খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

পিকনিকের চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতন, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ জুলাই, ২০২৫, ৯:৩৬ অপরাহ্ণ
পিকনিকের চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতন, পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল//

বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে পিকনিকের জন্য দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় মামুন হাওলাদার (৩০) নামের এক ব্যবসায়ীকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বরিশাল বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ব্যবসায়ী মামুন বাদী হয়ে নামধারী পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (যার নং-সি.আর ১৫৫২)। এরআগে শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে চরমোনাই ইউনিয়নের শালুকা মীরা বাড়ি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।  মামলার আসামিরা হলেন- চরমোনাই ইউনিয়নের চরখানম এলাকার আদম আলী শিকদারের ছেলে শাহ আলম শিকদার, এফাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে নিজামুল হক হাওলাদার, আব্দুল হাকিম শরীফের ছেলে বাহাদুর শরীফ, মোখলেছুর রহমান খানের ছেলে আয়নাল হক খান, মৃত আফসের হাওলাদারের ছেলে হারুনুর রশিদ হাওলাদার। এছাড়া অজ্ঞতনামা ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে আসামিরা চাঁদাবাজির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দুপুরে মামলার বাদী মামুন হাওলাদার, মামলার সাক্ষী আকিব হোসেন ওরফে আপেল এবং মেহেদী হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।  সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহ আলম জানান, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচারসহ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক উপযুক্ত বিচারের দাবি জানান। তবে সংবাদ সম্মেলন করে সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়া যাবে না, এমনটাই জানান বাদী মামুন হাওলাদার।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডস্থ ফরফরিয়া তলা গ্রামের হারুন হাওলাদারের ছেলে মামুন হাওলাদারের সালুকা মীরা বাড়ি বাজারে ডেকোরেটার ও টেলিকমের ব্যবসা রয়েছে। গত ১৯ জুলাই পিকনিকের জন্য মামুনের দোকানে আসামি শাহ আলম শিকদারসহ অন্যান্যরা ১০ হাজার টাকা ও ডেকোরেটারের মালামাল দাবি করেন। তবে মামুন ডেকোরেটারের মালামাল দিতে রাজি হলেও টাকা দিতে রাজি হননি। এদিকে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ওই দিন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে দোকান বন্ধ করে মামুন বাড়ি ফেরার পথে আসামী শাহ আলম শিকদার, নিজামুল হক হাওলাদার, বাহাদুর শরীফ, আয়নাল হক খান, হারুনুর রশিদসহ ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র দা, লোহার রড, হকিষ্টিক, লাঠিসোটা নিয়ে তার পথরোধ করে পুনঃরায় ১০ হাজার টাকা ও ডেকোরেটারের মালামাল দাবি করেন। তখন দোকান বন্ধ করায় ডেকোরেটরের মালামালও দিতে অস্বীকার করলে মামুনকে তারা এলোপাথারী মারধর করে বাজারের একটি খুটির সাথে বেঁধে রাখে। এ সময় শাহ আলম শিকদারের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মামুনের চোখের নিচে পিটিয়ে জখম করে। এরপর নিজামুল হক হাওলাদার মামুনের পেটের নিচে কিডনী বরাবর লাথি মেরে গুরুতর জখম করে। পরে বাহাদুর শরীফ ক্ষিপ্ত হয়ে আয়নাল হক খান ও হারুনুর রশিদের সহায়তায় মামুনের শরীরে পয়জন ইনজেকশন পুশ করে। তখন মামুন প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরাতে থাকলে তার পকেটে থাকা ব্যবসায়ের নগদ ২০ হাজার টাকা ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

পরে স্থানীয়রা মামুনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।  ভূক্তভোগী মামুন বলেন- আমি একজন অসহায় ব্যবসায়ী। আমার আর্থিক অবস্থা তেমন সচ্ছল নয়। চাঁদা না দেয়ায় আমার উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহ আলম শিকদার বলেন- ব্যবসায়ীদের মধ্যে তর্ক-বির্তকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা বিভ্রান্তকর তথ্য প্রচারের পাশাপাশি আমাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র চলছে। সকল ব্যবসায়ীর সর্বসম্মতিক্রমে এক নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজের লাইটিং এর দায়িত্ব দেওয়া হয় বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মামুন হাওলাদারকে। সন্ধ্যায় লাইটিং সিস্টেমে সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাজার ব্যবসায়ী মো. বাহাদুর শরীফ লাইটিং সিস্টেমের সমস্যা সমাধান করতে বলে মামুনকে। বিষয়টি নিয়ে দুই জনের মধ্যে তর্ক-বির্তকের একপর্যায় মামুন ইট দিয়ে আঘাত করলে বাহাদুর শরীফের ডান হাতের কব্জি রক্তাক্ত জখম হয়।

পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান করা হয় এবং পরবর্তীতে সকলে মিলে একত্রে রাতের খাবার খাই।

এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার জোড় দাবি জানিয়েছেন ভূক্তভোগীর স্বজনরা।

অবহেলিত হিজলা আর অবহেলিত থাকবে না-রাজিব আহসান

হিজলা প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
অবহেলিত হিজলা আর অবহেলিত থাকবে না-রাজিব আহসান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত (ধানের শীষ) প্রতীকের প্রার্থী রাজিব আহসান এর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান  তার বক্তব্যে বলেন, আমি এমপি হলে অবহেলিত হিজলা আর অবহেলিত থাকবে না।

নানা প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে একটি পৌরসভা, উপজেলা অডিটরিয়াম, উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন, নদী ভাঙ্গন রোধে বাঁধ নির্মাণসহ নানা প্রতিশ্রুতি। এছাড়াও সাধারন নাগরিকের সুবিধার নিশ্চিত এর লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের হয়রানি থেকে মুক্ত করা হবে।

 

তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।এসময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন,বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক দেওয়ান মোঃ শহীদুল্লাহ, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অলিউদ্দিন সুমন, সহ বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ,অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এ্যাডভোকেট দেওয়ান মোঃ মনির হোসেন  সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাপ হোসেন খোকন। বিকাল তিনটা থেকেই উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন থেকে আলাদা আলাদা মিছিল এসে জনসভায় অংশগ্রহণ করেন নেতাকর্মীরা।

এটাই সম্ভবত শেষ ব্রিফিং, বললেন প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
এটাই সম্ভবত শেষ ব্রিফিং, বললেন প্রেস সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। এ সময় আজকেরটাই সম্ভবত শেষ ব্রিফিং বলে মন্তব্য করেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাসে আমরা সব সময়ই নিউজ যত দ্রুত সম্ভব আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সব ঘটনার সঙ্গে সরকারের অবস্থা কী তা আমরা আপনাদের জানিয়েছি।

প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজে সব ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার পেজে এমন কোনো নিউজ নেই, যেটা আমরা শেয়ার করিনি। পেজ ২০ কোটিবার ভিউ হয়েছে মিনিমাম, সবকিছু মিলিয়ে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন সময় প্রেস কনফারেন্সের যত প্রশ্ন আপনাদের ছিল, সবই আমরা নিয়েছি।

 

এ সময় প্রেস উইংয়ের আরেক সদস্য আজাদ মজুমদার বলেন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি, আপনাদের সহযোগিতা পেয়েছি। আগামী সপ্তাহে আশা করছি আমরা টেবিলের ওপারে আপনাদের সঙ্গেই থাকব।

আরেক সদস্য ফয়েজ আহমদ বলেন, আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গে বেশি ক্লোজ থেকেছি। সম্পূর্ণ পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নানা কারণে আমরা এক্সট্রা অর্ডিনারি অবস্থার মধ্য দিয়ে গেছি। আমাদের কোনো আচরণে আপনারা কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা সরি।

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।