খুঁজুন
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

মেঘনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্কুল-মসজিদ, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি

ভোলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
মেঘনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি-স্কুল-মসজিদ, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি

ষাটোর্ধ্ব শামসুন নাহার ও জাহানারা বেগম। দুই প্রতিবেশী। প্রায় তিন দশক ধরে সুখে-দুঃখে আছেন একে অপরের পাশে। কখনো ভাবেননি নদীতীরে একজনের শূন্য ভিটায় এভাবে পাশাপাশি বসতে হবে। মেঘনা নদীর ভয়াল ভাঙন কেড়ে নিয়েছে তাদের বসতভিটা, ঘর, আশ্রয় সবকিছু। এখন তারা পরিবারসহ খোলা আকাশের নিচে টং ঘরে মানবেতর জীবন পার করছেন। তারা কেউ জানেন না, এখন তাদের গন্তব্য কোথায়।

মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতবিক্ষত ভোলার সদর উপজেলার বিচ্ছিন্ন কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝেরচর গ্রামের দৃশ্য এটি। এক সময়ের শস্যভাণ্ডারখ্যাত এই গ্রামটির চার-পঞ্চমাংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অংশও রয়েছে হুমকির মুখে। ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত থাকায় যেকোনো সময় পুরো গ্রামটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে।

৯০ দশকে মেঘনার বুক চিরে জেগে ওঠা কাচিয়া ইউনিয়নের রামদেবপুর, মধুপুর ও টবগী গ্রামে আট মাস আগেও প্রায় ১০ হাজার মানুষের স্থায়ী বাস ছিল। এখন পর্যন্ত সেখানকার ৬টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের মধ্যে ৫টি মেঘনার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, হুমকির মুখে আছে রামদেবপুর-৪ নামের অবশিষ্ট প্রকল্পটি। নদীতে হারিয়ে গেছে একটি মাটির কিল্লা, দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা, তিনটি মসজিদ, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, শত শত বসতভিটা, বাজার, রাস্তাঘাট ও কয়েক কিলোমিটার এলাকার ফসলি জমি।

ভিটেমাটি হারিয়ে কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন নদীতীরের টং ঘরে, কেউ গরুর ঘরের পাশে একচালা ঘরে কাটাচ্ছেন দিন। নদী ভাঙনে স্কুল ভবন হারিয়ে ১৭৯ নং উত্তর-পশ্চিম কাচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে একটি পরিত্যক্ত সাইক্লোন শেল্টারে। কমিউনিটি ক্লিনিক চলছে বসতবাড়ির ভেতরে গড়ে ওঠা অবশিষ্ট মাটির কিল্লায়। ভোলার মূল ভূখণ্ডের একটি অংশের নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার এক নির্মম বাস্তবতা এটি।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, মাঝেরচরে আগে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ভোটার ছিলেন। প্রতিটি সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ছিল ১১০-১৩০টি করে ঘর। প্রকল্পগুলো হলো বারইপুরা-১, রামদেবপুর-২, রামদেবপুর-৩, রামদেবপুর-৫ এবং নতুন রামদেবপুর-৩। সবই এখন স্মৃতি। চর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এখন সবকিছু হারিয়ে যাচ্ছে নদীর জলে।

নদীতে ঘরবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছেন জেলে মো. কালু ও মেহের নিগার দম্পতি। ৩ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে তারা বসবাস করতেন রামদেবপুর-২ নম্বর আশ্রয়ণ প্রকল্পে। মেহের নিগার বলেন, এক রাইতের মইধ্যে নদী ঘরবাড়ি সব ভাইঙ্গা লইয়া গেছে, কিছুই হরাইতে পারি নাই। আচ্ছুক্কা ঠুস ঠুস কইররা ঘর ভিটার মাটি চাকা ধইররা নদীতে পড়ছে। নদী আমাগো সব লইয়া গেছে।

আবার অন্যের ভিটায় আশ্রয় নেওয়া জেলে আবু তাহেরের স্ত্রী জাহানারা বেগম বলেন, স্যার, এই মেঘনা নদী আমাগো সব লইয়া গেছে। এহন খোলা আকাশের নিচে আছি। ঘর-দুয়ার হরাইতে পারি নাই। রাইতকা নদী ঝাঁপায় ঝাঁপায় সব ভাইঙ্গা লইয়া গেছে। টাকা পয়সা নাই, ঘরদুয়ার করতে পারি না।

জেলে মো. সেলিম বলেন, ঘরটা লইয়া ছিলাম, নদী ঘরের লগে আসার পর ভাইঙ্গা সরায়ে আনছি। এখন এইখানে টং পাইততা আছি। এদিকে-ঐদিকে কোনো ঢালকুল নাই, জায়গা জমি নাই, অনেক বিপদে আছি।

বারইপুর গ্রামের অবশিষ্ট সরকারি মাটির কিল্লার আশপাশে দেখা গেল অর্ধশতাধিক পরিবার টিনের টং ঘরে বসবাস করছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রের দূরত্ব নদী থেকে মাত্র ১০০-১১০ মিটার। যেকোনো সময় বিলীন হতে পারে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সরকারি স্থাপনাও।

মাটির কিল্লার ভেতরে থাকা আকলিমা ও রাবেয়া বলেন, এইখানে ২০ পরিবার থাকার মতো জায়গাও নাই, তারপরও শ‘খানেক পরিবার আমরা এইখানে আছি। সন্তানদের নিয়ে থাকতে অনেক কষ্ট হয়। যাওয়ার কোনো জায়গা নাই।

কৃষক মো. স্বপন ও আবুল হাসেম বলেন, প্রতিবছর মাঝেরচরের জমিতে ক্যাপসিকামসহ নানা বিদেশি সবজির বাম্পার ফলন হতো। ভোলা ছাড়িয়ে বরিশাল ও ঢাকায় তা সরবরাহ করতেন। এখন চোখের সামনে সব ফসলি জমি নদীতে হারিয়ে গেছে। হাতে রয়েছে সামান্য জমি।

মো. বিল্লাল হোসেন ও মো. সালাউদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, চর রক্ষায় কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। মেঘনার পেটে গেছে ৫টি আশ্রয় প্রকল্প, একটি মাটির কিল্লা, ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২টি মাদরাসা, ৩টি মসজিদ, ১টি কমিউনিটি ক্লিনিক ও হাজারো বসতঘর। পুরো চরই এখন বিলীনের পথে।

রামদেবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মাকসুদুর রহমান জিলাদার বলেন, এইখানের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা ছিল আমাদের ক্লিনিক। দুঃখের সাথে বলতে হয়, নদী ভাঙনে ক্লিনিকটি বিলীন হয়ে গেছে। পরে অন্য একটি ঘরে স্বাস্থ্যসেবা চালালে সেটিও হারিয়ে যায়। এখন মাটির কিল্লার ভেতরে বসে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

দিশেহারা চরবাসীর এখন একটাই দাবি, অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় দ্রুত জিওব্যাগ বা সিসি ব্লক বসানো হোক এবং বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম চলছে, নদীর প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা অবগত আছি। মাঝেরচর পরিদর্শন করেছি এবং প্রকল্প গ্রহণের জন্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করছি। প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা হবে।

 

গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ
গৌরনদীতে টিফিনের রুটিতে ব্লেড ঢুকিয়ে রাখে স্কুলশিক্ষার্থী, শিক্ষিকা বরখাস্ত

 বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীর মিড ডে মিলের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্ত কমিটি কোম্পানির গাফিলতি কিংবা রুটির মধ্যে ব্লেড ঢুকানোর কোনো তথ্য পায়নি। স্কুলের শিক্ষার্থী কর্তৃক ব্লেড রুটির মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়াও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই না করে ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক স্কুলশিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকার নাম শারমিন জাহান। তিনি গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা।

বুধবার দুপুরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহীম জানান, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল ঘটনার সত্যতা উদ্ধার করা।

পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সরাসরি নির্দেশে তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তদন্ত টিম যেই কারখানা থেকে রুটি সরবরাহ করে সেই কারখানাটি সরেজমিন পরিদর্শন করে এবং রুটি তৈরির প্রত্যেকটা ধাপ তারা পর্যালোচনা করে। তারা প্র্যাকটিকালি মিক্সার থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা ধাপে ব্লেড দিয়ে দেখেছে কারখানা থেকে কোনোভাবেই এরকম একটা অক্ষত ব্লেড রুটির ভিতরে আসা সম্ভব না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরও বলেন, পরবর্তীতে ঘটনাস্থল হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কিংবা অভিভাবকদের মধ্যে থেকে কেউ চক্রান্ত করেছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য সব ধরনের পলিসি এপ্লাই করা হয়। এমনকি সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর বাড়িতে কোন কোম্পানির ব্লেড ব্যবহার হয় সেই বিষয়ে খবর নেওয়া হয় এবং সেই ব্লেডও উদ্ধার করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, একপর্যায়ে ওই ছাত্রী অবলীলায় স্বীকার করে যে ব্লেডটি তার ব্যাগে ছিল; কিন্তু স্কুলে ব্লেড আনা নিষিদ্ধ তাই ব্যাগ থেকে ব্লেড বের করার পর তার মনে হয়েছে ম্যাডাম যদি ব্লেড দেখে তাহলে তাকে শাস্তি কিংবা বকা দিতে পারে। এজন্য সে ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে রুটি খাওয়ার জন্য যখন সে প্যাকেট খোলে তখন পেছন থেকে জান্নাত নামের একটি মেয়ে ব্লেডটি দেখে ফেলে। তখন সে মনে করে জান্নাত যদি ম্যাডামকে বলে তাহলে বকা দিতে পারে। এজন্য সে আগেই ম্যাডামের কাছে গিয়ে বলে ম্যাডাম আমি রুটির মধ্যে ব্লেড পেয়েছি। ম্যাডাম যাচাই-বাছাই না করেই ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেয়। এরপর সদর ক্লাস্টার গ্রুপে মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ছবিটি ছড়িয়ে দেয়।

যার কারণে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাইয়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়। যে কারণে তিন দিনের মধ্যেই ঘটনার বিশ্লেষণ করে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনটি শতভাগ সঠিক বলেও তিনি (উপজেলা নির্বাহী অফিসার) উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান জানিয়েছিলেন, কোকাকোলা ম্যানুফ্যাকচারিং নামের একটি কোম্পানি থেকে স্কুলগুলোতে রুটি সরবরাহ করা হয়। কোম্পানি ফুল অটোমেটিকভাবে রুটি ম্যানুফ্যাকচারিং করে। সেখানে যদি কোনো মেটাল যায় তা মিক্সিংয়ে ক্রাশ হয়ে যাওয়ার কথা। সেখানে এত বড় একটা আস্ত ব্লেড থাকার কথা নয়।

স্কুলশিক্ষিকাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা শারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পাওয়ার কথা শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে জানায়। এ সংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচিত হয়।

ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ
ভূমধ্যসাগরীয় বন্দরে মার্কিন ট্যাংকারে হামলা, কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় একটি বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দামিয়েত্তা বন্দরে থাকা একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর দামিয়েত্তায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে।

বন্দরসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ এক পৃথক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তায় দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লেগেছে।

সংশ্লিষ্ট তিনটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রোনটি ভাসমান তেলবাহী ট্যাংকার ‘এনার্গোস উইন্টারে’ আঘাত হানে। এতে ট্যাংকারটিতে আগুন ধরে যায়। পরে আগুনটি ‘গ্যাসলগ সালেম’ নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। দুটি পৃথক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলার ফলেই এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

অ্যামব্রে জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ দায় স্বীকার করেনি।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তেহরানকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।

জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ভয়াবহভাবে আঘাত করব। আমরা তাদের ওপর প্রচণ্ড হামলা চালাব। তারা এর কঠিন মূল্য দেবে।

জর্ডানে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই মাঝআকাশে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ওই দাবির পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা দেন ট্রাম্প।

ইরানের ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ট্রাম্প ‘আকস্মিক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে পৌঁছানোর আগে প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য মার্কিন সেনাদের হাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় ছিল।

মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
মঠবাড়িয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৮ বছরের শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ
মঠবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডে প্রথম শ্রেনীতে অধ্যায়নরত ৮ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীর সাথে অশোভন আচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রাইভেট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ফয়সাল নামে ওই প্রাইভেট শিক্ষক টিকিকাটা ওহাবিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত ওই অভিযোগের বিষয় হিসেবে ৮ বছর বয়সী শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২৭ জুলাই (সোমবার) মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ওই ছাত্রীর মা সুমি আক্তার অধ্যক্ষের অফিসে এসে লিখিত অভিযোগটি দাখিল করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,কম্পিউটার অপারেটর ফয়সাল মিয়ার কাছে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে। এমনকি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রাইভেট পড়ার সময় শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়া ছিল নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।কারো কাছে যাতে কিছু না বলা হয় সেজন্য শিশুটিকে খুন জখমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ব্যাপারে অভিযোগকারী সুমি আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারটি রুম্মান নামে ওই ছাত্রীর এক চাচার বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান,অভিযোগ আমিই দিয়েছিলাম। আবার আমি এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি।প্রিন্সিপল হুজুর বিষয়টি শালিসি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করে দিবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, প্রথম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই ছাত্রীর মা মাদ্রাসার অফিস কক্ষে এসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে । মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতিকে অবগত করেছি।আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলালের ছেলে খালিদ সাইফুল্লাহ আমিন বাবু জানান,আমি এখন পর্যন্ত ভালোভাবে বিষয়টি অবগত না হলেও কিছুটা অবগত হয়েছি।অধ্যক্ষের সাথে কথা বলে দেখতেছি।বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান,বিষয়টি অবগত হয়েছি।এ ধরনের অপরাধ স্থানীয় পর্যায়ে শালিস ব্যবস্থার কোন বিষয় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।