খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩

পটুয়াখালীতে এলজিইডির শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:১০ অপরাহ্ণ
পটুয়াখালীতে এলজিইডির শতকোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় উন্নয়ন প্রকল্পের নেওয়া অনেক সড়ক এখন জনগণের কাছে চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, পটুয়াখালীর সদর উপজেলার করমজাতলা সড়ক থেকে বহালগাছিয়ার ড্রেনেজ-সবখানেই অর্ধসমাপ্ত কাজের চিহ্ন। প্রত্যন্ত অঞ্চল গলাচিপার ছোনখোলা, উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়ার বালিয়াতলী কিংবা মির্জাগঞ্জের চরখালী-সবখানে একই চিত্র। সম্পূর্ণ কাজ কোথাও শেষ হয়নি।

কাজ বন্ধ থাকা সড়কে এখন ধুলোর ঝড়, কাদা মেখে হাঁটছে মানুষ। তবে সড়ক, ড্রেন, সেতু-কাগজে-কলমে প্রকল্পগুলো জমজমাট। তবে কোথাও ভাঙ্গা সেতুর পাশে নৌকা পারাপার, কোথাও আবার অসমাপ্ত খোয়া বিছানো রাস্তায় থেমে আছে জীবনের গতি।

এলজিইডির অফিস সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির আওতায় পটুয়াখালীতে নেওয়া ২২টি প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এ সব কাজ। যাঁর প্রতিষ্ঠানের নামে প্রকল্পের কাজ বরাদ্দ হয়েছিল, সেই ঠিকাদারের নাম মিরাজুল ইসলাম।

ঠিকাদার মিরাজুল ইসলাম পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজের ভাই। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মিরাজুল আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।

এর পর থেকে জেলায় নেওয়া মিরাজুল ইসলামের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো বন্ধ রয়েছে। প্রভাবশালী এই ঠিকাদারের শতকোটি টাকার প্রকল্প এখন এলজিইডির জন্য মহা জটিলতায় পরিণত হয়েছে। আর দুর্ভোগে হাবুডুবু খাচ্ছেন সংশ্লিস্ট এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষায়, এলজিইডির কাজ মানেই ‘মিরাজুল-মহারাজ সিন্ডিকেট’। মিরাজুল ইসলাম ও তাদের পরিবারের ঠিকাদারী লাইসেন্সে পিরোজপুর, পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলায় কার্যত একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছিলেন ওই সিন্ডিকেট।

এলজিইডি সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২১ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত তিন অর্থবছরে মিরাজুলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল-এর নামে ২২টি প্রকল্পের কাজ দেওয়া হয়। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ১২টি, গলাচিপায় তিনটি, মির্জাগঞ্জে তিনটি, কলাপাড়ায় দুটি, দুমকিতে একটি এবং রাঙ্গাবালীতে একটি প্রকল্প রয়েছে।

এই ২২ টি প্রকল্পের মধ্যে ৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ‘দেশের দক্ষিণাঞ্চলের আয়রন ব্রিজ পুনর্র্নিমাণ বা পুনর্বাসন প্রকল্প’ এর আওতায় ২২টি আয়রন ব্রীজ পুনর্র্নিমাণের কথা রয়েছে। কাজের মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এ সকল প্রকল্পের অগ্রগতি গড়ে ৫০ শতাংশের বেশি হয়নি। তবে দুইটি প্রকল্প শেষ হলেও বাকিগুলো মাঝপথে থেমে গেছে।

এদিকে এসব প্রকল্পের অসমাপ্ত সড়ক ও সেতুতে তৈরি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। এলজিইডির একাধিক প্রকৌশলী পুরো পটুয়াখালী জেলাজুড়ে চষে বেড়িয়েছেন। তারা বলেছেন, মিরাজুলের নেওয়া প্রকল্পের কাজ পড়ে আছে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায়। অথচ কোন কোন প্রকল্প থেকে অর্ধেকর কাজের বিপরীতে টাকাও বেশি তুলে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই রাস্তায় চলতে গেলে আমাদের নিজেরাই মাটি ফেলে নিতে হয়। এক বছর ধরে ঠিকাদারের দেখা নেই। খুব কষ্টে আছি আমরা।’

একই এলাকার গৃহিণী আসমা আক্তার, ‘খোয়ার মধ্যে হাঁটতে গিয়ে জুতা নষ্ট হয়। মাসে তিন জোড়া জুতা লাগে। গরিব মানুষ কই পাবে এত টাকা? আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। দ্রুত এর সমাধান চাই।’

সশ্লিষ্ট প্রকল্প এলাকার বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঠিকাদার টাকা খাইয়া পলাইছে। রাস্তাগুলো ভাইঙ্গাচুইরা রইছে। নতুন কইরা কাজ করলে জনগণের উপকার হইতো। সরকার যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।’

এ বিষয়ে এলজিইডির পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হোসেন আলী মীর বলেন, মিরাজুল ইসলাম মালিকাধীন ইফতি ইটিসিএল-এর ২২টি প্রকল্পের গড়ে ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারকে না পাওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। কাজ বন্ধ আছে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটি সমস্যা হচ্ছে স্থানীয় ঠিকাদাররাও কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তিতে দ্রুত গতীতে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।

‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
‘লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নয়’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান পূর্বশর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলের হামলা ও আগ্রাসনের পরম ও শর্তহীন অবসান। রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই কথা জানিয়েছেন। 

লেবাননের অখণ্ডতা রক্ষা এবং হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের সমর্থন দেওয়াকে তেহরানের কৌশলগত দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধ অবসানের চুক্তিতে লেবানন ইস্যুটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এর আগে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সমঝোতায় এই শর্ত থাকলেও হরমুজ প্রণালির বিরোধে তা ভেস্তে যায়। এদিকে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক কাঠামোগত চুক্তিকে একপেশে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।

লেবাননীয় সেনাবাহিনী অভিযোগ করেছে, নির্ধারিত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারে বাধা দিয়ে ইসরাইল এখনও দক্ষিণ লেবাননে নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ ও সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান এই সংঘাতে লেবাননে ৪ হাজার ৩২৯ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
যে শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটল ককরোচ জনতা পার্টি

আন্দোলন প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানির অভিযোগে ফের বিক্ষোভের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারতে। তবে গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত হয়েছে। বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

 

সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) গভীর রাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এই বৈঠক হয়।

বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছে, ‘কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

সংগঠনটির দাবি, সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছে যে বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন (নোটিফিকেশন) জারি করা হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিজেপি অভিযোগ করেছিল, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ না নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা ভঙ্গ করা হচ্ছে। এ নিয়ে তারা নতুন করে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। তবে পরে কর্মকর্তারা বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি তাদের কাছে তুলে দেন। ওই প্রজ্ঞাপনে বিক্ষোভকারীদের জন্য ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সোমবার রাত ১টার দিকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকার আবারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্যে একই ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের কয়েক ঘণ্টা পর সরকারের প্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি দুই থেকে তিন ঘণ্টা চলে। সেখানে বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কপি আমাদের দেওয়া হয়েছে। এতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং আটক সবাইকে মুক্তি দেওয়ার নিশ্চয়তা রয়েছে।’

সৌরভ দাস জানান, কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপি/এনডিএ-শাসিত অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরনের নিশ্চয়তামূলক প্রজ্ঞাপন জারি করার প্রতিশ্রুতি সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, সমঝোতা অনুযায়ী ভাষাই ব্যবহার করা হবে। কোনো বিক্ষোভকারীকে একা ফেলে রাখা হবে না। আমরা সবাই একসঙ্গে আছি।’

বৈঠকের পর প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন হবে কি না—এ নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তারা প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা তাদের বলেছি, সরকারের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর জবাবে তারা বিহার স্বরাষ্ট্র বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে এবং ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’

তিনি বলেন, অন্য রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের প্রজ্ঞাপন জারি করানোর বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে, যাতে বিক্ষোভকারীরা আইনি ঝামেলায় না পড়েন। আমরা একসঙ্গে বসে আলোচনা করেছি যে আর কোন কোন রাজ্য সরকার এ ধরনের প্রজ্ঞাপন দিতে পারে, যাতে বিক্ষোভকারীদের কোনো ক্ষতি না হয়।

তার দাবি, সরকার আশ্বাস দিয়েছে যে মঙ্গলবারের মধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে এবং বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবেন। ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, সব বিক্ষোভকারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দলটি কাজ চালিয়ে যাবে। নিজ নিজ শহরে আন্দোলনে অংশ নেয়া একজন বিক্ষোভকারীও যেন কোনো আইনি হয়রানির শিকার না হন, আমরা তা নিশ্চিত করব। প্রথম দিন থেকেই আমরা তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

শিশুদের আগামী দিনের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
শিশুদের আগামী দিনের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

শিশুদের আগামী দিনের উপযোগী হয়ে গড়ে ওঠার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৫-২৬ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে বালিকাদের ফুটবল ফাইনাল খেলা দেখেন মাঠে বসে।

এ সময় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, মীর হেলাল, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খান উপস্থিত ছিলেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বক্তব্য রাখেন।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা যদি আগামী দিনে নিজেদের গড়ে তুলতে পারো সঠিকভাবে, তাহলেই আমরা বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে গড়ে তুলতে পারবো। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই যে গ্যালারিতে হাজার হাজার ছোট বন্ধুরা তোমরা বসে আছো, তোমাদের মধ্যে থেকেই এই দেশের একজন ভালো ডাক্তার বের হবে, তোমাদের ভেতর থেকে এই দেশের একজন ভালো আর্কিটেক্ট বের হবে, একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার বের হবে, একজন ভালো ক্রিকেটার বের হবে, ভালো সুইমার বের হবে, ভালো টেনিস প্লেয়ার বের হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, আমাদের বাংলাদেশ অনেক সমস্যায় আছেÑ আমরা সেটি অস্বীকার করছি না। কিন্তু এই সমস্যার পাশাপাশি আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, বাংলাদেশকে আমরা কোথায় নিয়ে যেতে পারবো? আমরা জানি তোমাদের যে স্কুল- কলেজগুলো আছে, অনেক স্কুল হয়তো তোমাদের সঠিকভাবে ব্যবস্থা নেই। অনেক স্কুলে হয়তো ফ্যান নেই। আমরা কাজ করছি। তোমাদের স্কুলগুলো যাতে ধীরে ধীরে আমরা গড়ে তুলতে পারি। কিন্তু আজকে এই নতুন করে স্পোর্টস ইভেন্টে তোমাদের কাছ থেকে আমি একটি কথা নিতে চাই। আমরা এই দেশকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার কাজ করছি। এই কাজটি আমরা তখনই করতে পারবো। যখন এই যে, তোমরা যারা গ্যালারিতে বসে আছো, আমার হাতের বাম পাশে তোমরা যারা খেলোয়াড়রা বসে আছো, যারা পুরস্কার পেয়েছোÑ তোমরা যদি নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারো তাহলে আমরা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারবো।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে কে কে কাজ করবে? এমন প্রশ্ন রেখে গ্যালারিতে বসে থাকা কিশোর-কিশোরীদের জবাব জানতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সঙ্গে আছো তোমরা? কারা বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাও, হাত তুলো। এই সময়ে পুরো গ্যালারির হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী একসঙ্গে হাত উঁচু করলে প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়ার সময়ে মন দিয়ে পড়তে হবে। কিন্তু খেলার সময় একইভাবে মন দিয়ে খেলতে হবে। ছোট ছোট বন্ধুরা আছো, তোমাদের সকলের কাছে আমি একটি সহযোগিতা চাই। একটি সাহায্য চাই। সেটি কি সাহায্য? এই দেশটা আমাদের সকলের দেশ, এই দেশের আলো, এই দেশের বাতাস, এই দেশের পরিবেশ আমরা সকলে মিলে যদি ঠিক রাখি তাহলে আমরা একটি সুন্দর পরিবেশে থাকতে পারবো। তুমি সুন্দর পরিবেশে বড় হতে পারবে, তুমি সুন্দর পড়ালেখা করতে পারবে।