খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

রুপালি ইলিশের গল্পে জেলেদের শোকগাথা

চরফ্যাশন প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৯:১০ অপরাহ্ণ
রুপালি ইলিশের গল্পে জেলেদের শোকগাথা

নদী বা সাগরে রুপালি ইলিশ আহরণ শুধু অর্থনীতি আর স্বাদের গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য জেলে পরিবারের কান্না। মাছ ধরতে যাওয়া জেলেরা প্রায়ই ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে নিখোঁজ বা নিহত হন। অভিযোগ আছে, নিষেধাজ্ঞা বা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের সাগরে পাঠান মালিকরা। কিন্তু কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে খোঁজও নেন না। শাহে আলমের স্ত্রীর মতো বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকেন নিখোঁজের স্বজনরা। জানতে পারেন না প্রিয়জন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন।

জেলে শাহে আলমের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনের নীলকমল ইউনিয়নে। ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। স্বামীর অনুপস্থিতিতে দুই মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন স্ত্রী নেকু। একটি মেয়ে বিয়ের উপযোগী, অপরজনের পড়ালেখা বন্ধ। হাঁস-মুরগি পালন আর অন্যের বাসায় কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলছে। নেকু বলেন, মৎস্য অফিস থেকে একবার কিছু টাকা পেয়েছিলাম, ভাইয়েরাও সাহায্য করেছেন। কিন্তু আর কত সাহায্য করবেন? সরকার যেন আমাদের মতো পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ায়।

জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কবলে পড়ে ৭টি টলার ডুবে যায়। এরমধ্যে ‘নুসরাত’ ট্রলারের ২০ জন ‘শারমিন’র ৮ জন ‘এফবি তিন্নি’র ৬ জন ‘এফবি আম্মাজান’র ১১ জনসহ মোট ৭৮ জেলে নিখোঁজ হন। এরমধ্যে ভারতের কারাগার থেকে দুই দফায় ৩৬ জন জেলে উদ্ধার হন। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪২ জন। তাদের বাড়ি চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায়। একই ঝড়ে চরফ্যাশনের মায়া ব্রিজ এলাকার মনির মাঝির ট্রলারটি ২২ মাঝিমাল্লা নিয়ে ডুবে যায়। এরমধ্যে কাউকে এখনো পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ মনির মাঝির স্ত্রী নুসরাত বেগম বলেন, মালিকপক্ষ নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তাদের সাগরে পাঠায়। এমনকি দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য হুমকি দিয়েছিল। সরকার বা মালিকপক্ষ নিখোঁজদের সন্ধানে কোনো তৎপরতা চালায়নি। অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটালেও কেউ খোঁজ নেয়নি।

মনির মাঝির ট্রলারে ছিলেন চর কলমি ইউনিয়নের নাংলা পাতা গ্রামের তৈয়ব, কবীর ও আবুল কাশেম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর অনুপস্থিতিতে তাদের পরিবারেও নেমে এসেছে চরম দুদর্শা। আবুল কাশেমের ভাই মিজান বলেন, মালিকপক্ষের লোভের কারণে আমরা আজ নিঃস্ব। সাগরে গিয়ে প্রাণ গেলে বিচার বা সাহায্য কিছুই পাওয়া যায় না।

চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের তথ্য মতে, উপজেলায় প্রায় ৯০ হাজার জেলে রয়েছেন। এরমধ্যে নিবন্ধিত জেলে ৪৪ হাজার ২৮১ জন। এ অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার ট্রলার ও নৌকা রয়েছে। এছাড়া গভীর সমুদ্রগামী ৭ হাজার ট্রলার রয়েছে। ২০১৫ সালে ১১ জন, ২০১৬ সালে ১৯ জন, ২০১৭ সালে ৫ জন, ২০১৯ সালে ৪৮ জন, ২০২০ সালে ৯ জন, ২০২১ সালে ৯ জন, ২০২২ সালে ১২ জন, ২০২৩ সালে ৩৫ জন, ২০২৪ সালে ১১ জন জেলে নদী বা সাগরে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ বা প্রাণ হারিয়েছেন।

জানা যায়, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারানো জেলে পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ এবং ২০২৩ ও ২০২৪ সালে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারকেও অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৮ ও ২০২২ সালে নৌকা ডুবিতে প্রাণ হারানো জেলেরা সরকারি অনুদান পাননি।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় আরও জানায়, নিহত জেলেরা চর মাদ্রাজ, আসলামপুর, মাদ্রাজ, জিন্নাগড়, আমিনাবাদ, আবুবকরপুর, আহম্মদপুর, ওসমানগঞ্জ, এওয়াজপুর, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, রসলপুর, চর মনিকা, চর কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, নজরুল নগর, মুজিব নগর, ঢালচর, নুরাবাদ, নীলকমল, আব্দুল্লাহপুর, চরকলমী এলাকার। এদের কারো লাশ পাওয়া গেলেও খোঁজ মেলেনি অনেকের। স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি রফিক মাস্টার বলেন, শাহে আলম সাহসী ও অভিজ্ঞ জেলে ছিলেন। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের সময় মালিকরা তাকে মাছ ধরতে পাঠান।

সামরাজ মৎস্যঘাট জেলে সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকার ৯০ শতাংশ বাসিন্দা জেলে। তারা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যান।

চরফ্যাশন উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, নিখোঁজ বা নিহত জেলেদের পরিবারকে নগদ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি জেলে পরিবারকেও একই হারে অর্থ দেওয়া হবে।

 

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

রাসেল হোসেন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির দুইটি আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ উভয় আসন বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় আর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপির প্রার্থীরা।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট থাকলে বিএনপির প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী ড.ফয়জুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদির ।

এছাড়া এ আসনে মোরগ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থি মো. সাব্বির আহমেদ, তারা মার্কায় জেএসডির মোঃ সোহরাব হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ কামরুজ্জামান খান, হাস প্রতীকে স্বতন্ত্রে এম মঈন আলম ফিরোজী, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি জেপি থেকে মোঃ রুবেল হাওলাদার বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর সাথে। এছাড়া এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন আম, জেএসডির মাসুদ পারভেজ তারা, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ট্রাক এবং স্বতন্ত্র থেকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার কলস ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “আগের মত অবস্থা নেই।

নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন করে ভাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার আমরা দুটি আসনেই জয়ী হব বলে আশা রাখছি।” ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে কে সাধারন মানুষ ভোট দিবে না। ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইংশা আল্লাহ।”