খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

চরফ্যাশনে সার উৎপাদন করে কৃষকের আয় মাসে লাখ টাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
চরফ্যাশনে সার উৎপাদন করে কৃষকের আয় মাসে লাখ টাকা

চরফ্যাশনে কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার। ছত্রাক থেকে তৈরি হচ্ছে জৈব সার। সেই সারে উর্বর হচ্ছে জমি। সেই জমিতে বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটছে হাসি। উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়নে ছত্রাক থেকে এই সার উৎপাদন করছেন তরুণ উদ্যোক্তা মো. সোলায়মান। তার থেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অন্যরাও।

ট্রাইকো কম্পোস্ট সার সাধারণ কৃষকের কাছে এখন দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। স্বল্প খরচে কৃষকরা তাদের ফসলি জমিতে ফেলছেন। খরচও যেমন কম আবার উপকৃতি হচ্ছেন কৃষকরা। ফসলের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে ফুটছে হাসি।

পরিবেশ বান্ধব ও বিষমুক্ত এ সার বিক্রি করে মো. সোলায়মান প্রতিমাসে গড়ে আয় করে ১ লাখ টাকা। উদ্যোক্তা সোলায়মানের বাড়ি উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়ন ৮নম্বর ওয়ার্ডে।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, ট্রাইকোডার্মা নামক ছত্রাক থেকে ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন করা হয়। এটি এক প্রকার জৈব সার। বিভিন্ন জৈব উপাদানকে ট্রাইকোডার্মার সঙ্গে মিশিয়ে, পচন ঘটিয়ে তৈরি করা হয় এই সার।

এই সার মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। গোবর, কচুরিপানা, মুরগির বিষ্ঠা, কাঠের গুঁড়া, ভুট্টার গুঁড়া, কলাগাছ কুচি, সরিষার খোল, নিমপাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদজাত দ্রব্য ব্যাবহার করে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার তৈরি করা হয়।

উপাদানগুলো একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে, তার উপর ট্রাইকোডার্মা নামক ছত্রাক প্রয়োগ করা হয়। এরপর এসব মিশ্রণকে একটি নির্দিষ্ট সময় ৪০-৪৫ ধরে পঁচতে দেওয়া হয়। এই পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ট্রাইকো কম্পোস্ট সার তৈরি হয়।

উদ্যোক্তা সোলায়মান জানান, সে স্নাতক শেষ করে চাকরি না করে কৃষিকাজে মনোযোগি হন। কৃষিকাজের পাশাপাশি সার ও বীজের ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমে ২০১২ সালে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) সার উৎপাদান করেন।

২০১৩ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনি ফিলিপাইন ও থাইলেন্ড গিয়ে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। সেখান থেকে ফিরে প্রায় তিন লাখ টাকা পুঁজি খাটিয়ে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন।

প্রথম দুই মাস তিনি লোকসানে ছিলেন। তৃতীয় মাসে তিনি ৫০ হাজার টাকার সার বিক্রি করেন। তার পর থেকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ধীরে ধীরে তার এই উৎপাদিত সার কৃষকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।

সোলায়মান বলেন, আমি যখন এই সার উৎপাদন শুরু করি তখন আমার পরিবারের লোকজন বলে আপনাকে দিয়ে এসব কাজ মানায় না। তবুও আমি তাদের কথা কর্ণপাত না করে সার উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাই।

এখন আমার মাসিক আয় গড়ে ১ লাখ টাকা। বর্তমানে আমার এই কাজে চারজন কর্মচারী কাজ করছেন। এবং আমার পরিবারে ৪জন সদস্য রয়েছে। এই সার উৎপাদনে ভবিষ্যতে আমার বড় পরিকল্পনা রয়েছে। সরকার যদি ২ মুনাফায় ঋণ দেয় ও প্যাকেজিংয়ের সুযোগ থাকে তাহলে আরও বৃদ্ধি করবো।

এ সার ব্যবহার করার ওপর সরকার বাহির থেকে সার আমদানি করতে হয়। এতে সরকার ভর্তুকি দিতে হয়। এটা যদি ছত্রাকের মাধ্যমে দেশেই উৎপাদন করা হয় তাহলে সরকারের জন্য সাশ্রয় হবে। যেখানে কৃষকরা ১ কেজি টিএসপি সার কিনছে ৩৫ টাকা করে, সেখানে আমার তৈরি ট্রাইকো কম্পোস্ট সার কিনছে ২০ টাকা করে।

বাদাম চাষি আ. মতিন বলেন, আমি প্রতিবছর ৫ একর জমিতে বাদাম চাষাবাদ করছি। আমি আগে টিএসপি সার জমিতে ফেলেছি। যখন দেখলাম সোলায়মান ট্রাইকো কম্পোস্ট সার তৈরি করছে। এখানকার কৃষকরা তার কাছ থেকে সার কিনে উপকৃত হচ্ছে। আমিও ট্রাইকো কম্পোস্ট সার কিনে জমিতে ব্যবহার করেছি এবং বাম্পার ফলন হয়েছে। এ সার একেবারেই স্বল্প মূল্যে কেনা যায়, ফসলের জন্য বেশ ভালো।

তরমুজ চাষি মো. সামসুদ্দিন মাঝি বলেন, আমি কয়েক বছর ধরে তরমুজ চাষ করে আসছি। আগে জৈব সারসহ রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। কিন্তু গাছের রোগবালাই হতো বেশি, ফল আকারে ছোট হত। তরমুজের গত মৌসুমে আমি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহার শুরু করেছি। ফলন ভালো হওয়াতে লাভবান হয়েছি। মাটিতে আগের মতো কৃত্রিম সার দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি, ফলে খরচও কমেছে। আমি বলবো, যারা এ সার ব্যবহার করেননি, তারা একবার হলেও সার ব্যবহার করতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, বর্তমানে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার জন্য জৈব সার ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এতে থাকা উপকারি অণুজীব মাটিতে পুষ্টি চক্রকে সক্রিয় করে তোলে, যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য সহায়ক। এ উপজেলার কৃষকদের অনেকেই ইতোমধ্যে ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহার শুরু করেছেন এবং তারা ইতিবাচক ফলাফল পাচ্ছেন। রাসায়নিক সারের ব্যবহারও অনেক কমে গেছে।

তিনি বলেন, আমরা কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে আরও বেশি কৃষক এ পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক চাষ পদ্ধতিতে আগ্রহী হন। ট্রাইকো কম্পোস্টের ব্যবহার সম্প্রসারণে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
অফিসে সময়মতো না এলে আপনাকে আমার ‘আসসালামু আলাইকুম’ দিতে হবে: আইনমন্ত্রী

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে বলেছেন, আপনারা ৯টার সময় অফিসে এসে ৫টা, ৬টা, ৭টা পর্যন্ত অনেকে অফিস করেন। এই অফিসের টাইমটা যদি মেইনটেইন করেন, তাহলে জনসেবা বাড়বে। জনগণের হয়রানি কমবে। আমরা জনসেবা বাড়িয়ে জনগণের হয়রানি কমাতে চাই, এটা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের সুশাসনের অন্যতম প্রতিশ্রুতি।

 

সেখানে যদি আপনারা সময়মতো অফিসে না আসেন, আমরা ধরে নেব যে এই অফিসের প্রতি আপনার ভালোবাসা নাই, জনগণের প্রতি ভালোবাসা নাই। সেক্ষেত্রে আপনাকে আমার সালামু–আলাইকুম (আসসালামু আলাইকুম) দিতে হবে।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটিতে আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার সব সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার জনগণ যদি সেবা না পায়, আমার জনগণকে সেবা দিতে যদি আপনার গাফিলতি এবং অনীহা থাকে, তাহলে আপনি জনসেবক হিসেবে থাকারও দরকার নাই। বাংলাদেশে অনেক বেকারত্ব আছে, আমরা জনসেবক হিসেবে অনেক লোক পেতে পারি। কিন্তু জনগণের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রকম কার্পণ্য করবেন, এটা আমরা আগামীতে মেনে নেব না।

তিনি বলেন, আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ টাকা নেওয়ার পরে সে টাকা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালো বাড়িটা করবেন, সবচেয়ে ভালো গাড়িটা কিনবেন, সেই যুগ কিন্তু শেষ হয়ে গেছে। আপনি মাসে বেতন পান ১ লাখ টাকা, বছরে ১২ লাখ টাকা। অথচ আপনি ৫ কোটি টাকার বাড়ি করতেছেন, ১ কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়াচ্ছেন, আর আমরা চুপচাপ বসে থাকব; এটা মনে করার কারণ নাই।

তিনি বলেন, একজন ধর্ষণকারী ও মাদক কারবারি কোন দলের হতে পারে না। এসব ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক নেতা যেন তদবিরের মধ্যে না জড়ায়- সে ব্যপারেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাজেট উচ্চাবিলাসী তো থাকবেই, বিএনপি স্বপ্ন দেখে বলেই স্বপ্নবাজ বাজেট দেওয়ার সাহস রাখে। যে বাজেট দিয়েছে, সে বাজেট স্বপ্নের বাজেট, স্বপ্নের পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছি; সেটা তো উচ্চাবিলাসী হবেই।

তিনি বলেন, বাজেটে গরীবের জন্য বাণিজ্যিক ও কর্মসংস্থানের জন্য কর কমানো হয়েছে। এবারের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, সে বাজেটে সামাজিক উন্নয়নের প্রতি অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ আমরা তারই অংশ হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছি। ‎ভোটারের ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করেছি। বুধবার (১৭ জুন) সারা বাংলাদেশে ১৯টি জেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ-র্যাব-বিজিবি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।

বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বরিশালে মাদক-চাঁদাবাজিসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে পুলিশ হার্ডলাইনে

বরিশাল মেট্রোপলিটনের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রুখতে মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনার আলোকে খুব শিগগিরই অপরাধ দমনে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামতে যাচ্ছে বিএমপি পুলিশ। বিশেষ করে চার থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বিমানবন্দর এবং বন্দর পুলিশের কর্মকর্তাদের স্ব-স্ব এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই রোধকল্পে অপরাধীদের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে স্থানীয় পুলিশের শীর্ষমহল। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আশিক সাঈদ রোববার (০৭ জুন) বিকেলে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠককালে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। মে মাসের শুরুতে বিএমপিতে যোগদানের পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভবত এবারই প্রথম কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ডিআইজি পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা।

 

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, আশিক সাঈদ কমিশনার হিসেবে মে মাসের সাত তারিখে যোগদান করলেও পরবর্তীতে তিনি হজ পালনের উদ্দেশে সৌদিতে যান। সেখান থেকে ফিরে এসেই তিনি বরিশালের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে ৭ জুন অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। সকলের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তিনি বরিশাল শহরের অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে মাঠপুলিশকে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ করে কেউ যদি মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া, অনলাইন জুয়া, অসামাজিক কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, চুরি এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় জড়িত থাকে, সেক্ষেত্রে তাদের লাগাম টেনে ধরতে বলেছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ প্রমুখ।

ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা নামপ্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে জানান, নতুন পুলিশ কমিশনার বেশ কয়েকটি বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলেছেন। তার মধ্যে বেশিমাত্রায় গুরুত্ব পেয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের কী ভাবে দৌড়ের ওপর রাখা যায়। অবশ্য সেই পন্থাও শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা বাতলে দিয়েছেন। বিশেষ করে কমিশনার অপরাধ এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণের পরামর্শও দেন।

বিএমপি সূত্র জানিয়েছে, কীর্তনখোলা নদীতীরের এই জনপদে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংগ্রুপ যে ক্রমাগত সন্ত্রাস চালিয়ে তা নয়া পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কলোনীসমূহের এই অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধ করতে তিনি বেশ আন্তরিকও বটে। এসব অপরাধে জড়িতরা যে দল বা মতের হোক না কেনো তাদের ছাড়া না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

অবশ্য বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে নাগরিকসমাজ। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদক-সন্ত্রাসসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ড রোধে পুলিশের তরফ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থাগ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পদক্ষেপ লক্ষ্যণীয় নয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসার পরে অপরাধমূলক কর্মকান্ড আরও বৃদ্ধি পায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিস্ক্রিয়তায় শহরের প্রতিটি গলিগলিতে মাদক ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি মাদক বেচাবিক্রি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে মারমারি থেকে খুনের ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ ১৫ মে মাদকসংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কাউনিয়া থানাধীন পলাশপুর এলাকার জসিম সিকদার বাবু নামের ত্রিশোর্ধ্ব যুবক। গভীর রাতে বাসার অদূরে ১০/১৫ যুবক তাকে ধাওয়া করে এবং একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। আলোচিত এই হত্যাকান্ডে মূলহোতা মধুসহ কজনকে পুলিশ স্বল্পসময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে, বর্তমানে তারা কারাভ্যন্তরে আছেন।

মাঠপুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে সোমবার অপরাহ্ণে পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে ফোন করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সরকারি নম্বরটি উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মো. আব্দুল হান্নান রিসিভ করেন। এবং এই পুলিশ কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, মাঠপুলিশকে রোববার বৈঠকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি থানা কোতয়ালি, কাউনিয়া, বন্দর এবং বিমানবন্দরের ওসিদের আওতাধীন এলাকাসমূহের অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হান্নানের সাথে নাতিদীর্ঘ আলোচনায়ও কিছুটা আভাস মিলেছে যে মাঠপুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখতে কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে। অবশ্য এই ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশের তরফ থেকে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করা হয়। শেষপর্যন্ত পুলিশপ্রশাসন অপরাধীদের দমনে কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে: ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ফের যুদ্ধ শুরু করলে নেতানিয়াহুকে একাই লড়তে হবে:  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু করলে ইসরাইলকে একাই এর পরিণতি মোকাবিলা করতে হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) এই সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  খবর আল জাজিরার। 

 

সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরাইল ও ইরান হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর এ সতর্কবার্তা দিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে উভয় পক্ষকে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শান্তির লক্ষ্যে চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামি’ তা বাধাগ্রস্ত করে।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ফোন করে হামলা বন্ধ করার অনুরোধও জানান।

অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তোমাকে একাই লড়তে হবে।’

গত রোববার (৭ জুন) হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায় ইসরাইল। একই সময়ে ইরানও উত্তর ইসরাইলে  হামলা চালায়, যার প্রতিক্রিয়ায় তেল আবিব তেহরানের একাধিক স্থানে পাল্টা আঘাত হানে।

অবশ্য এরইমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সহিংসতা ও পালটাপালটি হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরাইল। সোমবার (৮ জুন) এ ঘোষণা দেয় দু’দেশ।