খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮ মাঘ, ১৪৩২

ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে

ভোলা প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, দুশ্চিন্তায় ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে

মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় শুরু হয়েছে ২২ দিনের মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে। ফলে এনজিওর কিস্তি পরিশোধ ও সংসার চালানো নিয়ে তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ভোলা জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৭টি উপজেলা- ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরায় সরকারি ভাবে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৮ জন জেলের জন্য ২৫ কেজি করে মোট ৩ হাজার ৫৮৫ দশমিক ৯৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বরাদ্দ না থাকায় ২৬ হাজার ৮৪৫ জন নিবন্ধিত জেলে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।

সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া তুলাতুলি, ভোলার খাল, নাছির মাঝি ও দৌলতখানের মেদুয়া এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা মেনে শতভাগ জেলে ও ট্রলার মালিকেরা তাদের জাল ও ট্রলার তীরে তুলে রেখেছেন। এছাড়া বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক জেলে আগেই ট্রলার নিয়ে ফিরে এসে সরঞ্জামাদি পরিষ্কার করছেন। গত কয়েক মাস নদীতে ইলিশ কম থাকলেও সম্প্রতি কিছুটা ইলিশ ধরা পড়ছিল। এসময়েই মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আসায় হতাশ জেলেরা।

ভোলা সদরের জেলে মো. সিরাজ মাঝি, আলাউদ্দিন ও ইলিয়াস মাঝি বলেন, ঋণের টাকায় জাল-ট্রলার বানিয়েছি। প্রতিটি ট্রলারে ৫-১০ জন জেলে কাজ করে, যাদের পরিবার রয়েছে। এবার ভরা মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাইনি। সম্প্রতি জালে কিছু মাছ পড়তে শুরু করেছিল, তখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো। তবে সরকারের নির্দেশ মানতে জাল-ট্রলার তীরে উঠিয়ে রেখেছি। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে আবার নদীতে নামব।

জেলে মো. হাসান, খোরশেদ ও বশির বলেন, আমরা চাই অভিযান সফল হোক, তাই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি। কিন্তু এসময় আমাদের আয় বন্ধ থাকে। প্রতিবছর সরকারের কাছে দাবি জানাই- এই সময় যেন এনজিও কিস্তি বন্ধ থাকে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয় না। কিস্তির লোকজন এসে চাপ দেয়। বাধ্য হয়ে অনেকে নদীতে চলে যায় মাছ ধরতে। এবারও আমরা দাবি জানাচ্ছি, যেন কিস্তি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা হয় এবং প্রথম সপ্তাহেই বরাদ্দ চাল বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ভোলা জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. এরশাদ বলেন, এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেলেও, জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মানতে প্রস্তুত। প্রতিটি ঘাটে গিয়ে আমরা জেলেদের জানিয়েছি, মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে হবে। সরকার ২৫ কেজি করে চাল দিচ্ছে, যা খুবই অপ্রতুল। এই বরাদ্দ বাড়ানো এবং শুরুতেই চাল বিতরণের দাবি জানাচ্ছি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাস্কফোর্স কমিটির মিটিং হয়েছে, প্রচারণাও চলছে। অভিযান পরিচালনার জন্য টিম প্রস্তুত। বরাদ্দ পাওয়া চাল দ্রুত বিতরণ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, টাস্কফোর্স কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন এনজিও কিস্তি স্থগিত থাকবে। এ বিষয়ে এনজিওগুলোকে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হওয়া ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা চলবে ২৫ অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত। এসময় ইলিশ ধরা, পরিবহন, মজুদ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ। চলতি অর্থবছরে ভোলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

 

 

 

পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
পিরোজপুরে হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

পিরোজপুরে একটি হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন জেলা দায়রা ও জজ আদালত। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর বিজ্ঞ জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবুর রহমান এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- স্বপন ওরফে সোহেল মোল্লা (২৮), কাদের মোল্লা (৩৫), আবদুর রশীদ মোল্লা (৭০), ইরানী বেগম (২৫), সুফিয়া বেগম (৪৫) ও পুন্না বেগম। রোজিনা বেগম নামে আরেকজনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।

অন্য আসামিদের মধ্যে আবদুর রব মোল্লা, মন্নাফ মোল্লা, ও মুনসুর মোল্লার আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের আঘাতে আবু আকনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আবদুর জব্বার বাদী হয়ে পিরোজপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবুল কালাম আকন জানান, সোমবার পিরোজপুর বিজ্ঞ দায়রা ও জেলা জজ আদালতের বিচারক মুজিবর রহমান সেসন ৭/২০২০ মোকাদ্দমায় ৬ জন আসামিকে যাবজ্জীবন দিয়েছেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। অপর আসামি রোজিনা বেগমকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন। অন্য ৩ আসামি আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান।

মামলাটি ছিল জমিজমা ও সুপারী পাড়াকে কেন্দ্র করে। এই মামলার ভিকটিম আবু আকন (৪২) মারাত্বক জখম প্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় পিরোজপুর সদর হাসাপাতালে ভর্তি হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবি পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটার ও প্রার্থীরা সবাই অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, এলাকায় পাতি নেতা ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা প্রকাশ্যে ভোট কেন্দ্র দখলের হুমকি দিচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি কঠোরভাবে এসব অপতৎপরতা দমন করতে না পারে, তাহলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবলে ভাটার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গায় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর যৌথবাহিনী ও পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর অপারেশনে যেতে দ্বিধায় রয়েছে। এর ফলে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতনামা মামলার নামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচন-পূর্ব পরিবেশ ক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অপারেশনে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না- এমন স্পষ্ট ও দৃঢ় নিশ্চয়তা অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষ থেকে আসা জরুরি। তা না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা যাবে না।

সবশেষে বরিশাল-৩ আসনের নির্বাচনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান এবি পার্টির এই প্রার্থী।

ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ম্যাক্রোকে ‘ক্ষমতাচ্যুত’ করার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজায় প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদে যোগ দিতে না চাওয়ায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর ওপর ক্ষেপেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি প্রেসিডেন্টকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে দেশটির ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ম্যাক্রোর আন্তর্জাতিক প্রভাব প্রায় শেষের পথে এবং খুব শিগগিরই তিনি ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। খবর সিএনবিসি’র

ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউই তাকে (ম্যাক্রো) চায় না, কারণ তিনি খুব শিগগিরই অফিস ছাড়ছেন। যদি তারা শত্রুতামূলক আচরণ করে, তাহলে আমি তার দেশের ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট এরপর বলেন, শুল্ক বসালে তখন নিজেই বোর্ডে (বোর্ড অব পিস) যোগ দেবে। না যোগ দিলেও সমস্যা নেই।

ফ্রান্সের আইন অনুয়ায়ী এমনিতেও প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের মে মাসে। তবে ট্রাম্প ‘ক্ষমতাচ্যুত’ বলে আসলে কি বুঝিয়েছেন, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত বোর্ড অব পিস গত বছরের নভেম্বরে গঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা। এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আছে ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশ।

এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ইউরোপের। গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইউরোপীয় নেতারা থাকুক বা না থাকুক, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেবে। কারণ এটি ‘বিশ্ব নিরাপত্তার’ জন্য প্রয়োজন।

তিনি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পাওয়া পর্যন্ত যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানান। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপের দেশগুলো।

ট্রাম্পের এসব কড়া হুমকির জবাবে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। তবে ট্রাম্পের করা ক্ষমতাচ্যুতর কথায় জবাব দেননি ম্যাক্রো।