খুঁজুন
শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

জীবনযুদ্ধের হাতিয়ার ছুরি–বঁটি: মাছ কাটার আয়ে চলছে অর্ধশতাধিক পরিবার

ফাহিম ফিরোজ :
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
জীবনযুদ্ধের হাতিয়ার ছুরি–বঁটি: মাছ কাটার আয়ে চলছে অর্ধশতাধিক পরিবার

বরিশালের ব্যস্ততম পোর্ট রোড বাজার। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই জমে ওঠে মাছের বেচাকেনা। বাজারের একপাশে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী চিত্র, অর্ধ শতাধিক নারী-পুরুষ প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ কাটায় ব্যস্ত। ছুরি-দা হাতে, ছোট ছোট টুলে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মাছ কাটেন তাঁরা। এই কাজই তাঁদের একমাত্র পেশা, জীবিকার অবলম্বন। মাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক নির্ভরশীল অর্থনৈতিক চক্র। প্রতিদিন এই শ্রমজীবী মানুষদের আয়ে চলে শত শত মানুষের ভাত কাপড়ের যোগান।

মো. রিপন শেখ। বয়স ৬২ ছুঁইছুঁই। ৩৭ বছর ধরে এই পেশার সাথে জড়িত। একটানা মাছ কাটছেন পোর্ট রোড বাজারে। এই পেশার ওপরই নির্ভর করে তাঁর পাঁচজনের সংসার। তিনি বলেন-“আগে বাজারে মাছ কাটার লোক ছিল মাত্র ১০ জন। এখন দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। আগে প্রতিদিন ১৫০০-২০০০ টাকা আয় হতো, এখন কোনো দিন তা ৪০০ টাকায়ও নামে আসে। তবু ছাড়েন নি এ পেশা,”

তিনি মাছ কাটার আয় দিয়েই সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়েছেন, সংসার টেনেছেন, এমনকি কখনো কখনো ঋণ শোধও করেছেন।

বর্তমানে প্রতিদিন মাছ কাটার কাজ করে গড়ে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় করেন এই কর্মীরা। তবে মাছের আমদানি কম হলে কিংবা বৃষ্টির দিনে বাজার ফাঁকা থাকলে আয় কমে দাঁড়ায় ৫০০ টাকার নিচে।

“মাঝেমধ্যে দুই-তিন ঘণ্টা বসে থাকি, কোনো কাজ নাই। আবার হঠাৎ ভিড় বাড়লে কাজ সামলানো যায় না,”-জানালেন মাছ কাটা কর্মী শেফালী গোলদার।

একটা সময় মানুষ বাসায় গিয়ে নিজেরা মাছ কাটতেন। এখন অনেকেই বাজার থেকেই কাটা মাছ নিয়ে যান। এতে করে সময় বাঁচে, বাড়তি ঝামেলা কমে। এই পরিবর্তনের কারণে মাছ কাটার কাজের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, তবে একইসাথে বেড়েছে প্রতিযোগিতাও।

সৌরভ নামের এক ক্রেতা বলেন-“আগে মাছ কিনে বাসায় গিয়ে কাটতে অনেক ঝামেলা হতো। এখন বাজারেই কাটুনি আছে, সঙ্গে সঙ্গে টুকরা করে দেয়। এতে সময়ও বাঁচে, ঝামেলাও কমে। আমরাও খুশি।”

প্রবীণ মাছ কাটা কর্মী মো. কামরুল গাজী বলেন-“মানুষ সময় বাঁচাতে চায়, তাই আমরা আছি। কিন্তু এখন যারা কাজ করে, তাদের অনেকেই অদক্ষ—তাই মাঝে মাঝে কাজও কমে যায়,”

মাছ কাটার সময় হাত কেটে যাওয়া, পানিতে পা ভিজে চর্মরোগ হওয়া, মাছের আঁশ ও গন্ধে নানা ধরণের শারীরিক অসুবিধা হতেই থাকে। কিন্তু এসব শ্রমজীবী মানুষের নেই কোনো প্রশিক্ষণ, সুরক্ষা ব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যসেবা।

হতাশা প্রকাশ করে অপর এক মাছ কাটুনি মো. বাহাদুর বলেন- “আমরা মাছ কাটির মানুষ। আমাদের দেখার কেউ নাই। কাজ থাকলে টাকা পাই, না থাকলে খালি হাতে ফিরি,”

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় সরকার ও এনজিওগুলো যদি এই মাছ কাটার পেশাকে প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসংস্থান হিসেবে বিবেচনায় নেয়, তাহলে একদিকে দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে আয়ও স্থিতিশীল হতে পারে। তাছাড়া মাছ কাটার জন্য উন্নত সরঞ্জাম সরবরাহ, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।