খুঁজুন
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩ মাঘ, ১৪৩২

দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

কলাপাড়া প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২২ অপরাহ্ণ
দূষণ-বন উজাড়ে বিপর্যস্ত কুয়াকাটা সৈকত, ঝুঁকিতে লাল কাঁকড়া

সমুদ্র সৈকতে লাল কাঁকড়া ছুটোছুটি আর রোদেলা দুপুরে সবুজ ঝাউবনের ছায়ায় বিশ্রামের জন্যই পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাকে বলা হয় ‘সাগর কন্যা’। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য যে কয়েকটি আকর্ষণীয় উপাদান রয়েছে, সেগুলোর একটি লাল কাঁকড়া। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে ক্রমাগত সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি, সৈকতের বনাঞ্চল ধ্বংস এবং মানুষের কর্মকাণ্ডে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে লাল কাঁকড়ার আবাসস্থল। ফলে হুমকিতে পড়েছে লাল কাঁকড়া, ক্রমেই কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা।

সৈকতের সবুজ বেষ্টনী এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি সংশ্লিষ্টদের। সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বদিকে গঙ্গামতি এবং কাউয়ারচর সমুদ্র সৈকতটি এখনো নিরাপদ পর্যটক বিচরণক্ষেত্র। সমুদ্রের ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগ ফেলায় পর্যটকদের বিচরণে যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছিল সেটি আর নেই। কাউয়ার চরের লাল কাঁকড়ার বিচরণ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন অনেক পর্যটক।

এতে ধ্বংস হচ্ছে কাঁকড়ার বিচরণক্ষেত্র, মোটরসাইকেলের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা পড়ছে লাল কাঁকড়া। এছাড়া কাঁকড়া ধরে ছবি তোলার কারণেও তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় জেলে ইব্রাহীম বলেন, আগে এই যায়গায় অসংখ্য লাল কাঁকড়া থাকতো। এখন মানুষের হিংস্রতায় কাঁকড়ার সংখ্যা কমে গেছে।

কিছু দূরে ঝাউ বনের ভেতর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাসী। আবার কেউ কেউ সমুদ্রের ভাঙ্গনে উপড়ে পড়া গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা একটি চক্র দিনে ও রাতে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে উজাড় হচ্ছে বন আর আবাসস্থল হারাচ্ছে লাল কাঁকড়ার দল। লাল কাঁকড়া সংরক্ষণের জন্য সৈকতের পশ্চিম প্রান্তের লেম্পুর বন এলাকায় গত সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) বন বিভাগ মহিপুর রেঞ্জের সহযোগিতায় গাছের ডালপালা দিয়ে কাঁকড়ার আশ্রয়স্থল তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।

এ সময় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, লাল কাঁকড়া রক্ষায় আমরা নিজ উদ্যোগে সীমিত আকারে কাজ করছি। সমুদ্রের ভাঙনে বন এবং লাল কাঁকড়া বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে লেম্পুবনে যানবাহন চলাচল রোধে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। লাল কাঁকড়া রক্ষায় সরকারি এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সহযোগিতা আর সচেতনতা জরুরি।

তিনি আরো বলেন, সরকারী গাছ কাটা বা বিনষ্টকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। নতুন করে ঝাউবন সৃষ্টির চেষ্টা করছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড় জলোচ্ছ্বাস থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সবুজ দেয়াল তৈরিতে সকলের সহযোগিতায় কাজ করছি।

উপকূল পরিবেশ আন্দোলন কুয়াকাটা (উপরা) সভাপতি কে এম বাচ্চু বলেন, “২০২১ সালে আমরা প্রথম লাল কাঁকড়া ও কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য আলাদা অঞ্চল ঘোষণার দাবি জানাই। তখন এগিয়ে আসে ওয়ার্ল্ডফিস বাংলাদেশ। সাময়িকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা টেকসই হয়নি। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছর উপড়ে পড়ছে জাতীয় উদ্যানের গাছ। অতিরিক্ত লবনাক্ততায় বনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মরে যাচ্ছে। ভেঙ্গে যাচ্ছে চলাচলের রাস্তা। বালুক্ষয় থেকে রাস্তা রক্ষায় কোটি কোটি টাকা ব্যয় করলেও লাল কাঁকড়া ও পরিবেশ রক্ষাকারী এবং সবুজ দেয়াল খ্যাত গাছ রক্ষায় এখনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সরকার। লেম্পুর বন এলাকার চার কিলোমিটার বনাঞ্চল এবং কাউয়ারচরের ৮ কিলোমিটার এলাকার বনাঞ্চল ও লাল কাঁকড়া বিচরণস্থল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরো ভয়াবহ হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, লাল কাঁকড়া আমাদের উপকূলীয় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী। এরা সৈকতের মাটি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে। আবাসভূমি ধ্বংস হলে পুরো বাস্তুসংস্থানের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বন উজাড় ও সৈকতের প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে লাল কাঁকড়ার প্রজনন ব্যাহত করছে। বন ও কাঁকড়া রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের গবেষণা সহকারী মো: বখতিয়ার রহমান বলেন, ২০২১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইউএসএআইডির অর্থায়নে ওয়ার্ল্ডফিশ-এর ইকোফিশ-২ প্রকল্প কুয়াকাটা সৈকতের দুই প্রান্তে বেড়া দিয়েছিলো যাতে লাল কাঁকড়া নির্বিঘ্নে চলাচল ও প্রজনন করতে পারে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে বেড়ার ভেতরে কাঁকড়ার সংখ্যা বাহিরের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি। পাশাপাশি যেখানে মানুষের উপস্থিতি কম, সেখানে কাঁকড়ার আকার বড়, রঙ উজ্জ্বল এবং সংখ্যাও বেশি থাকে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।

তিনি আরো বলেন, লাল কাঁকড়া মাটি খুঁড়ে এবং মৃত উদ্ভিদ-পাতা খেয়ে মাটিকে পুষ্টিকর ও বায়ু নিয়ন্ত্রিত রাখে। এতে মাটি উর্বর হয়, পানির শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়; নতুন গাছ জন্মায়। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়, যা পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, সৈকত ও উপকূল রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের উন্নয়নে সহায়ক।

এ বিষয়ে ওয়েব ফাউন্ডেশন কলাপাড়ার ‘জলবায়ু সু-শাসন ও শক্তিকরণ প্রকল্প’ কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিস্তার শুরু করেছে অনেক আগ থেকেই। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বাড়ায় উপকূলীয় অঞ্চল বা সমুদ্র সৈকতে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এর ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাল কাঁকড়া বাসস্থান ও প্রজনন স্থান হারাচ্ছে। ফলে কমে যাচ্ছে কাঁকড়ার সংখ্যা। পাশাপাশি মাটির লবণাক্ততা এবং উপযোগী পানি স্বল্পতায় লাল কাঁকড়ার জীবন চক্র হুমকিতে পড়েছে।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় নিহত ৩

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায়  নিহত ৩

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ দিকে দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েন দক্ষিণ অঞ্চলের বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার যাত্রীরা।

মাদারীপুরের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন আল রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রাজৈরের টেকেরহাট থেকে একটি কাভার্ডভ্যান বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সদর উপজেলার তাঁতিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে অপর দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানকে সামনে থেকে চাপা দেয় ওই কাভার্ডভ্যানটি। এতে ঘটনাস্থলেই নারীসহ দুই ভ্যানযাত্রী নিহত হন। আহত হন দুজন। আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শহর শয্যা জেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে মারা যান এক নারী।

বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক তিনটি আবেদন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এদিকে চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ায় স্থিতাবস্থা চেয়ে আদালতে আবেদন দিয়েছে রিট আবেদনকারীপক্ষ। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

পক্ষভুক্ত হতে যাঁরা আবেদন দিয়েছেন তাঁরা হলেন বার্থ অপারেটর এভারেস্ট পোর্ট সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক জিয়াউল হক ও শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিন।

এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে করা রিটের ওপর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বিভক্ত রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

২০১৫ সালের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) আইন ও ২০১৭ সালের জিটুজির নির্দেশিকা লঙ্ঘন করে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব। এর সঙ্গে একমত নন উল্লেখ করে বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট আবেদন (রুল ডিসচার্জ) খারিজ করে রায় দেন।

এ অবস্থায় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি একক বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চে রিটটি নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রিটটি আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত বলেন, অবকাশ শেষে রিটটি শুনবেন। অবকাশ শেষে ৪ জানুয়ারি নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শুরু হয়।

আজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী হেলাল চৌধুরী শুনানিতে অংশ নেন। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। শাহাদাত হোসেন সেলিমের পক্ষে আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ কে এম ফয়েজ এবং শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের পক্ষে আইনজীবী সাকিব মাহবুব শুনানিতে ছিলেন।

‘হাইকোর্টের দ্বিধাবিভক্ত রায় সত্ত্বেও এনসিটির চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে’ শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে স্থিতাবস্থা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিট আবেদনকারীর আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিভক্ত রায়ের পর রুলের ওপর বিষয়বস্তুতে ৪ ও ৮ জানুয়ারি এবং আজ শুনানি হয়। তৃতীয় বেঞ্চে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাই চলমান প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা চেয়ে আজ আবেদনটি দাখিল করা হয়, যা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া পৃথক ব্যক্তি–সংগঠনের পক্ষে রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে তিনটি আবেদন দাখিল করা হয়েছে, যা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শ্রমিকনেতা তসলিম উদ্দিনের আইনজীবী সাকিব মাহবুব প্রথম আলোকে বলেন, রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন দাখিল করা হয়েছে। আবেদনটি নথিতে রেখেছেন আদালত। পক্ষভুক্ত হতে করা আবেদনকারীদের বক্তব্য শুনবেন বলেছেন আদালত। সে জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন। রিট সমর্থন করে শুনানিতে অংশ নেবেন বলেন জানান এই আইনজীবী।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই কোম্পানির সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি–সম্পর্কিত চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন গত বছর ওই রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ৩০ জুলাই হাইকোর্ট রুল দেন। রুলের ওপর শুনানি শেষে গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে বিভক্ত রায় হয়।

চালু এই টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির আওতায় জিটুজি ভিত্তিতে টার্মিনালটি ছেড়ে দেওয়ার এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ নিয়ে রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন।

২০০৭ সালে বন্দর এই টার্মিনাল নির্মাণ করে। টার্মিনালটি নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি সংযোজনে বন্দর কর্তৃপক্ষ ধাপে ধাপে মোট ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার আগপর্যন্ত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেডের এই টার্মিনাল পরিচালনা করার কথা রয়েছে।

ইরানের অস্থিরতা কতটা বদলে দেবে বিশ্ব রাজনীতির চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
ইরানের অস্থিরতা কতটা বদলে দেবে বিশ্ব রাজনীতির চিত্র

ইরানে চলমান গণবিক্ষোভ এখন এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটিয়ে বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারের মানচিত্র বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে ৯ কোটি মানুষের দেশটিতে রাজধানী তেহরানসহ কয়েক ডজন শহরে কয়েক লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়ন ও শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা দমে না গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনের অবসান চাইছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনে দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বিশ্বনেতা ও বিনিয়োগকারীরা এখন উদ্বেগের সঙ্গে তেহরানের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। সিআইএ’র সাবেক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম উশার এই সময়টিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বিক্ষোভের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার মানের চরম অবনতি। মার্কিন ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৫০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। গ্রেফতার করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইন্টারনেট ও টেলিফোন নেটওয়ার্ক প্রায় বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এই অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইলন মাস্কের স্টারলিংক পরিষেবার মাধ্যমে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ চালুর বিষয়ে আলোচনার কথা জানিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই টালমাটাল অবস্থা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ এবং ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরোর পর ইরানকেও হারালে মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাব মারাত্মকভাবে খর্ব হবে।

অন্যদিকে জ্বালানি বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যেই ৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।