খুঁজুন
শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

বরগুনায় বিটিসিএলের অর্ধকোটি টাকা টেলিফোন বিল বকেয়া

বরগুনা প্রতিনিধি : 
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
বরগুনায় বিটিসিএলের অর্ধকোটি টাকা টেলিফোন বিল বকেয়া

বরগুনায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর নয় শতাধিক গ্রাহকের কাছে বিল বকেয়া রয়েছে। কিন্তু প্রকৃত হিসাব জানাতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি নিজেই।

তাদের ধারণা, অন্তত অর্ধকোটি টাকা গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে। তথ্যের ঘাটতি ও জনবল সংকটে বিল আদায় কার্যত থেমে আছে বলে জানিয়েছে বিটিসিএল।

বরগুনা শহরের কলেজ রোডের স্বপন কুমার রায়ের কাছে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিটিসিএলের পাওনা রয়েছে দুই লাখ নয় হাজার টাকা। কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই নামের কাউকে তারা চেনেন না। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি ভারতে চলে গেছেন। ফলে এত বিপুল বকেয়া টাকা আদায় কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একইভাবে বালিকা বিদ্যালয় সড়কের কামরুল ইসলাম কাঞ্চনের কাছে প্রায় ৩৩ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়েও কর্তৃপক্ষ তার সন্ধান পায়নি। এ ধরনের বহু গ্রাহকের খোঁজই মিলছে না। ফলে বকেয়া আদায় প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছে।

বালিকা বিদ্যালয় সড়কের ব্যবসায়ী তানিম বলেন, ‘আমি এখানে ব্যবসা করি, আমাদের বাসাও এখানে। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বসবাস। কিন্তু কামরুল ইসলাম কাঞ্চন নামের কাউকে কখনও চিনিনি।’

বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণের অভাবে এখন অনেকের পরিচয়ই শনাক্ত করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে নয় শতাধিক সংযোগ বহু বছর ধরে অচল রয়েছে। এসব গ্রাহকের খোঁজ না পাওয়ায় বকেয়া আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে জেলায় সচল টেলিফোন সংযোগ মাত্র ৬৯৪টি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৭৪টি, পাথরঘাটায় ৫২টি, আমতলীতে ৭৭টি, বেতাগীতে ৫১টি, বামনায় ৩৭টি এবং তালতলীতে ২৫টি। এছাড়া জেলায় এডিএসএল সংযোগ রয়েছে ৭৮টি এবং জিপিএন সংযোগ সচল রয়েছে ১ হাজার ৭৫টি।

বিটিসিএল বরগুনা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ওবায়দুর রহমান ফজলু বলেন, ‘৮০ এবং ৯০-এর দশকে যেসব সংযোগ দেয়া হয়েছিল, সেখানে গ্রাহকের শুধু নাম আছে। অন্য কোনো তথ্য নেই। তাই এখন বকেয়া থাকা গ্রাহকদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। ফলে বকেয়া বিল আদায় কার্যত সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকার বকেয়া বিল আদায়ের জন্য ১৫ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া আরও ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আদায়ের জন্য ২০ গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বিটিসিএল-এর বরগুনা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক (টেলিকম) মো. বনি আমিন বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে আমাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অফিসে তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। তাই বকেয়া বিল আদায় ও প্রকৃত পাওনার হিসাব নির্ধারণ করতে পারছি না।’

এ বিষয়ে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন, ‘রাষ্ট্রের টাকা অনাদায়ী রাখার সুযোগ নেই। বিটিসিএলের পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।