খুঁজুন
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০ মাঘ, ১৪৩২

নাজিরপুরে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ডিমের দামেও নেই স্বস্তি

পিরোজপুর প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
নাজিরপুরে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ডিমের দামেও নেই স্বস্তি

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় লেয়ার মুরগির খামার একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গড়ে উঠেছে। তবে সম্প্রতি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় লোকসানের মুখে খামারিরা। অনেক ছোট ও মাঝারি খামারিকে পড়তে হচ্ছে আর্থিক সংকটে। কেউ কেউ খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাজিরপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন বিশেষ করে মালিখালী, দেউলবাড়ী ও কলারদোয়ানিয়া এলাকায় অসংখ্য ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তুলেছিলেন। শুরুর দিকে খরচ কম ও ডিমের ভালো দাম থাকায় অনেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন স্বনির্ভরতার। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ডিমের দাম অস্থির হলেও খামারিদের প্রাপ্ত দাম ন্যূনতম পর্যায়েই রয়ে গেছে। এ ছাড়া মুরগির খাদ্যের দাম বেড়েই চলেছে।

ফলে খরচ বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি। আবু নাঈম নামের এক খামারি জানান, একটা মুরগি দিনে একটা করে ডিম দেয়। এখন প্রতি পিস ডিম পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯.৩০ থেকে ৯.৫০ টাকায়। অথচ শুধু খাবার খরচই উঠে যায় ১০ টাকা বা তার বেশি।

ওষুধ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিকের মজুরি তো আছেই। খামারিদের অভিযোগ, খামার থেকে ডিম সংগ্রহ করে পাইকাররা অল্প দামে নিয়ে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন। ফলে মূল উৎপাদকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

নাজিরপুর সদর এলাকার এক খামারি বলেন, বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১-১২ টাকা, অথচ আমাদের কাছ থেকে ৯.৩০ থেকে ৯. ৫০টাকায় নেন। এত ব্যবধান কিভাবে হয়? ডিম বিক্রির ব্যবধানের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশির ভাগ খামারি দাদনে এ ব্যবসাটি করে থাকেন।

খামারিরা মুরগির বাচ্চা ও খাবার দেয় একটি শর্তে। মুরগির এবং ডিম দেওয়া শেষ হলে মুরগি তার মাধ্যমে বিক্রি করা হবে। এখান থেকে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ নিয়ে যায় দোকানিরা। এ থেকে উত্তরনের পথ হিসেবে তার বলছেন, সরকারি সহায়তা বা ভর্তুকি পেলে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। বিশেষ করে খাদ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে এই খাতটি স্বচ্ছল থাকবে।

ব্যবসায়ীরা জানান, আমরা মাধ্যম হিসেবে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ডিম ও মুরগী বিক্রি করি। অনেক সময় ছোট খামারিদের পুঁজি থাকে না, সেক্ষেত্রে আমরা তাদের সাহয্য করে থাকি। এটাকে দাদন দেওয়া বলে না। দেশের সব জিনিসের দাম বেড়েছে, তাই খাদ্যের দামও বেশি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আল মুক্তাদির রাব্বি বলেন, মুরগির খাদ্যের প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে ভুট্টা। কিন্তু আমাদের দেশে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভুট্টার চাষ না হওয়ায় এটি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। শুধু ভুট্টা নয়, ফিড তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সয়াবিন মিল, ভিটামিনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও আমদানি নির্ভর, যা ফিড উৎপাদনের খরচ বাড়িয়ে তোলে। ফলে মুরগির খাদ্যের দাম সাধারণত বেশি হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে ফিডের দাম আরও বাড়ছে। তবে ফিডের দাম নির্ধারণে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কোনো ভূমিকা নেই। এসব সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

 

পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুরে একটি হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন জেলা দায়রা ও জজ আদালত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- স্বপন ওরফে সোহেল মোল্লা (২৮), কাদের মোল্লা (৩৫), আবদুর রশীদ মোল্লা (৭০), ইরানী বেগম (২৫), সুফিয়া বেগম (৪৫) ও পুন্না বেগম। রোজিনা বেগম নামে আরেকজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

অন্য আসামিদের মধ্যে আবদুর রব মোল্লা, মন্নাফ মোল্লা, ও মুনসুর মোল্লার আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের আঘাতে আবু আকনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আবদুর জব্বার বাদী হয়ে পিরোজপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আকন জানান, সোমবার পিরোজপুর বিজ্ঞ দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবর রহমান সেসন ৭/২০২০ মোকাদ্দমায় ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অপর আসামি রোজিনা বেগমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। অন্য ৩ আসামি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।

মামলাটি ছিল জমিজমা ও সুপারী পাড়াকে কেন্দ্র করে। এই মামলার ভিকটিম আবু আকন (৪২) মারাত্বক জখম প্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পিরোজপুর সদর হাসাপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটার ও প্রার্থীরা সবাই অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, এলাকায় পাতি নেতা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে ভোট কেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কঠোরভাবে এসব অপতৎপরতা দমন করতে না পারে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবলে ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর যৌথবাহিনী ও পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অপারেশনে যেতে দ্বিধায় রয়েছে। এর ফলে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা মামলার নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অপারেশনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না- এমন স্পষ্ট ও দৃঢ় নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে আসা জরুরি। তা না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না।

সবশেষে বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান এবি পার্টির এই প্রার্থী।

ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিতে না চাওয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর ওপর ক্ষেপেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোর আন্তর্জাতিক প্রভাব প্রায় শেষের পথে এবং খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। খবর সিএনবিসি’র

ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউই তাকে (ম্যাক্রো) চায় না, কারণ তিনি খুব শিগগিরই অফিস ছাড়ছেন। যদি তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে, তাহলে আমি তার দেশের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর বলেন, শুল্ক বসালে তখন নিজেই বোর্ডে (বোর্ড অব পিস) যোগ দেবে। না যোগ দিলেও সমস্যা নেই।

ফ্রান্সের আইন অনুয়ায়ী এমনিতেও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’ বলে আসলে কি বুঝিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত বোর্ড অব পিস গত বছরের নভেম্বরে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আছে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশ।

এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইউরোপের। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতারা থাকুক বা না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে। কারণ এটি ‘বিশ্ব নিরাপত্তার’ জন্য প্রয়োজন।

তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপের দেশগুলো।

ট্রাম্পের এসব কড়া হুমকির জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে ট্রাম্পের করা ক্ষমতাচ্যুতর কথায় জবাব দেননি ম্যাক্রো।