খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

লবণাক্ত জমি থেকে ‘সবজি রাজ্য’, সওদাগরপাড়ায় এখন কৃষির বিপ্লব

স্টাফ রিপোর্টার :
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩২ অপরাহ্ণ
লবণাক্ত জমি থেকে ‘সবজি রাজ্য’, সওদাগরপাড়ায় এখন কৃষির বিপ্লব

স্টাফ রিপোর্টার : বরগুনার তালতলী উপজেলার সওদাগরপাড়া গ্রাম একসময় ছিল চরম লবণাক্ততার শিকার। নদী ও সাগরের সংস্পর্শে থাকা পাঁচ হাজার একরের বেশি জমিতে বছরে কেবল আমন ধানই হতো, বাকি সময় জমিগুলো পড়ে থাকতো অনাবাদি। কিন্তু আজ সেই ছবিটা বদলে গেছে। এখন ২৭৫ একর জমিতে বছরজুড়ে হয় সবজি চাষ। একে ঘিরে বদলে গেছে এলাকার কৃষি, জীবিকা ও অর্থনীতি। জন্ম নিচ্ছে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও।

‘কান্দি পদ্ধতি’ বদলে দিল সব
এই কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যে আছেন গ্রামেরই একজন কৃষক, শাহাদাত হোসেন মাতুব্বর। তিনি উদ্ভাবন করেন বিশেষ এক চাষপদ্ধতি, যার স্থানীয় নাম ‘কান্দি’।

এই পদ্ধতিতে জমির চারপাশের মাটি কেটে মাঝখানে উঁচু বেড তৈরি করা হয়। এতে লবণাক্ততা কমে, আর বৃষ্টির পানি জমে সেচের কাজে লাগে। শাহাদাতের ভাষায়, বেড সমতল থেকে সাড়ে তিন ফুট উঁচু, তাই লবণ ছড়াতে পারে না। এখন বোরো ধানও হয়।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে বর্তমানে শতাধিক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন। ধান ছাড়াও হচ্ছে পেঁপে, কলা, বেগুন, লাউ, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন সবজি ও ফলের চাষ।

ব্যাংকের চাকরি ছেড়ে কৃষিতে সফল রাসেল
গ্রামেরই আরেক তরুণ ইমরান হোসেন রাসেল নিজের জীবনে বড় ঝুঁকি নিয়ে সফল হয়েছেন কৃষিতে। এক সময় ব্যাংকে চাকরি করতেন, পরে তৈরি পোশাক সরবরাহ ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ব্যবসায় বড় ক্ষতির পর ফিরে আসেন নিজ গ্রামে।

পারিবারিক ২৪ একর জমিতে শুরু করেন মাছ ও সবজি চাষ। এখন তার বাৎসরিক আয় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। রাসেল বলেন, পুকুরপাড়ের অব্যবহৃত জমিতে সবজি চাষ করছি। এটি সাপ্তাহিক আয়েও সাহায্য করছে। শাহাদাত হোসেনের সহযোগিতায় আরো আধুনিকভাবে কৃষিকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

গ্রামে ফিরছে মানুষ, বাড়ছে আয়
শুধু রাসেল নন, অনেকেই শহর ছেড়ে ফিরছেন গ্রামে। যেমন, সামসুল হক যিনি ১০ বছর আগে কাজের সন্ধানে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে। এখন গ্রামে ফিরে বছরে প্রায় ছয় লাখ টাকা আয় করছেন সবজি চাষ থেকে। কলেজছাত্র বায়েজিদ লেখাপড়ার পাশাপাশি আড়াই বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন। বছরে আয় করছেন চার লাখ টাকা। নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন চাষাবাদে। ফলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো গ্রামে তৈরি হচ্ছে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ। স্থানীয় কৃষক মিজান পঞ্চায়েত বলেন, আগে বিকল্প কাজের জন্য শহরে যেতাম, এখন আর যেতে হয় না। গ্রামের মধ্যেই বছরে চার-পাঁচ লাখ টাকা আয় করছি।

কৃষি ও পর্যটনের সমন্বয়
তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস জানান, বর্তমানে সওদাগরপাড়ায় ২৭৫ একর জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন হচ্ছে। প্রায় ২০০ কৃষক এই কাজে যুক্ত। বছরে প্রায় ১০০ মণ সবজি উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় আট কোটি টাকা। এলাকার এই সাফল্য পর্যটনেরও দরজা খুলে দিচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শহর থেকে মানুষ আসছে খেত দেখতে, ছবি তুলছে, সন্তানদের প্রকৃতির কাছে নিয়ে আসছে। কৃষক টুটুল মিয়া বলেন, শহরের মানুষ আসছে, খেত ঘুরছে। চাই এটার প্রসার হোক।

জল তরণী পর্যটন সংস্থার পরিচালক আরিফুর রহমান বলেন, ‘এটা এক ধরনের অ্যাগ্রো-ট্যুরিজম। উপকূলের লোনা জমিতে কৃষি ও পর্যটনের সংযোগ এখনো নতুন বিষয়। কিন্তু এটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে চাইলে এখনই প্রয়োজন স্থানীয় সরকার ও জেলা পর্যটন বিভাগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। গেস্ট হাউস, নৌকা ভ্রমণ, পর্যটক সুবিধা থাকলে এটি জেলাকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।