খুঁজুন
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

সবজি বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

বেতাগী প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সবজি বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, নাভিশ্বাস ক্রেতাদের

বরগুনার বেতাগী উপজেলার কাঁচাবাজারে সবজির দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই দাম বাড়তে থাকায় নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের মনিটরিং না থাকায় কয়েকজন প্রভাবশালী পাইকারের সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আগে একাধিক পাইকার থাকায় প্রতিযোগিতা ছিল, ফলে দামও ছিল ক্রেতা-বান্ধব।

কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে তিনজন পাইকার—মো. আলী, নাসির ও সজিব—যৌথভাবে সবজির পাইকারি ব্যবসা শুরু করার পর থেকেই অস্থিরতা দেখা দেয়। তারা খুলনা ও যশোর থেকে কাঁচামাল এনে স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করছেন এবং নির্দিষ্ট দামে বিক্রির চাপ দিচ্ছেন।

দামের তারতম্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ অক্টোবর কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩০০ টাকায়, যেখানে খুলনা থেকে পাইকারি দাম ছিল ২২০ টাকা। কড়োলা বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়, যা পাইকারি ছিল ৫৯ টাকা।

৪ অক্টোবর কাঁচামরিচের পাইকারি দাম দাঁড়ায় ৩৬০ টাকা এবং খুচরায় তা বেড়ে হয় ৪০০ টাকা, অথচ খুলনা থেকে তা আনা হয়েছিল ২৮০ টাকায়। বাজারের এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আগে পাইকার বেশি থাকায় দাম কমত। এখন তিনজন মিলে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। তাদের নির্ধারিত দামে কিনতে হয়, না হলে মাল পাওয়া যায় না।

দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পচন—সব মিলিয়ে শেষে লোকসান হয়।” অভিযোগ অস্বীকার করে পাইকার মো. আলী বলেন, “খুলনা থেকে ট্রাকভর্তি সবজি আনতে খরচ অনেক বেড়েছে। ভাড়া, লোডিং আনলোডিং, শ্রমিকদের মজুরি—সবকিছু মিলিয়ে দাম কিছুটা বাড়তি নিতে হয়।”

অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, বাজারে অস্থিরতা চলছে এবং প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় সিন্ডিকেট আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় সিন্ডিকেটবিরোধী জনসচেতনতা বাড়াতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন গত ১ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় “অল্প দামে ব্যাগ ভর্তি বাজার” কর্মসূচি পালন করে।

তবে এরপরও মূল বাজারে দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। বেতাগীর সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, “বাজার এখন কয়েকজনের ইচ্ছামতো চলে।” তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা চান, যাতে একচেটিয়া সিন্ডিকেট ভাঙে এবং বাজারে স্বাভাবিক দাম ফিরে আসে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হরে কৃষ্ণ অধিকারী বলেন, “বাজারে সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই তদন্ত করব। ন্যায্য দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসন নিয়মিত মনিটরিং চালাবে।”

 

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেন তিনি। তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

শপথ অনুষ্ঠানে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগেসহ বিভিন্ন বিদেশের প্রতিনিধি, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিচারপতি, কূটনৈতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে সংসদ ভবনের শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ নেন সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা (এমপি)। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তারা। শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

পরে একই স্থানে শপথ নেন জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা। ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। শপথ বাক্য পাঠ করান সিইসি।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।

যার মধ্যে ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফল ঘোষণা করা হয়নি।নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে ২০৯টিতে জয় পেয়েছে বিএনপি। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।  বিএনপির শরিকরা জয় পেয়েছে তিনটি আসনে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী জয় পেয়েছে ৬৮টি আসনে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন। তাদের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন ও খেলাফত মজলিস একটি করে আসনে জয়ী হয়েছে। বাকি সাতটি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ৩ নারী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন ৩ নারী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালেই। বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জনের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।

এ মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে তিন জন নারীকে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটায় থাকছেন তিনজন।

 

যে তিন নারী রয়েছেন মন্ত্রিসভায়: সংসদে মন্ত্রী হিসেবে থাকছেন আফরোজা খানম। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমিন।

বরিশাল বিভাগ পেলো ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

মো: ফিরোজ গাজী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বরিশাল বিভাগ পেলো ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছে বরিশাল বিভাগের ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বরিশাল-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনকে।

ভোলা জেলার মধ্যে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ডাকসুর সাবেক ভিপি ও পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর। তিনি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

এদিকে প্রথমবার বিপুল ভোটের ব্যবধানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ-কাজীরহাট) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন রাজীব আহসান। তিনি রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রথমবারেই রাজীব আহসান মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথগ্রহন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে শপথ গ্রহণ করেছেন।

এছাড়াও পিরোজপুর-২ আসন থেকে বিজয়ী হওয়া আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।