খুঁজুন
মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২

গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসছে অবৈধ ইলিশের হাট

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৫ অপরাহ্ণ
গলাচিপায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বসছে অবৈধ ইলিশের হাট

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার ভেতর নিয়ম করে বসছে অবৈধ ইলিশের হাট। এসব হাটে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে ইলিশ বিক্রি হয় না। জেলেদের নির্দিষ্ট দালাল ও ক্রেতার মধ্যেই চলছে এমন বেচাকেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে সাগর ও নদ-নদীতে মাছ শিকারের ওপর সরকারের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গলাচিপায় অন্তত ১০টি স্থানে বসছে ইলিশের হাট।

চরকাজলের সাইদুল মিয়া বলেন, ‘চরকাজলের নোমোর স্লুইসগেট এলাকায় প্রতিদিনই ইলিশ মাছ ধরা হয়। নির্ধারিত দালালের কাছে ফোনে অর্ডার করলেই বাড়ি পৌঁছে যায় ইলিশ মাছ। তবে অপরিচিত কারো কাছে মাছ বিক্রি করা হয় না।’ সরেজমিনে পানপট্টি লঞ্চঘাট ও বন্যাতলী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা নদীতে জাল ফেলে মাছ শিকার করছেন।

প্রশাসনের ট্রলার দেখলেই তারা নিমেষেই বন বিভাগের বনের ভেতর লুকিয়ে পড়েন। ফলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া চরবাংলা, নোমোর স্লুইসগেট, চরকাজল লঞ্চঘাট, চরআগস্তিসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযানের সময় জেলেরা প্রশাসনের ট্রলারকে উল্টো ধাওয়া দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গলাচিপা উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর থেকে থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেড় লাখ মিটার ইলিশ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়।

এসব জালের বাজার মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ইলিশ শিকারের অভিযোগে তিনটি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ ও সাতজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

গলাচিপার পানপট্টি ইলিশ বিক্রেতা রিয়াদ হোসেন বলেন, পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার ইলিশের বাজার ও আড়ত গত ৪ তারিখ থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এখানে কোনো ইলিশ বিক্রি হয় না। এমনকি পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার কোনো জেলে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে জড়িত নেই।

তবে আশপাশের কেউ কেউ জড়িত থাকতে পারে। এদিকে গলাচিপার চরবিশ্বাস, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, চরবাংলা, চরকাজল, বদনাতলী, চরকারফারমাসহ বিভিন্ন স্থানে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমে। প্রভাবশালী এসব এজেন্টের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ কথা বলার সাহস পায় না। এমনকি যেখানে অবৈধভাবে ইলিশ মাছ বিক্রি করা হয়, সেখানে কেউ মোবাইল নিয়েও যেতে পারে না।

পানপট্টি এলাকার ইলিশ জেলে ইউসুফ বলেন, ‘চলমান অবরোধ যদি আরো ১৫ দিন পর শুরু হতো, তাহলে হয়তো এ অবরোধ কার্যকর হতো।’ তিনি বলেন, ‘সাগরে যারা মাছ ধরেন, তারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারে যান না। স্থানীয় ছোট জেলেরা বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তার করে মাছ ধরেন।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘অধিকাংশ জেলে আইন ভঙ্গ করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে নদীতে নামছে। প্রশাসনের একাধিক টিম অভিযান চালিয়েও তাদের নিবৃত্ত করতে পারছে না।’

জহিরুন্নবী বলেন, ‘ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চলমান। এসময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন ও মজুদ নিষিদ্ধ। আমরা প্রতিদিনই অভিযান চালাচ্ছি। তবে লোকবল ও যান সংকটের কারণে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

 

৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
৮ দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে

ডিসেম্বর মাসের প্রথম আট দিনেই ১ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত দেখা দিয়েছে। এ জন্য দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে ১৩টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ২০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে মূলত প্রবাসী ও রপ্তানি আয়ের ধারাকে সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ মঙ্গলবার এই ডলার কেনা হয়।

এ সময় প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ২৭ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২৯ পয়সা পর্যন্ত। কাট-অফ রেট ১২২ টাকা ২৯ পয়সা, যা মাল্টিপল প্রাইস নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

জানা যায়, চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরে এ পর্যন্ত নিলাম পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ২৫১ কোটি ৪০ লাখ (২ দশমিক ৫১ বিলিয়ন ডলার) ডলার কিনেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ জুলাই থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি মাসের ১ থেকে ৮ ডিসেম্বর সময়ে দেশে ১০০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ৮ ডিসেম্বর এসেছে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ শতাংশ।

পাশাপাশি গত জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ১৯৬ কোটি ডলার। ফলে এই সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৭ শতাংশ।

তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
তফসিলের পর অনুমতি ছাড়া সমাবেশ–আন্দোলন করলে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন সমাবেশ, আন্দোলন করা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

এ বিষয়ে সতর্ক করে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন আন্দোলন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। যারা বেআইনিভাবে সভা-সমাবেশে অংশ নেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

 

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর হয়- এটিই বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য। একটি সুন্দর নির্বাচন আয়োজনের জন্য যা যা করণীয় সরকার সেই দিকেই মনোনিবেশ করছে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করবে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় নয় লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবে, যা এ যাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদনহীন সভা–সমাবেশ ও আন্দোলন নিয়ে সতর্ক করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, অনেকেরই নায্য দাবি-দাওয়া রয়েছে। গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন-বিক্ষোভ সংঘটিত করে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীরা দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছেন। সরকার নায্য দাবিতে সব সময়ই সাড়া দিয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করেছে।

‘কিন্তু আমরা এখন নির্বাচনমুখী সময়ে আছি। এ কারণে সকলের যা কিছু দাবি-দাওয়া আছে তা নির্বাচন পরবর্তী সরকারের কাছে উপস্থাপনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হচ্ছে। আমরা আশা করব, এ সময়ের মধ্যে কেউ দাবি-দাওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন করবেন না।’

চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
চলতি সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল: সিইসি

ত্রয়োদশ ‎জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহে হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন। আজ মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কখন ঘোষণা করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘এই সপ্তাহে তফসিল হয়ে যাবে।’

দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির দপ্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সিইসি। সাক্ষাৎ শেষে প্রধান বিচারপতির দপ্তর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে সিইসি সুপ্রিম কোর্টে এলে তাঁকে স্বাগত জানান সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ওনার (প্রধান বিচারপতি) সাথে কথা হয়েছে। উনি অবসরে চলে যাচ্ছেন। একটা ফেয়ারওয়েল কল (বিদায়ী সাক্ষাৎ) করতে এসেছি ওনার সাথে।…উনি এ মাসে অবসরে যাবেন। আমরা একসাথে কাজ করেছি। সে জন্য ওনার সাথে একটা ফেয়ারওয়েল কলের মতো, সৌজন্য সাক্ষাৎ আছে না একটা, ফেয়ারওয়েল কল করতে এসেছিলাম ওনার সঙ্গে। অন্য কোনো বিষয় নয়।’

এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, ‘ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি’ (নির্বাচনী তদন্ত কমিটি) যাতে ওনারা ডিপ্লয় করবেন, আমাদের তফসিল ঘোষণার সাথে সাথে। এই কাজটা যাতে উনি ত্বরান্বিত করেন, সে বিষয়ে ওনাকে অনুরোধ জানিয়েছি।’

প্রধান বিচারপতি কী আশ্বাস দিয়েছেন—এমন প্রশ্নে সিইসি বলেন, ‘উনি (প্রধান বিচারপতি) জাস্ট, ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটির যে লোকজন দেওয়ার কথা আছে, ডেপ্লয়মেন্ট আছে, সে ব্যাপারে ওনারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং নেবেন, কোনো অসুবিধা হবে না বলে অ্যাসিউর (আশ্বস্ত) করেছেন।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, মামলা নিয়ে কোনো কথা হয়নি।