খুঁজুন
রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১৫ ভাদ্র, ১৪৩৩

আমতলী-তালতলীতে দাদনের গ্যাঁড়াকলে জেলেরা

আমতলী প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
আমতলী-তালতলীতে দাদনের গ্যাঁড়াকলে জেলেরা

দাদনের ভয়াবহ গ্যাঁড়াকলে পড়ে আছে বরগুনার দুই উপজেলার ১৪ হাজার ৬৮৯ জন ইলিশ জেলের জীবন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দারিদ্র্যের শেকলে বাঁধা তাঁরা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের দারিদ্র্যের কশাঘাতের সুযোগ নিচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীরা। দাদনের কারণে ইলিশের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত তাঁরা। দাদন ব্যবসায়ীদের জিম্মি ও দাদনের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পেতে সরকারিভাবে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এসব জেলে।

জেলেদের দাবি, সরকারিভাবে তাঁদের জাল ও নৌকা বিতরণ করা হোক। মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরিং পলিসিতে কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ আছে কিন্তু জেলেদের জন্য কোনো ঋণ নেই। কৃষিঋণের আওতায় জেলেদের আনা হলে তারা দাদনের গ্যাঁড়াকল থেকে মুক্তি পেত। জেলেদের দাদন থেকে মুক্তি দিতে সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চল আমতলী ও তালতলী উপজেলায় ১৪ হাজার ৬৮৯ জন নিবন্ধনধারী জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে আমতলীর ৬ হাজার ৭৮৯ এবং তালতলীর জেলে ৭ হাজার ৯০০ জন। এরা দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। বংশপরম্পরায় তাঁরা এ পেশা ধরে রেখেছেন। সারা বছর মাছ শিকার করেই চলে তাঁদের সংসারজীবন।

জেলেরা বলছেন, নদী ও সাগরে মাছ ধরা পড়লে ভালো চলে তাঁদের জীবনকাল। আর মাছ ধরা না পড়লে উনুনে পাতিল ওঠে না। জেলে পরিবারগুলোর মধ্যে তেমন শিক্ষা নেই। ফলে দাদন ব্যবসায়ীদের হাতে অতি সহজে তাঁরা জিম্মি হয়ে যান। উপকূলীয় অঞ্চলের গভীর সাগরে, সাগরের কিনারে এবং সাগরের শাখা-প্রশাখা নদীতে তিন শ্রেণির জেলে মাছ শিকার করেন। জেলেদের নদী ও সাগরে মাছ শিকার করতে প্রয়োজন জাল, নৌকা, ট্রলার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কিন্তু জাল, নৌকা ও ট্রলার তৈরিতে প্রয়োজনীয় টাকা অধিকাংশ জেলের হাতে থাকে না। তখনই তাঁরা দাদন ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হন। দাদন ব্যবসায়ীদের দ্বারস্থ হলেই তাঁদের হাতে জেলেরা জিম্মি হয়ে পড়েন। জেলেদের সংসার চলুক আর নাই চলুক আসল টাকা রেখে ব্যবসার টাকা তুলে নেন দাদন ব্যবসায়ীরা।

দাদন ব্যবসায়ীদের মর্জির ওপর চলে জেলেদের সংসারজীবন—এমন অভিযোগ জেলে ইসমাইল ও মাসুম তালুকদারের। জেলে ছত্তার, লাল মিয়া ও মোস্তফা হাওলাদার বলেন, ইলিশের ভরা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস। এই চার মাসে চলে দাদন ব্যবসায়ীদের রমরমা বাণিজ্য। দাদনের কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন জেলেরা। কেজিপ্রতি ইলিশের মূল্য ৫০-১৫০ টাকা কমিয়ে দেওয়া হয় জেলেদের। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই দাদনের টাকা ফেরত দিতে চাপ দেয় দাদন ব্যবসায়ীরা।

তালতলী উপজেলার গাবতলী এলাকার জেলে ছত্তার বলেন, ‘গত বছর দুই ফার (৯০০ হাত) জাল ও নৌকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় তৈরি করেছি। ওই টাকা দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে এনে পরিশোধ করতে হয়েছে। দাদনের টাকা আনা মানেই দাদন ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি। তাঁরা যেমন ইলিশের দাম নির্ধারণ করে দেন, তেমনই নিতে হয়। এতে আমরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। সরকারিভাবে জেলেদের জাল ও নৌকা বিতরণ করা হলে জেলেরা দাদন ব্যবসায়ীদের জিম্মি থেকে মুক্তি পেত।’

লাল মিয়া বলেন, ‘৮০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে এক ফার জাল-নৌকা তৈরি করেছি। গত পাঁচ বছরেও এ টাকা পরিশোধ করতে পারিনি।’ আমতলী গুলিশাখালী ইউনিয়নের নাইয়াপাড়া গ্রামের শামিম, আমানুল ও নাশির মাদবর বলেন, দাদন ছাড়া জেলেদের জীবন চলে না। প্রত্যেক জেলেরই কিছু না কিছু দাদন থাকে।

একই এলাকার নাঈম বলেন, ‘১০ বচ্ছর ধইরা জাল-নৌকা দিয়া ইলিশ মাছ ধরছি। আইজ পর্যন্ত দাদনের টাহা শ্যাষ হরতে পারি নাই। কবে শ্যাষ হরমু হেইয়্যা কইতে পারি না।’

নাইয়াপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সৈয়দ আকন বলেন, ‘ইলিশ মাছ ধরতে ধরতে বুড়া অইয়্যা গ্যালাম কিন্তু দাদন শ্যাষ হরতে পারলাম না। শ্যাষ হরতে পারমু কিনা জানি না। সরহার যদি মোগো জাল-নৌকা বানাইয়্যা দিতো হ্যালে আর মহাজনদের ধারে যাইতে অইতো না। মোরা সরহারের কাছে জাল-নৌকার দাবি হরি।’

তালতলীর ফকিরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাদন ব্যবসায়ী মজিবর ফরাজী জেলেদের জিম্মি রাখার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা খাটিয়ে সারা বছর জেলেদের পাশে থাকি। যখন মাছ ধরা পড়ে তখন কিছু কিছু কেটে রাখা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দাদন ছাড়া কোনো জেলে নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারে না।’

ফকিরহাট মৎস্য সমিতির সহসভাপতি ইউপি সদস্য মো. ছালাম হাওলাদার বলেন, অধিকাংশ জেলেই দরিদ্র। দাদন ছাড়া জেলেরা চলতে পারে না। জাল-নৌকাসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিতে যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন, ওই টাকা জেলেদের কাছে থাকে না। তাই বাধ্য হয়েই দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে যেতে হয়।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরিং পলিসিতে কৃষকদের জন্য কৃষিঋণ আছে কিন্তু জেলেদের জন্য কোনো ঋণ নেই। কৃষিঋণের আওতায় জেলেদের আনা হলে তারা দাদনের গ্যাঁড়াকল থেকে মুক্তি পেত। জেলেদের দাদন থেকে মুক্তি দিতে সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।