খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বন্ডে সই ছেলের, ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু

বরগুনা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বন্ডে সই ছেলের, ডেঙ্গুতে মায়ের মৃত্যু

বরগুনায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়।

ওই নারীর নাম আলেয়া বেগম (৬০)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ৪ নম্বর কেওরাবুনীয়া ইউনিয়নের লতাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম (মৃত) নূর মোহাম্মদ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আলেয়া জ্বরে আক্রান্ত হলে গত ৪ আগস্ট সোমবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার স্বজনরা। পরে হাসপাতালের পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন তিনি। এরপর চিকিৎসারত অবস্থায় আলেয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্তে প্লাটিলেট কমে যায়।

পরে দায়িত্বরত চিকিৎসক গতকাল ৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) আলেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তবে তাকে বরিশাল না নিয়ে বন্ডে স্বাক্ষর করে বরগুনা হাসপাতালেই ভর্তি রাখেন ছেলে সরোয়ার। এরপর আবারও আলেয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

আলেয়ার ছোট মেয়ে রুবিনা বলেন, জ্বর হওয়ার পর মাকে নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তবে তার তেমন কোনো সমস্যা দেখিনি। সকালে হঠাৎ শ্বাস কষ্ট বেড়ে গেলে অক্সিজেন লাগানোর ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমার মা মারা যান।

আলেয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হলেও কেন নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্তও তার শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল। আজ সকালেও তিনি খাবার খেয়েছেন। ডাক্তার তাকে রেফার্ড করলেও তার সঙ্গে কে যাবে? আমার ভাই একা মানুষ, তাই এখানেই ভর্তি রাখা হয়।

আলেয়ার পুত্রবধূ সাথী আক্তার বলেন, আমার শাশুড়ি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গত সোমবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাই। সবশেষ পরীক্ষা দেখে গতকাল হাসপাতাল থেকে নাম কেটে তাকে বরিশালে রেফার্ড করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালের বন্ডে সই করে এখানেই তাকে পুনরায় ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স হাওয়া বলেন, আলেয়া বেগমের হঠাৎ করেই শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। আমরা দ্রুতই তাকে ইনজেকশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করি। তবে কিছুক্ষণ পর তার কোনো রেসপন্স না পেয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, বরগুনায় ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করলেও গত একমাস ধরে কমতে শুরু করেছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেলে হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। বর্তমানে এ হাসপাতালে মোট ডেঙ্গুতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত বরগুনার বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ২২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এ বছর চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে জেলায় মৃত্যু হয়েছে আরও অন্তত ৩৩ জনের। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে ৫ হাজার ১১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন।

‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
‘নির্বাচনে অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, প্রশাসনের একপাক্ষিক আচরণের যে অভিযোগ প্রার্থীরা করছেন তা রাজনৈতিক, তারা ভোটার টানতে এমন বক্তব্য দিচ্ছেন।

 

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আয়োজিত বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা মিটিং শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। যার যার বক্তব্য সে সে দেবে। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবে।

এ সময় তিনি নির্বাচনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ১ লাখ সেনাবাহিনী, দেড়লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি ১০ হাজার র‌্যাব, ৫ হাজার কোস্টগার্ড ও প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে, অপরাধ করে কেউ পাড় পাবে না। সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া, সুরক্ষা অ্যাপের সহায়তায় এর আগে পূজা শান্তিপূর্ণ হয়েছে, ইলেকশনও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় পুলিশের আইজি বাহারুল আলম, কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানসহ বিভাগের ছয় জেলার সরকারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে অসংখ্য অপতথ্য মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনের কঠোর প্রয়োগ হওয়া দরকার। মিথ্যা খবর প্রচারের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে আইনি ব্যবস্থার সুযোগ থাকা উচিত।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা ইনটারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রেস সচিব জানান, নানামুখী অপতথ্য মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা সীমিত। তবুও অন্তর্বর্তী সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। বিভিন্নজন নামে-বেনামে ইউটিউব চ্যানেল খুলেও মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।

ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

রাসেল হোসেন:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
ঝালকাঠির দু’টি আসনেই ধানের শীষের আধিপত্য, প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে

বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝালকাঠির দুইটি আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীরা এগিয়ে থাকছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লা ও হাতপাখার সাথে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ উভয় আসন বিএনপির ভোটব্যাংক বলে পরিচিত। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকায় আর জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন জোট ভেঙ্গে যাওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বিএনপির প্রার্থীরা।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের জোট থাকলে বিএনপির প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তেন। ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামালের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী ড.ফয়জুল হক ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদির ।

এছাড়া এ আসনে মোরগ মার্কায় স্বতন্ত্র প্রার্থি মো. সাব্বির আহমেদ, তারা মার্কায় জেএসডির মোঃ সোহরাব হোসেন, কলম প্রতীকে জনতার দলের মোঃ জসিম উদ্দিন তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মোঃ কামরুজ্জামান খান, হাস প্রতীকে স্বতন্ত্রে এম মঈন আলম ফিরোজী, গণ অধিকার পরিষদের মোঃ শাহাদাত হোসেন প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি জেপি থেকে মোঃ রুবেল হাওলাদার বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে প্রতিদ্বন্দিতা হবে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লায় প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখায় প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীর সাথে। এছাড়া এ আসনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ফোরকান হোসেন আম, জেএসডির মাসুদ পারভেজ তারা, গণঅধিকার পরিষদের মাহমুদুল ইসলাম সাগর ট্রাক এবং স্বতন্ত্র থেকে মোঃ নুরউদ্দিন সরদার কলস ও সৈয়দ রাজ্জাক আলী মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীদের বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “আগের মত অবস্থা নেই।

নতুন বাংলাদেশে মানুষ নতুন করে ভাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। এবার আমরা দুটি আসনেই জয়ী হব বলে আশা রাখছি।” ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, “ঝালকাঠি বিএনপির দুর্গ। এখানে ধানের শীষের জোয়ার বইছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে কে সাধারন মানুষ ভোট দিবে না। ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে ইংশা আল্লাহ।”