিদলীয় জোটের রূপরেখার মতো জনগণকে প্রতারণা করা হোক, তা তাঁরা চান না। নব্বইয়ের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হতে দেওয়া হবে না। নির্বাচনী প্রতীক প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘শাপলা না দেওয়ার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের একটি স্বেচ্ছাচারিতা। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই যদি একটি মনোবাসনা চাপিয়ে দিতে চায়, আমরা ধরে নেব নির্বাচন কমিশন অন্য কোনো শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এমন ইসির অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হবে। আইনি ও সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হলে অন্য যেকোনো প্রতীক নিতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে যদি প্রতীক না দেওয়া হয়, তাহলে রাজপথেই নামব। আমরা চাই না রাজপথে নামতে। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এগোতে চাই। আমাদের নির্বাচনী কার্যক্রমকে ব্যাহত করার জন্য শাপলা প্রতীক নিয়ে গড়িমসি করা হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁদের নির্বাচনী কার্যক্রম থেমে নেই। প্রার্থী বাছাই চলছে এবং খুব দ্রুতই প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আগামীর সংসদে তরুণদের ভয়েস থাকবে। ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, প্রবাসী, নারীসহ সমাজের সব গ্রহণযোগ্য মানুষকে আমরা তুলে আনতে চাই।’

কোনো জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘যদি জোটে যেতে হয়, তা অবশ্যই একটা নীতিগত জায়গা থেকে আসবে। জুলাই সনদ আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি মৌলিক জায়গা।’ তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কারের বিপক্ষে বা ইতিহাসের দায়ভার যাদের ওপর রয়েছে, তেমন কোনো শক্তির সঙ্গে জোটে যাওয়ার আগে তাদের অনেকবার ভাবতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। তবে সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে সমালোচনা ওঠায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা পরিষদে রদবদল করা যেতে পারে।

নির্বাচনের আগে বিচারের একটি ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানসহ গুম-খুনের ঘটনায় হওয়া মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দল ও সরকারের পক্ষ থেকে আসতে হবে। আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিয়েছে, তাদেরও বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা উচিত। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন। উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সারওয়ার, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ প্রমুখ।

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।