খুঁজুন
বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

সংবাদ প্রকাশের পরে ন্যায়কুঞ্জ থেকে খাবার হোটেল উচ্ছেদ

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পরে ন্যায়কুঞ্জ থেকে খাবার হোটেল উচ্ছেদ

বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামাগার ‘ন্যায়কুঞ্জ’ থেকে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি খাবার হোটেল উচ্ছেদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে বরিশালের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহির উদ্দিন ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবুল কালাম আজাদ, বরিশাল আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা রিয়াজ হোসেন, বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি হাফিজ আহমেদ খান বাবলুসহ আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ন্যায়কুঞ্জ গত বছর ৭ মার্চ বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীর উদ্বোধনের মাধ্যমে চালু হয়। ৮০০ বর্গফুটের এই বিশ্রামাগারে ৪০ জন বিচারপ্রার্থীর বসার স্থান, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক বাথরুম, ব্রেস্টফিডিং জোন এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও একটি ছোট টি স্টলের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এটি একটি খাবার হোটেল হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছিল, যার ফলে বিচারপ্রার্থীরা বিশ্রামাগারটি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।

৭ অক্টোবর দৈনিক আজকের বার্তা পত্রিকায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে প্রধান বিচারপতির নজরে আসে। তিনি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।

আদালতের একাধিক কর্মকর্তা জানান, “ন্যায়কুঞ্জ বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি সরকারি বিশ্রামাগার। এখানে কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালানো বেআইনি। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অবৈধভাবে পরিচালিত হোটেলটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।”

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পিপি হাফিজ আহমেদ খান বাবলু বলেন, “ন্যায়কুঞ্জ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। অবৈধ দখলমুক্ত হওয়ার ফলে এটি এখন প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে।”

বরিশালের ১০টি উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় আদালতে ছুটে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আগত বিচারপ্রার্থীদের জন্য বসার স্থান, নারীদের বিশ্রামাগার, টয়লেট এবং শিশুদের জন্য দুগ্ধপানের স্থানের অভাব ছিল। এই সমস্যা সমাধানে ন্যায়কুঞ্জ নির্মাণ করা হয়েছিল।

ন্যায়কুঞ্জের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিচারপ্রার্থীদের জন্য বিশ্রাম, ছায়া এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে এর উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছিল, যা নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ ছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের ফলে ন্যায়কুঞ্জ এখন তার প্রকৃত উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। আদালত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপ বিচারপ্রার্থীদের জন্য স্বস্তি নিয়ে আসবে এবং ন্যায়কুঞ্জ তার মূল লক্ষ্য পূরণে সক্ষম হবে।

 

ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২৬ অপরাহ্ণ
ইরান সীমান্ত থেকে মার্কিন বাহিনী এক হাজার কিলোমিটার দূরে পালিয়ে গেছে: আইআরজিসির

রানি বাহিনী তাদের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাভি।

ইরানের প্রেস টিভির বরাত দিয়ে আল-জাজিরা বলেছে, টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাভি বলেছেন, ‘মার্কিনরা পালিয়ে গেছে এবং আমাদের সীমান্ত থেকে ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে সরে গেছে। তারা নিজেদের ইচ্ছায় সরে যায়নি; ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও আইআরজিসির স্থলবাহিনীর ক্ষমতার কারণেই তারা এটি করতে বাধ্য হয়েছে।

ফাদাভি আরও দাবি করেন, এই প্রথম পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এমনকি উত্তর ভারত মহাসাগরেও কোনো মার্কিন জাহাজ নেই। তিনি আরও বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো আইআরজিসির হামলার শিকার হওয়ার ‘১০০ শতাংশ ঝুঁকিতে রয়েছে’।

ফাদাভির এই দাবি এমন সময়ে এল, যখন মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোয় কঠোর নৌ অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ‘কঠোরভাবে নিয়ম মেনে চলা নিশ্চিত করতে’ জুলাই থেকে তারা ১২৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করেছে।

ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৬ অপরাহ্ণ
ইরানের ৫ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, জর্ডানে পালটা আক্রমন তেহরানের

ওমান উপসাগর ও খারগ দ্বীপের কাছে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এ হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-আজরাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে অন্তত দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করেছে তেহরান।

এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের আইআরজিসি গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দু’বার লক্ষ্য করার চেষ্টা করেছিল। তবে জাহাজটি সফলভাবে হামলা এড়িয়ে যায়।

সেন্টকমের দাবি, এরপর মার্কিন বাহিনী ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের চারটি তেলবাহী জাহাজ—‘কাভিজ’, ‘চারমিনার’, ‘হরাইজন-১’ ও রিয়েস্কো—এবং খারগ দ্বীপের কাছে থাকা ‘দেরিয়া’ নামের আরেকটি জাহাজে হামলা চালায়।

 

হামলার আগে জাহাজগুলোর নাবিকদের জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরে মার্কিন বাহিনী এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে ‘রিয়েস্কো’ নামের একটি জাহাজকে ওমান উপসাগরে ডুবে যেতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি খারগ দ্বীপের কাছে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে জানানো হয়েছে।

আইআরআইবি জানায়, ওই হামলায় জাহাজের নাবিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক বন্দরের কাছেও আরেকটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছে।

পরে আইআরজিসি জানায়, মোট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছে।

 

এর জবাবে জর্ডানের আল-আজরাক মার্কিন ঘাঁটিতে ‘তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কয়েকটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে তারা।

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর ‘ডিডিজ-১১৯’ ও ‘ডিডিজি-৫৩’ নামের দুটি ডেস্ট্রয়ারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেগুলোতে ‘উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি’ করার দাবিও করেছে ইরান।

তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
সাগরে লঘুচাপের শঙ্কা, দেশে টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূবাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

প্রথম দিনের পূর্বাভাস (৯ সেপ্টেম্বর): ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।

দ্বিতীয় দিনের পূর্বাভাস (১০ সেপ্টেম্বর): রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং অন্যান্য বিভাগগুলোর কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের পূর্বাভাস (১১-১২ সেপ্টেম্বর): ১১ সেপ্টেম্বর সিলেট ও ময়মনসিংহে বৃষ্টিপাত বেশি থাকতে পারে। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমে এসে দেশের বিভিন্ন বিভাগের দু-এক জায়গায় স্থায়ী হতে পারে। এ সময়ে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য ওঠানামা করতে পারে।

পঞ্চম দিনের পূর্বাভাস (১৩ সেপ্টেম্বর): দেশের আটটি বিভাগেরই দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।