খুঁজুন
বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩

বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিসিসি’র উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র

কাজী রাফি ॥ বরিশাল সিটি করপোরেশনের একের পর এক উচ্ছেদ অভিযানে পাল্টে যাচ্ছে নগরীর চিত্র। উদ্ধার হয়েছে খাল, সড়ক ও ফুটপাত। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ হয়েছে অনেকাংশে। বিসিসি’র এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন নগরবাসী। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবী জানান তারা।

জানা গেছে, বরিশাল সিটি করপেরশেনের প্রশাসক হিসেবে রায়হান কাওসারকে নিয়োগ দেয়ার পর থেকে কঠোর হস্থে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। তার নির্দেশনায় এমন দুঃসাহসিক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কোন কোন উচ্ছেদ অভিযানে প্রশাসক রায়হান কাওসার নিয়েই নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে উদ্ধার হয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ন খাল, সড়ক ও ফুটপাত। এছাড়া দখলমুক্ত হয়েছে সিটি করপোরেশনের জমি। উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে বিসিসি’র প্রশাসক রায়হান কাওসারের বক্তব্য, “এটি কোনো এককালীন অভিযান নয়, বরং এটি একটি সিস্টেমেটিক ক্লিনজিং ক্যাম্পেইন।”

এর আগে স্কুল-কলেজের সামনের ফুটপাতসহ নগরীর বিভিন্ন ব্যস্ততম এলাকার ফুটপাত ছিলো হকারদের দখলে। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও ড্রেন দখল করে গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন দোকান-পাট সহ বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ও স্থাপনা। উচ্ছেদ অভিযানে দখলমুক্ত করা হয় সে সকল রাস্তা ও ড্রেন। ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে হ্রাস পেয়েছে জলাবদ্ধতা এবং কমেছে মশার উপদ্রব। এছাড়া নগরীর প্রধান সড়কগুলেতে কমেছে যানজট।

বিসিসি সূত্র জানায়, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে ফুটপাত ও ড্রেন পরিস্কার, মশার বিস্তার রোধে নগরীর কাশিপুর চৌমাথা থেকে বিল্লবাড়ি সড়ক (মাজার) পর্যন্ত খালের পাশের ২৫/৩০ টি স্টল, মড়ক খোলার পোল থেকে লাকুটিয়া খালের পাশের অবৈধ স্থাপনা, লাদেন সড়কের অবৈধ স্থাপনা, শের-ই বাংলা সড়ক ও জিয়া সড়কের খালের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা, পরেশ সাগর মাঠ, সদর গার্লস্ স্কুলের সামনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বরিশাল সিটি করপোরেশন।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, খাল সংরক্ষণে কংক্রিট বাউন্ডারি ওয়াল তৈরী করতে হবে, স্মার্ট ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্পে কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে, প্রতি মাসে ‘মাসিক ক্লিন সিটি ডে’ পালন করতে হবে। এছাড়া দখল রোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন তারা।”

এদিকে কঠোর উচ্ছেদ অভিযানে নগরীতে স্বস্তি ফিরলেও জীবিকা সংকটে পরেছে ফুটপাত ও সড়কের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে শতশত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। আজ তারা বেকার। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করার দাবী জানান তারা।
এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ শাখার প্রধান স্বপন কুমার দাস বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, জলাবদ্ধতা ও মশার বিস্তার রোধে ড্রেন এবং খালের দুপাশে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা আহমান উদ্দিন রোমেল বলেন, উচ্ছেদ অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশাসকের নির্দেশে অবৈধভাবে ফুটপাত, খাল ও সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযান চলবে।

 

মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায় যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্য থেকে সম্মানজনক বিদায় চায়। এটাকে তিনি ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাস’ হিসাবে অভিহিত করেন। তার দাবি, সেই ব্যবস্থায় বিদেশি শক্তিগুলো দ্রুত তাদের প্রভাব হারাচ্ছে। আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও কাসেম সোলেইমানির কথা উল্লেখ করে বুধবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘প্রিয় আবু মাহদি ও হাজ কাসেম! এটি আপনাদের সংগ্রাম ও পবিত্র রক্তের ফসল।

আলজাজিরা জানায়, আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার। আর কাসেম সোলেইমানি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের প্রধান ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় তারা দুজনেই নিহত হন।

গালিবাফ বলেন, ‘নতুন আঞ্চলিক বিন্যাসে বিভিন্ন দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ দ্রুত কমে আসছে; যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চল থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। নদী থেকে সমুদ্র (রিভার টু দ্য সি) পর্যন্ত বিস্তৃত জায়গাজুড়ে জায়নবাদী শাসনব্যবস্থার যে প্রকল্প ছিল, তা এখন কেবলই এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

 

ইরানের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আমিরাতের : দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে-এমন অভিযোগে ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তেহরান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার ভোরের দিকে দেওয়া বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে যাবতীয় বাণিজ্য, বাণিজ্যিক আদান-প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।’ আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে উৎক্ষেপিত দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের দ্বারা তার দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ (অন্যের ওপর দোষ চাপানোর উদ্দেশ্যে সাজানো কোনো ঘটনা) হতে পারে।

 

বাঘাই সতর্ক করে বলেন, এ দাবি ‘সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতির পরিপন্থি।’ তিনি আঞ্চলিক পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা তেহরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ থেকে দূরে থাকে। তিনি আরও যুক্তি দেন, পরিস্থিতির যে কোনো নিরপেক্ষ মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কেও বিবেচনায় নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ : যুদ্ধের প্রথম ছয় সপ্তাহে ইরান অন্য যে কোনো উপসাগরীয় দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে (ইউএই) লক্ষ্য করে সবচেয়ে বেশি প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ বা স্থাপনা হিসাবে চিহ্নিত লক্ষ্যবস্তুর ওপর ৫৩০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ডজনখানেক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল। তবে হামলা চালিয়ে কখনোই দায় অস্বীকার করেনি ইরান। সেক্ষেত্রে এবারের হামলা কারা চালিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
তালতলীতে বিএনপির পালটাপালটি সভা ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্রসহ আটক ৫

 সোহেল রানাঃ তালতলীতে বিএনপির দুই গ্রুপের পালটাপালটি সভা কেন্দ্র করে দুদিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান এবং বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার দুপুরে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে আটকরা হলো- তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিমন সিকদার, কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার অনিক মজুমদার, বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মো. জামাল, নরাইলের লোহাগড়ার জিহাদ খান ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার হৃদয় মোল্লা।

জানা যায়, গত শনিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্য কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জেরে দুই গ্রুপ বুধবার পালটাপালটি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়।

পরে গাবতলী এলাকায় ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। বিকালে মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে আমার লোকজনদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।

আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছে। মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি অবগত না। ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, এখনোও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে।

সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশের জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসির প্রতিযোগিতায় অনন্য সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। বিশ্বের ১৩৩টি দেশের শত শত প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার চতুর্থ শাখায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। খবর এসপিএ’র।

হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া রাজধানীর আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এবারের প্রতিযোগিতায় তিনি চতুর্থ শাখায় অংশ নেন। এ শাখায় প্রতিযোগীদের টানা ১৫ পারা পবিত্র কুরআন হিফজের পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত ও তাজবিদের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

সবগুলো ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের এই কুরআনের হাফেজ। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেন বিশ্বের ১৩৩টি দেশের ৩৩৪ জন প্রতিযোগী।

পাঁচটি পৃথক শাখায় আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিচারকরা প্রতিযোগীদের কুরআন হিফজ, তিলাওয়াত, তাজবিদ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করেন। বিভিন্ন শাখায় মোট ৫০ জন প্রতিযোগীকে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে।

সৌদি আরবের ইসলাম বিষয়ক, দাওয়াহ ও দিকনির্দেশনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এবারের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কারমূল্য এক কোটি ২৬ লাখ সৌদি রিয়াল।